হামলাকারীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী’র দল আওয়ামী লীগ নেতার পুত্রও রয়েছে : নিউইয়র্ক টাইমস

0

জিসাফো ডেস্কঃ বাংলাদেশে গত শুক্রবারের হামলায় অংশগ্রহণকারিরা ছিলো সম্ভ্রান্ত পরিবারের। এদেরি একজন হল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র আওয়ামী লীগ দলের এক নেতার পুত্র। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাজনৈতিক তিক্ততার কারণেই দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো বিস্তার লাভ করেছে।

সম্প্রতি ‘শক এন্ড ডিন্যায়াল ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারে রাজধানী ঢাকায় নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে বাংলাদেশে বেদনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পাঁচ বা তারো অধিক তরুণ কিছু জঙ্গির রেস্টুরেন্টে হামলায় ২০ জন প্রাণ হারায়। যার অধিকাংশই বিদেশি। বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের নামাজের পূর্বে (শোলাকিয়ায়) বোমা হামলা চালানো হয় যাতে ২ পুলিশ নিহত হয়।

সন্ত্রাসী হামলা সরকারের সামর্থকে চ্যালেঞ্জ করেছে মন্তব্য করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এ সন্ত্রাসী হামলাগুলো উদীয়মান সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সামর্থের বিষয়টি প্রশ্নাকারে সামনে দাঁড় করায়। হামলাগুলো এমন সময় হল যখন আইএস জঙ্গিরা বিশ্বব্যাপী তাদের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। গত শুক্রবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। মঙ্গলবারের প্রচারিত ভিডিওতে তারা আরো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। কিন্তু সরকারের পূর্বের ধারণাতেই স্থির হয়ে আছে, তারা বলছে স্থানীয় জঙ্গিরা এসব হামলা করছে।

এতে আরো বলা হয়, বিগত তিন বছর যাবত আইএস এবং আল-কায়েদা ৪০ জন বাংলাদেশিকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশে আইএস এর পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বাড়ার সংকেত দিচ্ছিলো কিন্তু হাসিনা বরাবরই এ সতর্কতা উড়িয়ে দিয়েছেন, এবং বলেছেন এগুলো সরকারের ক্ষতি করতে বিরোধীদলের করা ষড়যন্ত্র।

বিরোধী দল নিয়ে হাসিনার এ ভাবনা স্থিতিশীল ঐতিহ্যের বাংলাদেশকে আরো গভীর বিভক্তিতে ফেলে দিচ্ছে মন্তব্য করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, গত মাসে গণগ্রেফতারে ১১,০০০ এর বেশি লোককে আটক করা হয়। তিনি গণমাধ্যম ও ভিন্ন মতের মতপ্রকাশও সংকোচিত করেছেন।

রাজনৈতিক তিক্ততার কারণেই দেশী জঙ্গি বিকাশ পাচ্ছে মন্তব্য করে এতে বলা হয়, আইএস এবং আল কায়েদার সঙ্গে দেশীয় জঙ্গিদের যে কোনো যোগসূত্র গভীর উদ্বেগের কারণ হবে। দেশের একদম কেন্দ্রের অভিজাতদের মধ্যে থেকেই চরমপন্থা বিকাশের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবারের হামলাকারীরা ছিলো অভিজাত পরিবারের। এদের ভিতরি একজন প্রধানমন্ত্রীর দল আওয়ামী লীগের এক প্রাক্তন মহানগর নেতার পুত্র।

এতে বলা হয়, কারা চরমপন্থার বিকাশ ঘটাচ্ছে ও হামলাকারীদের অস্ত্রের যোগান দিচ্ছে হাসিনা সরকারকে তা খুঁজে বের করতে হবে। হামলা চলাকালে সরকারের প্রস্তুতির অপ্রতুলতা ও ধীরগতির সাড়ার বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। যদি বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খলার কিনারা থেকে বের হয়ে আসতে হয় তবে হাসিনাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বহুদলীয় রাজনীতির সুযোগ ও ন্যায় বিচারের সমাজব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে হবে।