সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৮৪ জন নিহত

0

জিসাফো ডেস্কঃসিরিয়ার বিদ্রোহী অধ্যূষিত আলেপ্পো শহরে গত দু’দিনে সরকারী বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, শহরের শিশু হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক এবং অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

রাশিয়া ও সরকারী বাহিনীর ঘোষিত ৩ সপ্তাহের অস্ত্র বিরতি শেষে মঙ্গলবার থেকে আবারও শুরু হয় বিমান হামলা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজার্ভেটরি জানিয়েছে, সরকারী বাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে শুধু গোলা বর্ষণই করছে না, হেলিকপ্টার থেকেও শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলছে ব্যারেল বোমা। পাশাপাশি শুরু হয়েছে স্থলপথে কামানের গোলাবর্ষণ। হামলার দ্বিতীয় দিনে আলেপ্পো ছাড়াও আশপাশের এলাকা শার, শুকারি, শাকুর এবং কারাম আল বেইক’এ গোলাবর্ষণ চলে।

পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি, দ্বিতীয় দিনের হামলায় ৫ শিশু, ত্রাণকর্মীসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইডিএ (The Independent Doctors Association) জানিয়েছে, বিমান হামলায় শহরের বায়ান শিশু হাসপাতাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিমান হামলার সময় হাসপাতালটির পরিচালক সেখানে ছিলেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ভবনটির ভূগর্ভস্থ একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। উদ্ধারের পর তিনি জানান, অতর্কিত বিমান হামলায় কারও প্রাণ বাঁচানোর অবকাশ ছিল না। সবার জন্য শেষ ভরসা ছিল ভূগর্ভস্থের সেই কক্ষই। যদিও হামলার পর বিধ্বস্ত ভবনের নীচে আটকা পড়েছিলেন তিনি।

পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানায়, আলেপ্পোর পশ্চিমাঞ্চলে সরকারী জোটের বিমান হামলা এখনও অব্যাহত আছে। এদিকে, বেসামরিক নাগরিকদের উপর বিমান হামলার দায় অস্বীকার করেছে সিরিয়া সরকার। তাদের দাবি, বিদ্রোহীদের উপরই এসব হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়াও ঘোষণা দিয়েছে সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

বিদ্রোহী অধ্যূষিত আলেপ্পোর অবরুদ্ধ নাগরিকদের ত্রাণ সহায়তা ও এলাকা ত্যাগের সুবিধার্থে গেলো ১৮ অক্টোবর অস্ত্র বিরতির সিদ্ধান্ত নেয় আসাদ সরকার ও তার মিত্র রাশিয়া। তবে অস্ত্র বিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

জাতিসংঘ বলছে, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সরকারী বাহিনীর বিমান হামলায় ৭শ’ জনেরো বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।