২০ দলীয়জোট ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র চলছে: হাফিজ

0

ঢাকা: ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলকে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সরানোর চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ফেলানী ও আমাদের গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জোট ভাঙ্গার এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। আমরা অপেক্ষায় আছি, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামার।

তিনি সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সরকার জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে না। গণতন্ত্র নির্বাসনে, আইনের শাসন নেই। মানবাধিকার ভূলণ্ঠিত। সে কারণে ফেলানীরা লাশ হয়।

কেবল মাত্র ব্যক্তি-গোষ্ঠী স্বার্থে আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে নতজানু হয়ে আছি। ভারত আমাদের বন্ধ, তার অর্থ এই নয় আমরা যুগ যুগ ধরে দিয়েই যাব। গিভ এন্ড টেইক তো থাকতে হবে!

তরুণদের উদ্দেশে হাফিজ বলেন, অনেকেই অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগের সুমতি হয় কিনা! আওয়ামী লীগের সুমতি হবে না। তরুণদের কাছে বিনীত নিবেদন, আমরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করব।

রাজপথে নামতে হবে। বাস্তব পরিবেশ উপলব্ধি করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা এই সরকার একনায়েকতন্ত্রের অবসান হবে না।

এর আগে দেশের যত সহিংসতা হয়ে সবই আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সারাদেশের সহিংসতা করে বিএনপির উপর দোষ চাপানো হয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারির সমাবেশ প্রমাণ করে এসব সহিংসতা সরকারি দলের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে। সেদিন (৫ জানুয়ারি ২০১৬) তো কোনো সহিংসতা হয়নি!

খালেদা জিয়ার সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেয়ার তাগিদ দিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, যেদেশে গণতন্ত্র নাই, সেদেশে জঙ্গিবাদ জেগে উঠে।

কথা বলার, আলাপ-আলোচনার পথ রুদ্ধ হলে বিএনপির মত গণতন্ত্রকামি দলগুলো পেছনে সরে যাবে। জনগণ হতাশ হবে। তখন শক্তির দ্বারা যাদের উদ্ভব, তারা সামনে আসবে।

অল কমিউনিটি ফোরামের উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া প্রমুখ।

এসময় বক্তরা বলেন, ফেলানীর হত্যার ৫ বছর হয়ে গেল, এতদিনেও বিচারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আসলেই আমরা ব্যর্থ। অন্তত এই হত্যাকণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে ভারতীয় দূতাবাসের সামনের সড়ক ফেলানীর নামে নামকরণ করতে হবে।