স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তৃণমূল নেতারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

0

জিসাফো ডেস্কঃ দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

মামলা-মোকাদ্দমা আর পুলিশি হয়রানিতে অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন তারা। বেশির ভাগ এলাকায় এরই মধ্যে পৌর নির্বাচনের প্রার্থীও ঠিক করে ফেলা হয়েছে বলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তবে নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

বিএনপির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিকভাবে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা চললেও সিদ্ধান্ত হবে বিএনপি নেত্রী দেশে ফেরার পর। চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরলেই স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আর লন্ডনে অবস্থান করায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করার সুযোগ থাকছে।

তবে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, এর আগে বিএনপি সব ধরনের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারো নির্বাচনে দল অংশ নেবে, এই প্রত্যাশা থেকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। নিজেদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করতে স্থানীয় এই নির্বাচনকেই নিয়ামক হিসেবে বিবেচনায় রাখছেন তারা। তবে সার্বিকভাবেই কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে আছেন নেতা-কর্মীরা।

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ও প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য পাঁচটি আইন সংশোধনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আইন সংশোধনের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন (পৌরসভা/সংশোধন) আইন, ২০১৫’ ভেটিংয়ের পর অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে। আর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ/সংশোধন) আইন, ২০১৫, উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৫, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৫ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন/সংশোধন) আইন, ২০১৫ ভেটিংয়ের পর পাসের জন্য সংসদে যাবে।

তবে প্রথমবারের মতো পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয়ভাবে করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনও বলছে, স্বল্প সময়ে এভাবে ভোট করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।

বিএনপি সূূত্র বলছে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে যাওয়া এবং না যাওয়া নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন দলের দায়িত্বশীলরা। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বিএনপি নির্বাচন করছে, এই ধরনের বক্তব্যও প্রচার হতে পারে। সেজন্য বিএনপি সরাসরি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে, না কি স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী দেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও থেমে নেই তৃণমূলের প্রস্তুতি। প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেদের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। যেসব এলাকায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নেই, সেসব এলাকায় আসন্ন পৌর নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তা এক প্রকার নিশ্চিত করা হয়ে গেছে। তবে অনেক এলাকায় দল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এসব এলাকায় সমঝোতার চেষ্টা চলছে। মামলা-মোকাদ্দোমা আর পুলিশি হয়রানিতে বিপর্যন্ত নেতা-কর্মীরা স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে।

এব্যাপারে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে নেতা-কর্মীরা।

মাগুরা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, এখন এলাকার অধিকাংশ নেতা-কর্মী মামলা-মোকাদ্দোমা, পুলিশি হয়রানি এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ষড়যন্ত্রে কোণঠাসা অবস্থায় আছে। তবে প্রতিকূল পরিবেশেও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থী ঠিক হয়ে গেছে। নেতা-কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। এই নির্বাচন দিয়েই ঘুরে দাঁড়াতে চাই।

সৈয়দপুর এলাকার নেতা-কর্মীরা স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, জানিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার বলেন, ‘আমরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে প্রার্থী ঠিক করেছি। নেতা-কর্মীরা এখন কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলেই তারা নির্বাচনমুখী হবে।’