২০১৪ সাল থেকে তিস্তা বিষয়ে ভারত থেকে হাসিনার প্রাপ্তি “মূলা”

0

সেই ২০১৪ সাল থেকে শেখ হাসিনাকে মুলা দেখিয়ে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। তিস্তার মুলা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন দেয়ার মুলা, সাউথ এশিয়ান কানেক্টিভির মাধ্যমে বাংলাদেশের একেবারে মহা উপকার করে দেয়ার মুলা। সর্বশেষ এখন আসাম ইস্যুতেও ঝুলানো হচ্ছে মোদির মুলা। শেখ হাসিনা নাকি তার কালকের বৈঠকে মোদির কাছ থেকে আশ্বাস নিতে চাইবেন আসামের মুসলমানদেরকে যেন বাংলাদেশে পুশইন করা না হয়। অথচ এই মোদি সরকারই আসামের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উস্কে দিয়ে তাদেরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে প্রচার চালাচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমানে রোহিঙ্গাদেরকে ‘সন্ত্রাসী’ প্রমাণ করতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে দেশটি। রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে মিয়ানমারের হাত শক্ত হবে এই ইস্যুতে। এবং এর অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়া। অথচ বাংলাদেশি পত্রিকাগুলো প্রচার চালাচ্ছে মোদির কাছ থেকে নাকি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন হাসিনা।

এভাবে মোদি ঝুলানো মুলা নিজে আর কত দেখবেন, এবং দেশের মানুষকে দেখাবেন মুজিব কন্যা? কাল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাৎ হবে মোদি ও মমতার সঙ্গে। মমতাই মূলত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে হাসিনাকে ডিলিট উপাধি দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি একটা ভাব বজায় রাখতে চান। কিন্তু একই সাথে তিনি তিস্তার পানি দেবেন না। পানি না দিয়েও হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট রাখতেই ডি.লিট উপাধির আয়োজন। এটা খুবই স্পষ্ট। আর যদি এবারও মোদি-মমতার মাধ্যমে তিস্তার পানি খসাতে না পারে শেখ হাসিনা, তাহলে তার ভারতপ্রেম যে চূড়ান্তভাবে প্রশ্নের মুখে পড়বে তা বলাই বাহুল্য। মোদি হাসিনাকে চার বছর আগে ঢাকায় এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তাদের উভয়ের বর্তমান আমলেই তিস্তার পানি ছাড়া হবে। কিন্তু বাংলাদেশে নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। ভারতেও আগামী বছর নির্বাচন। চলতি সফরে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে এই আমলে আর সম্ভব না। আবার মোদির আশ্বাস মুলা নিয়ে নির্বাচনে নামতে হবে হাসিনাকে।