হাসিনা চায় ক্ষমতা, পানি দেয় দিদি মমতা, সব হারাইয়া কান্দে বাংলাদেশের জনতা।

0
  • User Ratings (0 Votes) 0
    Your Rating:
Summary

দেখা যাচ্ছে দেশ ও জনগণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিও সরকারের দায়বদ্ধতা বোধকে জাগিয়ে তুলতে পারলো না, তারা যথারীতি বন্যার্তদের গোয়েবলসিয়( সাহায্যে না করেই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে যে তারা বন্যার্তদের সাহায্যে করছে)সাহায্যে পাঠাচ্ছে এবং নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে। তবে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে রাজনীতির মাঠে বিএনপির অনুপস্থিতির সুযোগকে তারা ব্যাবহার করছে চিফ জাস্টিস ইস্যু সামাল দেবার জন্য। বন্যাদুর্গত এলাকা বা সেখানের সর্বহারা, অভুক্ত, পানি বন্দী মানুষের কি হলো না হলো তাতে তাদের(আওয়ামীলিগ)কিছুই এসে যায় না। দু:ক্ষিত, কিন্তু এটাই চরম সত্য।

Awesome

একদিকে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল করায় সরকার (আওয়ামীলীগ) দল ও বিরোধী(বিএনপি)দল এর বিচার বিভাগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান। অন্যদিকে ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যায়(বন্ধুত্বের নিদর্শন)দেশের ৫০ লক্ষ্য অভুক্ত, সর্বস্বান্ত, দিশেহারা পানি বন্দী মানুষের আর্তনাদ।

দুটি পৃথক ঘটনা কিন্তু দুটির ক্ষেত্রেই সাফারার হতে হচ্ছে জনগণকে।

ঘটনার প্রথম স্তর: ষোড়শ সংশোধনী বাতিল পারস্পারিক ঘটনা:

১৯৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ এর পরিবর্তন:

*১৯৭২ সালের সংবিধানে ৯৬ অনুচ্ছেদ:           অদক্ষতা, অযোগ্যতা, দুর্নীতিসহ অসদাচরণের কারণে জাতীয় সংসদ বিচারপতিদের অভিশংসন করতে পারবে।

*১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী:    ১৯৭৫ সালে (রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান) সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ’৭২ এর ৯৬ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন করে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট এর হাতে ন্যস্ত করা হয়। *১৯৭৮ সালের জুডিশিয়াল কাউন্সিল:                ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিচারপতিদের অপসারণে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা বাতিল করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা প্রদান করেন। *২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী:                            ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী বাহাত্তরের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃ স্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেয়।

ঘটনা প্রবাহ:                       ১লা অগাস্ট ২০১৭, ষোড়শ সংশোধনী(সংসদ কর্তৃক উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা)’ র মাধ্যমে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তনকে অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক রায় প্রকাশ।

বিতর্কের সূত্রপাত:            রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া: সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও সুশীল সমাজে প্রতিনিধিরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় কে স্বাগত জানিয়েছেন।

সরকারি দল(আওয়ামীলিগ)’প্রতিক্রিয়া: ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও পর্যবেক্ষণকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। এ রায়ের পর্যবেক্ষণে অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রাসঙ্গিক, আপত্তিকর, বিশেষ করে ‘মুক্তিযুদ্ধ একক নেতৃত্বে আসেনি’ রায়ের এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে’যা সরকারকে ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ চেয়ে আবেদন অথবা এক্সপাঞ্জের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিরোধী দল(বিএনপি)’প্রতিক্রিয়া: রায় ঘোষণার পরপরই বিএনপি এই রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে। একইসঙ্গে রায়কে ইস্যু করে তারা সরকারের সমালোচনা করে এবং সরকারের সামান্যতম লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবী করে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সরকার বিচার বিভাগকে যেভাবে বিতর্কিত করছে তাতে তারা নিজেদের পতনকেই ত্বরান্বিত করছে।

পারস্পারিক ঘটনা: ১. শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতির সাথে তার কাকরাইলস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার বিকেলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন: ‘প্রধান বিচারপতির বাসায় তার সাথে সাক্ষাতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণগুলো নিয়ে আমাদের দলের অবস্থান তাকে জানিয়েছি এব্যাপারে তার সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে, আরো আলোচনা হবে। আলোচিত বিষয়ে এখনই আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

২. সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন ওবায়দুল কাদের। বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ষোড়শ সংশোধনী বিষয়ে দলের অবস্থান এর আগেই জানানো হয়েছে।এবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে দলের অবস্থান জানাতে এসেছিলাম, এরপর তিনি (রাষ্ট্রপতি) কি করবেন সেটা তার এখতিয়ার বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

৩. মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন চিফ জাস্টিস সুরেন্দ্র নাথ সিনহা সেখানে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাও উপস্থিত ছিলেন।

