সোনাইমুড়ীতে হিজবুত তাওহীদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে নিহত ২

0

নোয়াখালী : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর চাষির হাট বাজার ও পোরকরা গ্রামে হিজবুত তাওহীদ কর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে থেমে থেমে এই সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত লোক।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াস শরিফ পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে নিহতদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি। মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, ‘গলাকাটা, হাত-পায়ের রগ কাটা এবং মুখমণ্ডল বিকৃত করা মরদেহ পাওয়া গেছে। ফলে তাদের চেনা যাচ্ছে না।’

সংঘর্ষের সময় চাষির হাট বাজারে অবস্থিত হিজবুত তাওহীদের কার্যালয় ভাংচুর ও সংগঠনের এক সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, গত কয়েক কছর থেকে পোরকলা গ্রামে হুমায়ুন খান পন্নীর অনুসারী হিজবুত তাওহীদের কর্মীদের সাথে স্থানীয় মুসল্লিদের নানা বিষয়ে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, হিজবুত তৌহীদের কর্মীরা এলাকায় ইসলাম বিরোধী নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। দুই বছর আগে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে তারা এলাকা ছাড়া হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চাষির হাটে সমাবেশ করে তারা উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়। এতে লোকজন আরো ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে।

এ নিয়ে সোমবার স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আসার সময় চাষির হাটে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সংঘর্ষ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে উত্তেজিত জনতা সংগঠনের এক সমর্থকের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলেও জানা যায়।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিকারুজ্জামান সোমবার স্থানীয়দের স্মারকলিপি পাওয়া ও সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিকারুজ্জামান ও সোনইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী হানিফুল ইসলাম। এলাকায় বিপুল সংখ্যক র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্য করা হয়েছে।