শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

Coder Boss
  • Update Time : বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩
  • ৬২ Time View

দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। কর্মসূচি পালন ও দলীয় নির্দেশনা অমান্যকারী নেতাকর্মীদের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে দলীয় ফোরামে। সর্বশেষ ২৯শে জুলাই ঢাকার ৫ প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচির দিন নেতাদের অবস্থান মূল্যায়ন করে তাদের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। এদিন কয়েকজন নেতার অবস্থান ছিল একেবারে বিতর্কিত। কারও কারও অবস্থানকে একেবারেই গ্রহণযোগ্য মনে করছে না দলীয় ফোরাম। এমন অবস্থায় তাদের কেউ কেউ দলীয় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। ওই দিনের ভূমিকা মূল্যায়ন করেই ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, ২৯শে জুলাইয়ের কর্মসূচিতে নেতাদের কার কী ভূমিকা রেখেছেন তার একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন নেতার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন করে দেয়া হতে পারে বলে দলীয় ফোরামে আলোচনা রয়েছে।

২৯শে জুলাই ঢাকার ৫টি স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান করার কথা থাকলেও সমন্বয়হীনতার কারণে কর্মসূচিতে ছেদ পড়ে বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

 

এ ছাড়া দলের শীর্ষপদে থেকেও কয়েকজন নেতা দায়িত্ব অবহেলা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২৯শে জুলাইয়ের পর একদফার আন্দোলন কর্মসূচিতে অনেকটা বিরতি দেখা গেলেও এই সময়ে আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতাদের অবদান মূল্যায়ন করেছেন দলটির হাইকমান্ড। সেখানে দল ও দলের অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকার অবস্থান কর্মসূচিতে যারা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তাদের প্রশংসাও করেছে দলীয় হাইকমান্ড। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন রিপোর্ট রয়েছে। তার নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র জানায়, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির দিনে নির্ধারিত স্পটে যাননি স্থায়ী কমিটির ৩ জন সদস্য। তিনটি স্পটে তাদের প্রধান দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। স্পটে যাননি কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যানও। স্পটে যাননি বা গেলেও পরিস্থিতি দেখে ফিরে আসেন ৪ জন যুগ্ম মহাসচিব। ২ জন সাংগঠনিক সম্পাদক স্পটে ছিলেন না। একজন সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তরায় পুলিশ ধাওয়া দিলে সরে যান। পরে আর তাকে সেখানে দেখা যায়নি। গাবতলী স্পটের দায়িত্বে থাকা একজন নেতার সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও এসেছে মূল্যায়ন রিপোর্টে। ঢাকা জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের অনেকে ওইদিন সঠিক দায়িত্ব পালন করেননি। প্রশংসা করা হয়েছে ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায়ের ভূমিকার। মাতুয়াইল স্পটে নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতাদের থাকার কথা থাকলেও তাদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি বলে দলীয় মূল্যায়নে বলা হয়েছে।

এদিকে বাংলা কলেজ ছাত্রদল, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের ইউনিট কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সমন্বয় ও সঠিক নির্দেশনার অভাবে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বলে উল্লেখ করা হয়। মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান স্পটে থেকে সক্রিয় থাকলেও আরও জোরালো অবস্থান নিতে পারতেন বলে নেতারা মনে করছেন।

মাতুয়াইল স্পটে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা বিএনএস স্টোরের উল্টোদিকে রাস্তার পূর্বপাশে সকাল ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করার কথা থাকলেও নির্ধারিত স্পটে যাননি নেতাদের কেউ। এ ছাড়া ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে থাকায় কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটে। ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক তার নেতাকর্মীদের নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলেও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ওইদিন নয়াবাজারে বিএনপি অফিসের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্পট পরিবর্তন করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। সেখানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে লাঞ্ছিত ও রক্তাক্ত করা হলেও স্পটে দেখা যায়নি দলের একজন নারী সাংগঠনিক সম্পাদককে। তবে ধোলাইখাল মোড়ে দলের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছে। এদিন স্পটে বক্তব্য রেখে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শক্ত অবস্থানে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। কৃষক দলের নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল স্পটে উপস্থিত থাকলেও তার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন অন্যান্য কর্মসূচিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করলেও ওইদিন তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এদিকে ঢাকার দুই মেয়র প্রার্থীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

মাতুয়াইল স্পটের দায়িত্বে থাকা স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য সেখানে যাননি। সেখানে সংঘর্ষ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তিনি আর সেদিকে পা বাড়াননি। এ ছাড়া সংঘর্ষ শুরুর আগেই স্পট ত্যাগ করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দায়িত্বশীল একজন নেতা। স্পটে থাকলেও ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নিয়ে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীকে স্পটে দেখা গেলেও তার ভূমিকা আরও জোরালো হতে পারতো বলে নেতারা মনে করছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা তানভীর আহমেদ রবিনের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©ziacyberforce.com
themesba-lates1749691102