সোস্যাল মিডিয়ার প্রচারণায় আবারো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আহবান জানালেন বেগম জিয়া

0

জিসাফো ডেস্কঃ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সবকিছুতেই ডিজিটালের ছোঁয়া। যার প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। বিগত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ না করায় দেশের চলমান রাজনীতিতে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে দলটি। সরকার পতন আন্দোলনে আশানুরূপ সফলতা না পাওয়া এবং বর্তমান সরকার বিরোধী দমন নীতির কাছে দুর্বল ও নিরবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিএনপিকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি তথা দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া

২০ দলীয় জোট প্রধান এ দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা একের পর এক মামলায় জর্জরিত হওয়ায় মাঠের রাজনীতিতে প্রায় নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়েছে দলটি। তবে অধিকাংশ নেতাকর্মীই এখন প্রেস ব্রিফিং এবং অনলাইন এক্টিভিটিস্ নির্ভর হয়ে পড়েছে। সোস্যাল নেটওয়ার্কে সরব নেতাকর্মীদের বাস্তবিক অবস্থান নির্ণয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির হাইকমান্ড। এতে করে ফেইসবুকে আইওয়াশের রাজনীতিবিদদের জন্য অপেক্ষা করছে চরম দুঃসংবাদ। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের ত্যগী ও দলের জন্য নিবেদিত এবং নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করেছেন দলের নীতি নির্ধারকগন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবী, সকল প্রকার নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত বদলে আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি‘র অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। অতীতের ভুলকে চিহ্নিত করে আগামী কাউন্সিলের আগেই সারাদেশে ঢেলে সাজানো হবে দল ও অঙ্গ সংগঠন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি‘র নেতাকর্মীদের অনলাইন এক্টিভিটিস্ তদন্তে গোপন কমিটি গঠন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই অচিরেই আসছে বিএনপি‘র নতুন মেরুকরণ। জানা যায়, বিএনপি’র আনলাইন এক্টিভিটিস সারাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার অবস্থান সবচেয়ে বেশি।কারণ দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস. আলম রাজীব নারায়ণগঞ্জের সন্তান। এস.আলম রাজীবের মতো বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিহিংসার রাজনীতির স্বীকার হয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করা অনেক নেতাকর্মীরই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে এবং এই সরকার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে অনলাইনকে বেছে নিয়েছে। এছাড়াও দেশের নেতাকর্মীরাতো রয়েছেনই।

এদিকে গত ১লা নভেম্বরের যুক্তরাজ্য বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আরো একবার সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি বা অনলাইন সাইবার আন্দোলনের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আহবান জানান প্রবাসীদেরকে বেশি বেশি সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করতে, মিশরের আন্দোলনের সফলতার মতো বাংলাদেশেও রিভলিউশন সম্ভব এই অনলাইন আন্দোলনের মাধ্যমে, এর মাধ্যমেই দেশের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। বেগম জিয়ার এই বক্তব্যের পরপরই জাতীয়তাবাদী অনলাইন এক্টিভিস্টরা বেশ নড়েচড়ে উঠেছে, তারা সাধুবাদ জানিয়েছে দলীয়ে প্রধানের এই বক্তব্যের এবং নেত্রীর তাদের প্রতি আস্থা ও ভরসার বাস্তবিক প্রতিফলন দেখাতে বদ্ধ পরিকর বলে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন অনেকে।

তৃণমূলে অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের যে কোন কর্মসূচি সফল করতে অনলাইনে নানা প্রচার প্রচারনা চলালেও মাঠে দেখা যায় না সে মুখ গুলো। এছাড়াও রাজপথের কর্মসূচিতে ১০/১৫ জন নিয়ে বাড়ির গলিতে মিছিল করে সেই ছবি আপলোডের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করে কোন কোন নেতা। এ ব্যপারে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি‘র সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার বলেন , অনলাইন এক্টিভিটিস আমি বুঝি না । ফেইসবুক এর ব্যপারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রীতি একটি বক্তব্য দিয়েছেন । তার বক্তব্যই আমার বক্তব্য।

নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এ দলে বিভিন্ন ভাবে জরিপের মাধম্যে নেতাকর্মীদের অবস্থান নির্নয় করা হবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে অনেকেই নিজের মতাদর্শকে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সকলের মাঝে তুলে ধরছে। এর প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি দ্বায়িত্বশীলদের অবশ্যই মাঠে থাকতে হবে। তবে যে কোন সিদ্ধান্তে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ। সক্রিয় গনমাধ্যমের ফলে এখন সকলেই সচেতন। ফটোসেশন কিংবা অনলাইন এর মাধ্যমে চোখে ধুলো দেওয়া এখন আর সম্ভব নয়। একই পদে কেউ চিরদিন থাকে না। তৃনমূলের সিদ্ধান্তেই নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। সেখানে অবমূল্যায়ন হওয়ার কোন সুযোগ নাই ।

ঘরোয়া ভাবে কর্মসূচি পালন করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও ফটোসেশন এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিএনপি‘র চোখে ধুলো দেওয়া নেতাদের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসা এখন সময়ের ব্যপার মাত্র বলে দাবী করেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।