স্যান্ডার্সকে জেতাতে টাকা ঢালছে পরিবেশবাদীরা

0

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে হঠাৎ করেই উঠে এসেছে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী বার্নি স্যান্ডর্সের নাম। প্রাথমিক জরিপে নিউ হ্যাম্পশায়ারে হিলারির সাথে জয় আর আইওয়াতে মাত্র ০.২ শতাংশ ভোটে হার। এরপরই মার্কিন রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসেন স্যান্ডার্স। স্যান্ডার্সই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রাথমিক জরিপে জয়লাভ করা প্রথম কোনো ইহুদি-আমেরিকান।

অনেকের ধারণা, টাকার জোরেই মার্কিন রাজনীতিতে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন স্যান্ডার্স। অবশ্য এ ধরনের ধারণার সমালোচনা করেছেন ডেমোক্রেট দলের এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। তার মতে, রাজনৈতিক একটি নির্বাচনে অর্থ কখনোই প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তবে তার পক্ষে ঠিকই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে চলেছেন সমর্থকরা।

তার পক্ষে অর্থ ব্যয়কারী একটি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন হচ্ছে ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন’। এটি মূলত একটি অলাভজনক পরিবেশবাদী সংগঠন। স্যান্ডার্সের পরিবেশবান্ধব নীতির প্রশংসা করে তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। স্যান্ডার্সের পরিবেশ নীতির পক্ষে জানুয়ারিতে একটি বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

আইওয়া এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের নির্বাচনের আগেই রাজ্য দুটিতে ছেয়ে যায় তার পক্ষের বিজ্ঞাপনটি। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সিএনএন। বিজ্ঞাপনের নির্মাতা বলেন, ‘তিনি (স্যান্ডার্স) একটি স্বাস্থ্যকর এবং ন্যায়বিচারপূর্ণ বিশ্ব নির্মাণের একজন পরীক্ষিত, সাহসী ও নির্ভীক কর্মী।’

সমাজকল্যাণ-মূলক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশনকে ‘৫০১(সি)(৪)’ সংগঠনও বলা হয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দেশটির ৫০১(সি)(৪) আইনের ধারায় গঠিত হয়। এ ধরনের সংগঠন তাদের দাতাদের তথ্য প্রকাশের জন্য কারো কাছে বাধ্য নয়। আর এই অলাভজনক সংগঠনগুলোই নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নানা অযুহাতে পরোক্ষভাবে অর্থ সংগ্রহ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কাজে বড় অঙ্কের অর্থকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ডার্ক মানি’।

আইন অনুসারে, এ ধরনের অলাভজনক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকবে। তবে তাতে কোনো সমস্যা হয়নি তাদের। গত এক দশকে বিভিন্ন নির্বাচনে তারা লাখ লাখ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কারণ তাদের মতে, তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, পরিবেশের স্বার্থে কাজ করছেন। স্যান্ডার্সের পক্ষে ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশনের পক্ষ থেকে ব্যয় করা ডার্ক মানির সমালোচনা করা হয়েছে হিলারি শিবির থেকে। তবে তা আমলে নেয়নি সংগঠনটি।

ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশনের সভাপতি এরিখ পিকা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। তারা আমাদের ‘ডার্ক মানি’ সংগঠন বলতে পারে। তবে আমরা মূলত ছোট ছোট দাতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে চলি।’

ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা ১৯৬৯ সালে আইনের ‘৫০১(সি)(৩)’ ধারা অনুসারে গঠিত তাদের সহযোগী সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ’র কাজে রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। তাদের সহযোগী সংগঠনটি বিশ্বের সব মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্যপূর্ণ পরিবেশ গঠনে কাজ করতে নীতি নির্ধারকদের আহ্বান জানিয়ে থাকে।

এবারই প্রথম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে না ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন। এর আগেও ২০০৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী জন এডওয়ার্ডের পক্ষে ৭০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিলেন তারা। তবে সেবার সফল হতে পারেনি ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন।

স্যান্ডার্সের পক্ষে বিজ্ঞানটির নির্মাতা পিকা জানান, বিজ্ঞাপনটির দুটি দিক রয়েছে। একদিকে তিনি স্যান্ডার্সকে পরিবেশের প্রতি হিলারির চেয়ে বেশি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে মনে করেন। অপরদিকে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে নেয়ার বিষয়টি বিজ্ঞাপনে ফুটিয়ে তুলেছেন। পিকার এ কাজ বেশ ফলপ্রসূও হয়েছে। ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন স্যান্ডার্স। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একসাথে কাজ না করি তবে সামনের বছরগুলোতে আরো খরা, বন্যা এবং আবহাওয়া সমস্যা দেখতে পাবো।’

তবে ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুসারে, বিজ্ঞাপনের পেছনে কাজ করছে মূলত ক্যানাল পার্টনারস মিডিয়া নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা। ডেমোক্রেট দলের যেকোনো দলের আন্দোলন এবং প্রার্থীদের পক্ষে বিজ্ঞাপন তৈরি করে দেয় সংস্থাটি। এতে বোঝা যায়, এই বিজ্ঞাপনের পেছনের কারণটি শুধু পরিবেশগত নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও আছে।

কোত্থেকে অর্থ পায় ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন- এমন প্রশ্নের উত্তর শিঘ্রই দিতে যাচ্ছে সংগঠনটি। দাতাদের নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন। তারা জানিয়েছে, স্যান্ডার্সের প্রতি সমর্থন অব্যহত রাখবে তারা। ফ্লোরিডাতেও স্যান্ডার্সের পক্ষে অর্থ ব্যয় করে যাচ্ছে বিভিন্ন ‘ডার্ক মানি’ সংগঠন।

এ বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেনি স্যান্ডার্সের শিবির। তবে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যান্ডার্সের মুখপাত্র বলেছেন, ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ অ্যাকশন কোনো লুণ্ঠনকারী সংগঠন নয়। তারা কর ফাঁকিও দিতে চাইছে না। তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং মার্কিন নাগরিকদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে তারা সচেতন।’