৭ই নভেম্বর বিএনপি সমাবেশ করবেই

0

জিসাফো ডেস্কঃ ৭ই নভেম্বর বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচি প্রতিহত করা হবে’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত মতামত, সরকারের বক্তব্য নয়। প্রতিহত করলেও বিএনপি সমাবেশ করবেই।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় বলে রুখে দিব, প্রতিহত করব, উল্টে দিব, পকেটে অস্ত্র রাখা হয়েছে সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, ব্যবহার করার জন্য; বিরোধী দলের মিছিল দেখলেই এটা ব্যবহার করতে হবে। বিএনপি কখনোই এসব বলেনি। আওয়ামী লীগ প্রতিহত করলেও বিএনপি সমাবেশ করবেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইঙ্গিত পাচ্ছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে অনুমতি দিবে। সমাবেশের অনুমতি কেন দিবে না? ওখানে আওয়ামী লীগ তাদের কাউন্সিল করেছে, জাসদ সম্মেলন করেছে, তবে বিএনপিকে কেন দিবে না?’

এ সমাবেশে বিএনপির চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান রিজভী।

তিনি আরো বলেন, ‘৭ নভেম্বরের কারণেই আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় রসরাজ দাস নামে একজন ব্যক্তি পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা করে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বসতবাড়িতে যে হিংস্র আক্রমণ চালানো হয়েছে তা নজীরবিহীন। এ ঘটনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সামাজিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে ভাঙচুর, লুটপাট ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সারা মুসলিম বিশ্বের গভীর শ্রদ্ধার স্থান পবিত্র কাবা শরীফকে অবমাননা করে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত করায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমি তীব্র ধিক্কার ও নিন্দা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এ তথাকথিত সেক্যুলার সরকারের সময়ে সব চেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর। সরকার নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমাদের দেশের আবহমানকাল থেকে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পরস্পরের শুভেচ্ছাবোধ সামাজিক বন্ধন ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে, সমাজের অভ্যন্তরে অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ ভোটারবিহীন সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি, বিরোধী পথ ও মতকে নির্মূল করে শুধু নিজেদের আগ্রাসী ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের অটুট বন্ধনকে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এগুলো করা হয়েছে বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।