৭৪-এর মতো ভয়াল দুর্ভিক্ষে পরতে যাচ্ছে দেশ

0

জিসাফো ডেস্কঃ দেশে ৭৪-এর মতো ভয়াল দুর্ভিক্ষ ধেয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা যেভাবে মিথ্যাচার করছেন তাতে প্রকৃত ও প্রকট সংকট আড়াল করা যাবেনা। ৭৪ এর ন্যায় ভয়াল দূর্ভিক্ষ চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চালের দাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে এক লাফে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চালের দাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মোটা চালের দাম ৫৫ টাকা, মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকা পর্যন্ত। চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ অনাহার-অর্ধাহার থেকে তাদের আগামী দিনগুলো নিয়ে আতঙ্কিত এবং দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে-সরকারি গোডাউন খালি, বেসরকারিভাবেও চালের তেমন মজুদ নেই। বানিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর দেশের বিভিন্নস্থানে যে অভিযান চলছে তা নিস্ফল অভিযানে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চালের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের মানুষসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হলেও বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখনও নির্বিকার। তাদের ভাবখানা এরকম যেন না খেয়ে মানুষ মারা গেলেও তাদের কিছু যায় আসেনা।

রিজভী বলেন, সরকারের বিশৃঙ্খল অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কারণে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা আজ চরম ঝুঁকিতে। চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই বলেই মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের পরম বন্ধু ভারত বাংলাদেশে চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। ভারত সরকার সুস্পষ্টভাবে বলেছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর দুই মাস তারা কোন চাল বাংলাদেশে রফতানী করবে না।

রিজভী বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখার গর্ব খর্ব হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের চাল রফতানি বন্ধ করার প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। অবিলম্বে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চালের সরবরাহ বৃদ্ধির জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে এবং ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে এই সংকট প্রকটভাবে দেখা দিয়েছিল। সেই সময় তাদের বলিষ্ঠ নেতৃৃত্ব ও জোরালো আন্তর্জাতিক তৎপরতায় মিয়ানমার সরকার তাদেরকে নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল।