সেই এসপির বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেলো দুদক

0

ঢাকা: ঘুষ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে ৩৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রেলওয়ে পুলিশের সাবেক এসপি মোস্তফা কামালকে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদককে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আজ সোমবার আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

গত ৫ জুন দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা বাতিল করে রেলওয়ে পুলিশের এসপি মোস্তফা কামালকে খালাস দেন হাইকোর্ট। পুলিশের এই কর্মকর্তার আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত সেটি গ্রহণ করে, আপিল করার অনুমতি দেন।

এসএ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী সালাহ উদ্দিন আহমেদের করা দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মোস্তফা কামালকে ৩৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। মোট ৩৫ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও ৩০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছিল।

এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মোস্তফা কামাল। এসএ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী সালাহ উদ্দিন আহমদ ২০০৩ সালের ২০ নভেম্বর মোস্তফা কামাল ও হবিগঞ্জের মাধবপুর থানার এসআই ওয়াহেদ মিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

তিনি সোমবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়ের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে এই আদেশ দেয়া হয় বলে মামলার বাদী এসএ পরিবহনের মালিক সালাহ উদ্দিন আহমদের আইনজীবী এমদাদুল হক লাল জানিয়েছেন।

মোস্তফা কামালকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ বাতিল করে গত ১১ মার্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

সালাহ উদ্দিন আহমদকে আটক করে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মোস্তফা কামালকে যাবজ্জীবন ও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালত।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সরকারি কর্মকর্তা হয়ে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন (৩০ বছর) এবং দণ্ডবিধির ১৬১ ও ১৬৭ ও দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২) ধারা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আরো ৫ বছরের সাজা দেয়া হয়।

হবিগঞ্জের তৎকালীন এসপি মোস্তফা কামালকে আদালত ৩৫ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেন। জরিমানার ৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ও বাকি ২৫ লাখ টাকা মামলার বাদীকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।