স্বাধীনতার অপর নাম শহিদ জিয়াউর রহমান

0

যারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে অস্বীকার করে,তারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে।
স্বাধীনতার অপর নাম,
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধের অপর নাম,
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

2

মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার (১১ই জুন থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১)। আওয়ামী লীগ সাংসদ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার লেখা A tell of millions গ্রন্থের ১০৫-১০৬ পৃষ্টায় লিখছেন, ২৭শে মার্চের বিকালে তিনি আসেন মদনাঘাটে এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষনা দান করেন। প্রথমে তিনি নিজেকে রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষনা করেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষনা দেন।“

কেন তিনি মত পরিবর্তন করেন তার ব্যাখ্যাও মেজর রফিক দেন। একজন সামরিক কর্মকর্তা নিজেকে রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষনা দিলে এই “আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র” ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এবং স্বাধীনতার গন আন্দোলন সামরিক অভ্যুত্থান রূপে চিহ্নিত হতে পারে, এই আশঙ্কায় দেশ প্রেমিক জিয়া শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পরে ঘোষনা দেন।

৩ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার মেজর কে এম সফিউল্লাহ, বীর উত্তম তার লিখিত গ্রন্থ Bangladesh at war (1989) ৪৩-৪৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, মেজর জিয়া ২৫ শে মার্চ রাত্রিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সদল বলে বিদ্রোহ করে এবং তার কমান্ডিং অফিসার জানযুয়াকে প্রথমে গ্রেফতার করে পরে হত্যা করে। পরে ২৬শে মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর মোকাবেলার জন্য সকলকে আহ্বান করেন। ২৭শে মার্চ মেজর জিয়া স্বাধীন বেতার কেন্দ্র থেকে আর একটি ঘোষনায় বলেন,I major zia, provitional commander in cheif of Bangladesh libaration army, hereby proclaim, on behalf of Sheikh Mujibur Rahman, The independence of Bangladesh”

মেজর সুবিদ আলী ভুইয়া, মেজর জেনারেল (অবঃ) তার লিখিত “মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস” গ্রন্থের ৪৩-৪৪ পৃষ্ঠা (ঢাকা, আহমেদ পাবলিশিং হাউস, ১৯৭২) লিখেছেন ঘন্টা দেড়েক চেষ্টার পর তিনি তার সেই ঐতিহাসিক ভাষন টি তৈরী করে নিজেই সেটি বাংলায় ইংরেজীতে পাঠ করেন। মেজর জিয়া ওই ভাষনে নিজেকে “হেড অভ দি ষ্টেট” অর্থ্যাৎ রাষ্ট্র প্রধান রূপে ঘোষনা করেন। কিন্ত তার পর দিন ই তিনি ওই ভাষন সংশোধন করে ঘোষনা দেন এই মুক্তিযুদ্ধ তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন মহান নেতা শেখ মুজিবের পক্ষে।

কর্নেল অলি আহমেদ, বীর বিক্রম, অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পি এইচ ডি পেপারের বাংলায় অনুবাদ “রাষ্ট্র বিপ্লবঃ সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (ঢাকা, অন্বেষা প্রকাশন, ২০০৮) এ সু স্পষ্ট ভাবে বলেন, “মেজর জিয়া ২৭শে মার্চ ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। মেজর জিয়া ছিলেন আমাদের নেতা এবং বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি” (মুখবন্ধ)। কর্নেল অলি তার থিসিস পেপারের জন্য ৮ জন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেন তাদের মাঝে সেক্টর-৫ এর মেজর মীর শওকত আলী বীর উত্তম, ১১ নং সেক্টর কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ খান ছিলেন তাদের সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেন মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষনা বাংলাদেশের গতিপথ নির্নয় করে দেয়।

ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সুখান্ত সিং তার Libaration of Bangladesh, Vol. I (Delhi lancer Publishers 1980) গ্রন্থের ৯ পৃষ্টায় লেখেন “ইতিমধ্যে ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে একজন বাঙালী অফিসার মেজর জিয়ার কন্ঠস্বর ভেসে আসে।”

১৯৭৭ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ভারতের রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্মানে আয়োজিত এক ভোজসভায় তার প্রতি সন্মান জ্ঞাপন করে বলেন “ ইতিমধ্যে আপনার দেশের ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষনাকারী এবং সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আপনার সমুজ্জ্বল অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে।” (মুহাম্মদ সামসুল হক, Bangladesh in International politics, Dhaka, UPL, 1993, P-96)

জেনারেল জ্যাকব তার “Surrender as Dacca : Birth of a Nation” (Dhaka, UPL, 1997) বইর ৩৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন “চট্টগ্রাম ৮ ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান রেজিমেন্টের দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং বেতার ভবনের নিয়ন্ত্রন নিয়ে ২৭শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। সেই ঘোষনা অনেকেই শুনেছেন। যারা নিজ কানে শুনেন নি তারা মুখে মুখে প্রচার করেন।

বাংলাদেশে ভারতের প্রথম ডেপুটি হাই কমিশনার জে এন দিক্ষীত তার Libaration and Beyond বইর ৪২ পৃষ্ঠায় লেখেন, চট্টগ্রাম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমান স্বল্প কালীন পরিসরে বেতার ভবন দখল করেন এবংসেই কেন্দ্র থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষনা দান করেন।”

১৯৭১ সালের ৬ ই নভেম্ভর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবিদের এক সমাবেশে বলেন, “The cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so far as I know, has not asked for independence even now” কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের নিউজ লেটারে এটা দেখা যাবে তাদের ওয়েব সাইটে।

আমাদের মাননীয় আদালত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দানকারী না সেই বিষয়ে রায় দিয়েছেন। মাননীয় আদালতের কাছে অনুরোধ আমাদের কে মিথ্যা ইতিহাস জানানোর জন্য এই সব বই পত্র কে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।

পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে যে সব খবর ছেপেছে তার সামান্য আপনাদের জন্য পেশ করলাম।আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আদালতের রায় কি ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারে? যদি পারে তবে নিঃসন্দেহে সেই আদলত ভবিষ্যতে আরো অনেক ইতিহাস এর ব্যাপারে তাদের বিজ্ঞ রায় দেবে। এটার অনেক উদাহরন ই আছে আদালত যে রায় দিল পরে সে রায় চেঞ্জ হয়ে গেছে। সংসদে যে আইন পাশ করা হয়েছে সে আইন ই পরে বাতিল হয়ে গেছে।

তবে যাই হোক না কেন। সত্য কিন্তু চিরন্তর। সত্যই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে এবং থাকবে।

সংগ্রহ:ফেসবুক ওয়াল থেকে

সংগ্রহেঃআলফাজ উদ্দিন।