স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি দেশের জনগন মেনে নেবে না

0

জিসাফো ডেস্কঃভারতের সাথে ‘প্রতিরক্ষা সমঝোতা’ দেশের জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পাবে না বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি ছাড়া অন্য কোনও চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সকালে শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পনের পর দলের মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, সরকার যেটা বলেছেন যে, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে উচ্চতম পর্যায়ে রয়েছে। সম্পর্ক উচ্চতম পর্যায়ে যদি থাকে, তাহলে এই ধরণের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্বারক সই করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।”

‘‘ শুধুমাত্র ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা কোনোটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি বা সমঝোতা দেশের জনগন মেনে নেবে না।”

ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সদ্য কারামুক্ত মহানগর সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় জিয়ার কবরে আসেন। কবরে পুস্পস্তবক অর্পন করে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাতে অংশ নেন। এ সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আসাদুজ্জামান রিপন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, মহানগরের কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা, মো. মোহন, যুব দলের সাইফুল ইসলাম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্র দলের আকরামুল হাসান প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৩ মার্চে উচ্চ আদালতের জামিন নিয়ে হাবিব উন নবী খান সোহেল কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। গত বছরের ৯ অক্টোবর নাশকতার বিভিন্ন মামলায় ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে আত্মসমর্পন করলে সোহেলকে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মহাসচিব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সম্ভাব্য চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ আমরা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর উপলক্ষে ইতিমধ্যে আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের সমস্যাগুলো তার মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি সমস্যার সমাধান করা অর্থাৎ ন্যায হিৎসা পাওয়া, ৫৮টি অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিৎসা পাওয়া, আমাদের সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে তার নিরসন হওয়া এবং ট্যারিফ-নন-ট্যারিফ বিষয়ে বানিজ্যের ক্ষেত্রে যে বাঁধা রয়েছে, সেই বাঁধাগুলো অপসারিত করা- এগুলো বাংলাদেশের এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর যদি সমাধান না হয়. তাহলে শুধুমাত্র ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি অথবা সমঝোতা কোনটাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না।”

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ে শুধু প্রতিবেশী দেশের কাছে নয়, সমগ্র গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে প্রত্যাশা করে যে, গণতন্ত্রকে এখানে ফলোপ্রসু করতে, জনগনের অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে, জনগনের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে গণতান্ত্রিক বিশ্ব তার ভুমিকা পালন করবে।”