হে ঈশ্বর ! আমি একজন অসাম্প্রদায়িক !!! : কাণ্ডারি অথর্ব

0

হে ঈশ্বর ! আমি একজন অসাম্প্রদায়িক !!!

 

ভাবছেন হিন্দি সিনেমার এই পোস্টারটির সাথে আমার এই নোটটির আবার কি সম্পর্ক ?

 

না, কোন সম্পর্কই নেই। প্রচ্ছদ ছাড়া নোটটি অসম্পূর্ণ থাকে তাই ব্যবহার করলাম মাত্র।

 

তবে, পোস্টারটিতে লক্ষ্য করার বিষয়বস্তু হলো, দীপিকার সুন্দর নগ্ন পা আর কোমর বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার এই অপূর্ব দৃশ্যের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডেই রয়েছে মসজিদ আর কিছু কোরআনের আয়াতের ক্যালিওগ্রাফি। যাই হোক এইটা আমার নোটের প্রতিপাদ্য বিষয়বস্তু নয়। অতএব মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

 

কোথাও কোন ফর্ম পূরণ করতে গেলে দেখা যায়; ধর্ম ?  আমিও সুন্দর ভাবে লিখে দেই ইসলাম। যারা হিন্দু তারা লিখেন হিন্দু, যারা খ্রিষ্টান তারা লিখেন তাদের ধর্মের কথা। কিন্তু যারা নাস্তিক তারা কি লিখেন সেই সম্পর্কে আমার অবশ্য কোন ধারনা নেই। যাই হোক, আমি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও, আমি কিন্তু একজন পাক্কা অসাম্প্রদায়িক মানুষ। যে কোন পূজা পার্বণে ঘটা করে বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে প্রসাদ খেয়ে আসি। বিশেষ করে লাড্ডুটা আমার খুবই প্রিয়। তাছাড়া দিদি, বউদিদের নমস্কার করি। পূজা এলেই মনের ভেতর একটা ভিন্ন রকম অনুভূতি কাজ করে। আমার এক হিন্দু বান্ধবী আছে। দুজনের মাঝে প্রেম না থাকলেও অদ্ভুত এক হৃদয়ের টান কাজ করে। এটা আমরা উভিয়েই টের পাই। পূজা এলেই ওর সাথে দেখা হয়। ওর সিঁথির সিঁদুর পরা দেখলে মাঝে মাঝে খুব হিংসাই হয়। মনে হয় আমার বুকের ভেতরটা বুঝি এমনই রক্তাক্ত দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, আমি একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ।

 

আমাদের দেশে প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, হাসপাতাল, ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় নামাজের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা থাকলেও কোথাও পূজার জন্য মন্দির কিংবা চার্চের কোন ব্যবস্থা নেই। এইটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক সেই দেশে এমনটা আশা করা যায়না। বিশেষ করে আমার মতো একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা।

 

এই দুঃখ ঘোচাবার জন্য প্রিয় ভারতের দিকে নজর দিলাম। ভারতে কি হচ্ছে ? ভারতে কোথাও কি পূজার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করে রাখা আছে ? শুনেছি অনেক প্রতিষ্ঠানেই নাকি আছে। তবে কোথাও নামাজের জন্য সর্বোপরি এমন বিশেষ ব্যবস্থা নেই। এমনকি আমেরিকা, ইউরোপ কোন দেশেই কোন প্রতিষ্ঠানে নামাজের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই। আর থাকবেই বা কেন ? তারাতো আর মুসলিম প্রধান দেশ নয়। যেসব দেশ মুসলিম প্রধান, সেসব দেশে এমন ব্যবস্থা থাকে। তাহলে আমার মতো একজন অসাম্প্রদায়িকের তাহলে কি হবে; সেই সব দেশে গেলে ? শুনেছি ভারতের পার্লামেন্টেও নাকি প্রবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করা হয়না। যাই হোক, সেটা তাদের বিবেচ্য বিষয়। এই নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই, যেহেতু আমি তাদের পার্লামেন্টের কোন সদস্য নই।

 

ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙতে দেখেছি। সেখানে হিন্দু মুসলমানদের মাঝে প্রায়ই দাঙ্গা ফ্যাসাদ হতে দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশ এর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। কারণ আমরা সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ। এবং আমি এই দেশের একজন গর্বিত অসাম্প্রদায়িক একজন নাগরিক। কিন্তু মনঃটা মাঝে মাঝেই খুব কেঁদে উঠে যখন দেখি, আমাদের দেশে হিন্দুদের ঘর-বাড়ি ও মন্দিরে আগুন দেয়া হয়, নির্বিচারে কোরআন পোড়ানো হয়। আমাদের মতো একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্য এমনটা মোটেও কাম্য নয়।

 

আজকে জাতীয় সংসদ ভবনে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি আওয়ামীলীগ সরকারের এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু হঠাৎ করেই মনঃটা আবার বিষাদে ভরে উঠলো। হিন্দু তোষণ নীতির জন্য বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মো. আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী জাতীয় সংসদে এই সরস্বতী পূজা এবং প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণ দাবি করে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আওয়ামী ওলামা লীগের ব্যানারে এক মানবন্ধন করেন।

 

আওয়ামীলীগ সরকারের অনুমতি ক্রমেই এই পূজার আয়োজন এবং আওয়ামীলীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা যেখানে স্বয়ং নিজেই প্রধান বিচারপতির সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে তাদেরই দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের কাছ থেকে এমন প্রতিবাদ দেখে আমি বিস্মিত ! আওয়ামীলীগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা কি এই ক্ষেত্রে; দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক দিকে ঠেলে দেয়ার উস্কানিমূলক আচরণের জন্য কোন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন কিনা; সেই বিষয়ে অধীর আগ্রহে আছি। নতুবা আমার মতো একজন অসাম্প্রদায়িক নাগরিক এই অসাম্প্রদায়িক দেশে লজ্জায় আর মুখ দেখাতে পারবেনা।

 

লেখার সোস : https://www.facebook.com/notes/390692251099430/

বি: দ্র: এই লেখাটি ফেসবুক প্রোপাইল কান্ডারী অথব থেকে কপিকৃত। এই লেখা সংক্রান্ত যে কোন দায়দায়িত্ব একমাত্র লেখকের।