৪. বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছে সেখানে আগেই উপস্থিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের(সেতুমন্ত্রী), অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর পর বঙ্গভবনে আগত আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে সরকার প্রধান হঠাৎ এ সাক্ষাত করলেন। সাক্ষাতের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু না জানানো হলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা সরকারের ক্ষুব্ধতার বিষয়টি রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদকে অবহিত করেন।

জনতার বিশ্লেষণ: সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর চিফ জাস্টিসের উপর প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদকের হঠাৎ করেই চিফ জাস্টিস এবং রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ অত:পর চিফ জাস্টিসকে সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে বঙ্গভবনে তলব ও একই সময়ে বঙ্গভবনে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার উপস্থিতি এবং সর্বশেষ সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে সাথে নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকস্মিক সাক্ষাৎ।সব মিলিয়ে কিসের যেন ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে এসমস্ত হাই প্রোফাইল সাক্ষাতের “ডিপফ্রিজ আলোচনা” সমূহের অতিরিক্ত রাখ-ঢাক ভাবই পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঘোলাটে করে তুলছে যা জনমনে নানা অশুভ আশংকার জন্ম দিচ্ছে।আওয়ামীলীগ জনগন কে, বিচার বিভাগকে, রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজেদের দাম্ভিকতাকে সারা বিশ্বের সামনে জানান দিচ্ছে।

জাগ্রত প্রশ্ন: এই রায় নিয়ে আওয়ামীলীগের কার্যকলাপ কি বিচার বিভাগ কে “আমার বিড়াল আমাকে বলে মেও” টাইপের প্রমানের প্রানান্তকর চেশটার নামান্তর হচ্ছে না?

ঘটনার দ্বিতীয় স্তর: চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং রাজনীতিতে জনতার প্রতি দায়বদ্ধতা।

তবে এসব ঘটনা প্রবাহের মধ্যদিয়ে আবারও পরিষ্কার ভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এই দেশ ও এর জনগণের জন্য সরকারি দল আওয়ামীলীগের অন্তত কোন দায়বদ্ধতা নেই এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সরকার অথবা বিরোধী যে অবস্থানেই থাকুক এ দেশের আপামর জনতার প্রতি তারা(বিএনপি)সর্বদাই দায়বদ্ধ।

আমি একথা এজন্য বলছি কারণ, দেশের সর্বোচ্চ আদালত(সুপ্রিম কোর্ট)কর্তৃক বিগত এক দশকের অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো(সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা) রায় বের হবার পর সরকারি দল আওয়ামীলীগ যথারীতি অসাংবিধানিক স্বৈরাচারের মতো চিফ জাস্টিসের উপর সদলে ঝাঁপিয়ে পড়লো। রায় বাতিলের জন্য সরকারি দল আওয়ামীলীগ প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষ্য বিভিন্ন ভাবে চিফ জাস্টিসের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে বিএনপি আদালতের পক্ষে অবস্থান নিলো।

এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র অনেকটা আকস্মিক তিস্তা বাধের সবকটি স্লুইস গেট খুলে দেওয়ায় দেশে নেমে এলো ২০০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। চিকিৎসার্থে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে হঠাৎ বন্যার খবর পাওয়া মাত্র দেশের সচ্ছল প্রতিটি মানুষকে অতিদ্রুত বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আহবান জানিয়ে তৎক্ষণাৎ বিবৃতি দিলেন এবং বিএনপির সকল স্তরের নেতা-কর্মীকে নির্দেশ দিলেন যতদ্রুত সম্ভব বন্যা দুর্গত এলাকা যেয়ে বন্যার্তদের সাহায্যে করতে ও সেখানে অবস্থান করতে।নির্দেশ পাওয়া মাত্র রিলিফ সংগ্রহ করে বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম গঠন করে নেতা-কর্মীরা অসহায় বন্যার্তদের পাশে কাছে পৌঁছে দিতে যথাসাধ্য সচেষ্ট রয়েছে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে দেশ ও জনগণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিও সরকারের দায়বদ্ধতা বোধকে জাগিয়ে তুলতে পারলো না, তারা যথারীতি বন্যার্তদের গোয়েবলসিয়( সাহায্যে না করেই প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে যে তারা বন্যার্তদের সাহায্যে করছে)সাহায্যে পাঠাচ্ছে এবং নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে। তবে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে রাজনীতির মাঠে বিএনপির অনুপস্থিতির সুযোগকে তারা ব্যাবহার করছে চিফ জাস্টিস ইস্যু সামাল দেবার জন্য। বন্যাদুর্গত এলাকা বা সেখানের সর্বহারা, অভুক্ত, পানি বন্দী মানুষের কি হলো না হলো তাতে তাদের(আওয়ামীলিগ)কিছুই এসে যায় না। দু:ক্ষিত, কিন্তু এটাই চরম সত্য।

লেখক: অবরুদ্ধ গনতন্ত্র

Published By: Zubair Tanvir Siddique