২৩শে জুন ১৭৫৭ – ২৩ শে জুন ২০১৬: একটি সাম্রাজ্যের পতন !

0

জিয়াউল হক

১৭৫৭ র ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ জয় দিয়ে শুরু আর ১৮৫৭ সালে সম্রাট বাহাদুর শাহকে দিল্লি থেকে ধরে নিয়ে রেঙ্গুন-এ নির্বাসনের মাধ্যমে ১০১ বৎসরে ভারত জয় সম্পন্ন করা হয়। ইতোমধ্যেই অতিত হয়ে যাওয়া পূরো একশত বৎসর ধরে ষ্বর্ণপ্রসবা ভারত হতে অকল্পনীয় ধন সম্পদে পরিপূষ্ঠ হয়েছে ব্রিটেন।

গা’এ গতরে বল হলে যা হয়, তারও তাই হয়েছে। নিজে শক্তিশালী হবার সূবাদে ব্রিটেন সেই শক্তির বাহার দেখিয়েছে আফ্রিকা থেকে শুরু করে পৃুবের দেশ, আজকের অষ্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড আর ওদিকে আটলান্টিকের ওপারের দেশে আমেরিকা পর্যন্ত। গড়ে উঠে এমন এক সাম্রাজ্য, বলা হতো যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কখনও সূর্যাস্ত হয় না! এক কোটি তিরিশ লক্ষ বর্গমাইলের বিশাল সাম্রাজ্য এর আগে পৃথিবীতে ছিলো না।

কিন্তু আজ তারা সুর্যাস্ত দেখলো। আমেরিকা তো গেছে অনেক আগে, সেই ১৭৭৬ সালে। ভারত পাকিস্থান ১৯৪৭ এ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও হাতছাড়া হয়ে এক এক করে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন যখন তাইওয়ানের কর্তৃত্ব ছেড়ে দিয়ে আসে চীনের হাতে, তখন অনেকেই বলেছিলেন, এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সম্রাজ্যের পতন হলো। কিন্তু না, তারা সেদিন ভূল বলেছিলেন।

ইতিহাস গড়া ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন এখনও হয় নি, তবে চুড়ান্ত পতনের প্রক্রিয়াটা শুরু হলো মাত্র। আর এই শুরুটা হলো গতকাল ২৩শে জুন, ২০১৬ ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে। এই গণভোটের মাধ্যমে অধিকাংশ ব্রিটিশ জনগণ ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন তথা ই ইউ থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আগামি কয়েক মাসের মধ্যে এই বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে এবং দুই বৎসরের মধ্যেই শেষ হবে।

না, শেষ হতে আরও বাঁকি আছে। ব্রিটেন বেরিয়ে এলেই এই ঐতিহাসিক ঘটনার রেশ শেষ হলো না, এটা কেবল শুরু মাত্র। এখন খোদ ব্রিটেন থেকেই বের হবে, স্বাধীনতা ঘোষণা করবে স্কটল্যান্ড, এর সাথে আরও থাকবে উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওদিকে বেরিয়ে যাবে জিব্রাল্টারও। স্পেন তো ইতোমধ্যেই জিব্রাল্টারের উপরে যৌথ শাসনের দাবী তুলেছে। এ অঞ্চলগুলো ব্রিটিশ ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলে ব্রিটেনর বাঁকি থাকলো কী? একমাত্র ওয়েলস, ইংলিশ চ্যানেলের ওপারের ক্ষুদ্র দ্বীপ, আর ফকল্যান্ড আইল্যান্ড , অবশ্য ওটার উপরে আর্জেন্টিনা এখনও তাদের দাবী ত্যাগ করে নি। ঝামেলাটা রয়েই গেছে।

এত কিছুর উপরে রয়েছে ব্রিটেনের নিজস্ব অর্থনৈতিক অবস্থা। এটা এক রকম নিশ্চিত যে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ব্রিটিশ ব্যবসা বাণীজ্য ক্রমান্বয়ে দূর্বল থেকে দূর্বলতর হতে থাকবে।

একসময় দীর্ঘ একশত বৎসরের প্রচেষ্টায় যে ব্রিটিশ এম্পায়ার গড়ে উঠেছিল, ২৩শে জুন ১৭৫৭’র ২৩শে জুন যাত্রা শুরুর মাধ্যমে, তার ঠিক ২৫৯ বৎসর পরে এসে ২০১৬ সালের ২৩শে জুন অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে এই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চুড়ান্ত পতন প্রক্রিয়াটা শুরু হলো। এখন শুধু এটা দেখার পালা যে, পতনটা হতে প্রকৃত পক্ষে কয়টা বৎসর প্রয়োজন হবে? শুরুর মত পূরো একটি শতাব্দীই কী?