হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, ছাত্রলীগ নেতাকে ইজারা

0

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে হাট বাসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে হাইকোর্টের। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। বন্দর উপজেলার আমিন (রূপালী) আবাসিক এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে জাকির হোসেন নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে হাটের ইজারা নিয়েছে উপজেলা পরিষদ।

অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় হাটের ইজারা দেয়ার কথা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশের হলেও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এ হাটের ইজারা দিয়েছে উপজেলা পরিষদ। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বন্দর উপজেলায় হাট কম হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে পশুর হাটটি ইজারা দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ১৬ অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারার দরপত্র জমা নেয়া হয়। ওই ১৬ হাটের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে আটি মনোয়ারা জুট মিলস প্রাইভেট লিমিটেড মাঠ সংলগ্ন হাটটি ছিল শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অর্থাৎ ফোরশোর এলাকায় যেখানে নদীর তীর রক্ষায় অসংখ্য গাছ লাগিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। পরে নদীর তীর রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফউদ্দিন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

পরে ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের যৌথ বেঞ্চ শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। হাইকোর্টের ওই আদেশের পর মনোয়ারা জুট মিলের ওই হাটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বন্দর উপজেলার আমিন (রূপালী) আবাসিক এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে হাট ইজারা দিয়েছে বন্দর উপজেলা পরিষদ। ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন এই হাটটি ইজারা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, আইন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় হাটের ইজারা দেবে সিটি করপোরেশন। এর বাইরের এলাকায় উপজেলা পরিষদ ইজারা দেবে। কিন্তু বন্দর আমিন আবাসিক এলাকাটি সিটি করপোরেশন এলাকায় হলেও সেটি উপজেলা পরিষদ থেকে ইজারা দেয়া হয়েছে। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, আমিন আবাসিক এলাকার হাটটি উপজেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারা দিয়েছে বলে  নিশ্চিত করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফউদ্দিন জানান, হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে হাট বসানো যাবে না। তারপরেও উপজেলা পরিষদ থেকে কেন এখানে হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তাকে একটি চিঠিও দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মিনারা নাজমীন বলেন, ‘বন্দর উপজেলায় হাট কম হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে পশুর হাটটি ইজারা দেয়া হয়েছে। অবৈধ লেনদেনের অভিযোগটি আদৌ সত্য নয়। তবে, হাটটি যাতে শীতলক্ষ্যার তীরে বসানো না হয় সেজন্য ইজারাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি শীতলক্ষ্যার তীরে কোরবানীর পশু তোলা হয় তাহলে আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবো।’