সিলেট আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ, শান্ত বিএনপি

0

সিলেট: আসন্ন পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

প্রথমবারের মতো এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাদা প্রস্তুতি রয়েছে। তাই তারা মনোনয়ন জমা দেয়ার আগেই দলীয় একক প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে মনোনীত করেছে।

কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করায় সিলেট বিএনপিতে অনেকটা শান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিদ্রোহ। সিলেটের তিনটি পৌরসভায় কেন্দ্র মনোনীত প্রার্থীকে তোয়াক্কা না করেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সিলেটের ওই তিন পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বিএনপি থেকে দল মনোনীত তিনজন প্রার্থীই তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জকিগঞ্জ
এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজি খলিল উদ্দিন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আর একজন বিদ্রোহী প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ।

তবে এই পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি হলেন অধ্যাপক বদরুল হক বাদল।

এ ছাড়া এ পৌরসভায় জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী পৌর জাপার সভাপতি আব্দুল মালেক ফারুক, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সোনার বাংলা সমবায় সমিতির এমডি মো. জাফরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আল ইসলাহ নেতা কাজী হিফজুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

গোলাপগঞ্জ
পৌর নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাপলু ছাড়াও এ পৌরসভায় মেয়র নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে আরো দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পৌর প্রশাসক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম রাবেল।

তবে এ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি হলেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. সুহেদ আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কানাইঘাট
এ পৌরসভায় মোট ১০ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩ জন, বিএনপি থেকে ১ জন ও বাকিরা অন্যান্য দলের।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান ছাড়াও ওই পৌরসভায় আরো দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান (স্বতন্ত্র), আওয়ামী লীগ নেতা কানাইঘাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খোকন (স্বতন্ত্র)।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর রহিম উদ্দিন ভরসাও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছন।

তবে এ পৌরসভায় জামায়াত নেতা এ. কে.এম ওলিউল্লাহ (স্বতন্ত্র), জাতীয় পার্টি মনোনীত একক প্রার্থী উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমদ, সাবেক মেয়র প্রার্থী ব্যবসায়ী সুহেল আমীন (স্বতন্ত্র), মো. তাজ উদ্দিন (জাসদ), মাওলানা ইসলাম উদ্দিন (খেলাফত মজলিস) এবং সাবেক কৃতী ফুটবলার প্রবাসী সুলতান আহমদ (স্বতন্ত্র) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।