ছাত্রদলের জবানবন্দী- মেহেরপুর জেলা ছাত্রদল

0

নিভন্ত এই চুল্লিতে মা একটু আগুন দে, আরেকটুকাল বেঁচেই থাকি বাঁচার আনন্দে -শঙ্খ ঘোষের কবিতার দুটি লাইন আজ মেহেরপুর জেলা ছাত্রদের অবস্থা। ১৬ বছর ধুকে ধুকে বেঁচে আছে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদল।

১৬ বছর আগে কমিটির চাঁদ উঠেছিল মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের আকাশে। দিন যায় কথা থাকে, সুর মিলিয়ে যায় কিন্তু তার রয়ে যায়, জীবনের অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি। কি পেয়েছি আর কি পাইনি , তার হিসাব করিনি কোনদিন , রাজনীতির যাত্রাপথ ঊষার অরুণ রাগে রঞ্জিত হয় কিন্তু জীবনের স্বপ্নিল দিনগুলো আর ফিরে আসবে না। দূর দিগ্বলয়য় রেখার চোখে জুরিয়ে যায়, বেদনার কষ্টগুলো হৃদয়ের গভীর তালে সমহিত হয়।

১৯৭৯ সালের নববর্ষের প্রথম প্রহরের ছাত্রদলের জন্ম। প্রতিষ্ঠার ১১ বছরের মাথায় আমান উল্লাহ আমান ভাই হয়েছে জাতীয় বীর , রিজভী ভাই সোহেল ভাই ১৩ , ১৪ বছর ছাত্র রাজনীতি করেই জাতীয় নেতা, মেহেরপুর জেলার ছাত্রনেতারা ১৬ বছরাধিক ছাত্ররাজনীতি করছে তবু পাইনি একটি কমিটি। আজো তারা ছাত্ররাজনীতিতে শিশু। আজ ১৬ বছর পর সেই ১০ বছর কিংবা ৬ বছর শিশুর পিতারা জেলার কমিটি চাই যেটা শুনে আমরা সিনিয়ারা লজ্জা পায়। স্রোতের বিপরীতে দাড় বেয়ে একজন মাঝি সারাদিন নৌকাকে অণুমাত্র ও নড়াতে পারলো না। এতে নৌকার বেগ নিশ্চয় কিছু ছিল কিন্তু কোন কাজ হয়নি। প্রকৃতির বিরুদ্ধে অবিরত সংগ্রামরত গত ১০ বছরে ছাত্রদল হয়তো কিছু কিন্তু কাজ হয়নি। কারণ ছাত্রদল Gerontocracy (বার্ধক্যতন্ত্রে) আক্রান্ত।

স্রোতহীন নদীর পানি যেমন বিষাক্ত হয়ে যায় তেমনি একই আবর্তে ঘূর্ণ্যমান ছাত্রদল আজ বিষাক্ত হয়ে গেছে। , আসলে বিএনপি নামক দলটির আকাশ আজ ঘন মেঘে আবৃত , তাই ছাত্রদল এর কেন্দ্রীয় কমিটির সূর্যের কিরণ আর মেহেরপুর এর পৃথিবী অব্দি পৌচাচ্ছে না। মেহেরপুর জেলা অবস্থা ছাত্রদলের যেখানে কর্তৃত্ব আছে সেখানে যোগ্যতা নেই আর যেখানে যোগ্যতা আছে সেখানে কর্তৃত্ব নেই । উপরে বলেছিলাম ছাত্রদল বার্ধক্যতন্ত্রে আক্রান্ত। তাতে হয়তো কেউ কেউ গোস্বা করছেন। তাদেরকে এ ও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বার্ধক্যকে কেবলমাত্র বয়েসের ফ্রেমই বাঁধা যায় না।

তবে বাঙ্গালী মেয়েদের বয়স আর ছেলেদের চাকরির বেতন নাকি জিজ্ঞেস করতে নেই। আর আজকাল মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলে বলা হয় ছাত্রনেতাদের বয়স শুধু না তাদের বাচ্চাদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই। তাহলে কি মেহেরপুর জেলা ছাত্রদল কি চুড়ি পরা প্রমীলা দল হয়ে গেল?? মনে রাখতে হবে “ মাতৃজঠর যতই নিরাপদ হোক, সেখান থেকে একবার চলে আসলে আর টা ফিরে যাওয়া যায় না”। কার্ল মার্কসএর বিখ্যাত উক্তি দিয়ে আজ শেষ করছি “ সকল ফুল ফুটতে দাও, সকল মত জাগতে দাও”। চলেবে……………

লেখকঃ প্রিন্স আহামেদ ইমরান।

সাংগঠনিক সম্পাদক ,

তারেক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি

(বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- আমার লেখা পড়ে আবার আমাকে কেউ ছাত্রনেতা ভেবেন না।চোখের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থা দেখে চুপ থাকতে পারলাম না তাই এই ক্ষুদ্র প্রতিবাদ।)