সিরিয়া সংকট নিয়ে আলোচনায় বসছে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

0

রাশিয়া বিমান হামলা চালিয়েছে সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর ওপর। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের পর এই প্রথম নিজ ভূখ-ের বাইরে হামলা চালান দেশটি।  আর এ হামলা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়া হামলা চালিয়েছে, আইএসের ওপর নয়,  সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধী পক্ষের ওপর।  বিতর্ক নিরসনে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সিরিয়ায় আইএসের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান থেকে ২০ বার অভিযান চালানো হয়।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়া আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে নয়, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে।

ন্যাটো বলেছে, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় নেই।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ বলেন, কোনো ধরণের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে যোগাযোগের মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন,এ সম্পর্কে একটি বৈঠক যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভবত স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হবে।

কেরি বলেন, ‘আইএসের ওপর হামলাটি একটি বিষয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো তারা এ ধরণের কোনো হামলা চালাচ্ছে না।’

চার বছর ধরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে লড়াই করছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো চায় আসাদ ক্ষমতা ত্যাগ করুক। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাশিয়া তাকে সমর্থন দিচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আইএসের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অস্ত্র ভা-ার, গোলাবারুদ ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়নি।

কিন্তু সিরিয়ায় মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জাফারানেহ, রাস্তন ও তালবিসেহ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে কয়েকজন শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হয়েছে।  তবে এসব এলাকা আইএস নিয়ন্ত্রিত নয়।

রাশিয়া এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা বাশার আল-আসাদের অনুরোধে আইএস বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে।

এ সপ্তাহের শুরুর দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির পুতিন জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার সময় আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরণের জোট তৈরি করার তাগিদ দেন। সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে আসাদ সরকারকে সাহায্য করছে।