শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

কার্যালয়ে বসবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

Coder Boss
  • Update Time : রবিবার, ১১ জুন, ২০২৩
  • ৬১৬ Time View

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যেকোনো দিন গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যেতে পারেন। সেখানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবেন।

সর্বশেষ তিনি ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি অফিস করেন। কারাগারে যাওয়ার দুই দিন আগে সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এরপর আর কার্যালয়ে যাওয়া হয়নি বিএনপি চেয়ারপারসনের। খালেদা জিয়ার পারিবারিক ও তার মেডিকেল বোর্ডের সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য ‘জিসাফো’ কে বলেন, ম্যাডামের ডায়াবেটিসসহ সবকিছু ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যের প্যারামিটারগুলোর উন্নতি হচ্ছে। ম্যাডাম এখন কারও সাহায্য ছাড়া একাই চলাফেরা করতে পারেন। কিছুটা সুস্থ হলে তিনি অফিসও করবেন। তবে এখনও তিনি নিজেকে পুরোপুরি সুস্থ মনে করছেন না।

ওই চিকিৎসক জানান, তার সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া নিজেই অফিস করার তথ্য জানান। তিনি আগ্রহ দেখালেও চিকিৎসকরা আরও সময় নিতে বলেছেন।

তবে ওই সময়ে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে পরিবারের একজন সদস্য বলে ওঠেন, ‘ম্যাডাম আপনি ফিট আছেন। অফিস করতে পারবেন।’ মেডিকেল বোর্ডের আরেক সদস্য জানান, কয়েক দিন আগে খালেদা জিয়ার শরীরে জ্বর আসে। তবে সহজেই তিনি সেরে ওঠেন। চলতি সপ্তাহেই তার থরো চেকআপ (পুরো শরীর) করা হবে। বাসায় এসে মেডিকেল টিম চেকআপ করে যাবে। লিভারসহ বড় জটিলতাগুলো কাটেনি। এগুলোর চিকিৎসার জন্য বিদেশে মাল্টিপল ডিজিস সেন্টারে নিতে পারলে ভালো হতো।

সূত্র বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসন গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয় ঠিকঠাক করতে স্টাফদের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে অফিস গোছানোর কাজও চলছে।

যদিও এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুস সাত্তার সময়ের আলোকে বলেন, ‘না না, আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

সম্প্রতি মার্কিন ভিসানীতি ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন এমন গুঞ্জন রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠকের পর তা আরও জোরালো হয়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা তো দীর্ঘদিন ধরে ম্যাডামের নিঃশর্ত মুক্তির জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। সরকার অন্যায়ভাবে কারাবন্দির পর এখন তাকে এক প্রকার গৃহবন্দি করে রেখেছে। সরকার চাইলে তাকে মুক্তি দিতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। নির্বাচন এলে পর্দার আড়ালে অনেক কিছুই হয়। সরকার হয়তো নির্বাচনের আগে তাকে মুক্তি দিতে পারে। আর অফিস তো তিনি চাইলেই করতে পারেন।

কারাবন্দি খালেদা জিয়া ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি পান। সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান তিনি। মুক্তি পেয়ে তিনি সরাসরি তার বাসভবন গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের ফিরোজায় ওঠেন। তার চিকিৎসায় গঠিত দলের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চিকিৎসক প্রতিনিধি দল তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

লন্ডন থেকে চিকিৎসার সমন্বয় করছেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। যে শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমেই ছিল তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না এমন শর্ত ছিল বলেও শোনা যায়।

যদিও পরে আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না, এ রকম কথা তো কোথাও নেই। তবে দ- থাকায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার একজন স্বজন বলেন, গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দোতলায় তার রুমেই থাকেন খালেদা জিয়া। আত্মীয় স্বজনরা নিয়মিত তার বাসভবনে যান। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রতিদিনই যান। বাসার সবকিছু তিনিই তদারকি করেন। মোবাইল ফোনে তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, কোকোর দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জায়মা রহমানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন খালেদা জিয়া।

প্রায়শই বিকালে ফিরোজায় যান তার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম, ভাই শামীম এস্কান্দার, ভাতিজা শাফিন এস্কান্দার ও তার স্ত্রী অরণী এস্কান্দার, ভাতিজা অভিক এস্কান্দার ও ভাগ্নে শাহরিয়া হকসহ অন্য স্বজনরা। তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় গল্প করে সময় কাটে খালেদা জিয়ার। না ডাকলে দলের কেউ যান না তার বাসভবনে। প্রয়োজন পড়লে মেডিকেল টিমও যায়। টিমের সমন্বয় করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জরুরি কোনো প্রয়োজন হলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তিনি ডেকে পাঠান। তখন তারা সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া মামলাসংক্রান্ত কাজে আইনজীবীরা তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সবসময় খালেদা জিয়াকে দেখতে যেতে পারি না। আমার পুত্রবধূ মাঝেমধ্যে পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে যায় ফিরোজায়। ডাক্তাররা নিয়মিত দেখে যাচ্ছে। এখন আগের চেয়ে ভালো। তবে তার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা বারবার বলে যাচ্ছি এ কথা। কিন্তু সরকার তো দিচ্ছে না। খালেদা জিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভাই শামীম এস্কান্দার বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।

বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে ডা. জাহিদ হোসন ‘জিসাফো’কে জানান, তিনি রংপুর আছেন। শুক্রবার রাতে দেখে গেছেন। আগের মতোই আছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকরা বাসায় গিয়ে ট্রিটমেন্ট করছেন। বাসায় পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ গত বছরের ১১ জুন এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার হৃৎপি-ের ব্লক অপসারণ করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। ৭৭ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃৎপিণ্ডের জটিলতা, ফুসফুস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। এ জন্য ২০২১ সালের এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অসুস্থতা নিয়ে তাকে ৬ বার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে এক দল চিকিৎসকের অধীনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। সর্বশেষ গত ২৯ এপ্রিল কিছু উপসর্গের কারণে ষষ্ঠবারের মতো পরীক্ষা করানোর জন্য নেওয়া হয় হাসপাতালে।

জানা গেছে, অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদার ছাড়াও মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুর উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিন, অধ্যাপক শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক জিয়াউল হক এবং অধ্যাপক সাদেকুল ইসলাম। এ ছাড়া লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন ।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং পরে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ড হওয়ার ২ বছর পর ‘সাময়িক মুক্তি’ পান খালেদা জিয়া। এই সাময়িক মুক্তির মেয়াদ ছিল ৬ মাস। পরে সপ্তমবারের মতো বাড়ানো হয় মেয়াদ। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির মতামতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
©ziacyberforce.com
themesba-lates1749691102