সালাহউদ্দিন আহমেদের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়

0

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় শর্তসাপেক্ষে শিলংয়ে জামিনে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তার কিডনি ও হৃদরোগ বেড়ে গেছে। আদালতের অনুমতি না থাকায় উন্নত চিকিত্সার জন্য শিলংয়ের বাইরে যেতে পারছেন না তিনি। শিলংয়ে থাকা অবস্থায় সালাহউদ্দিন তিনটি ঈদ কাটিয়েছেন। এর মধ্যে গত ঈদুল আজহা স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পেরেছেন। বাকি দুটি ঈদ তাকে কাটাতে হয়েছে অনেকটা নিঃসঙ্গভাবে।

গত ঈদুল আজহায় স্বামীর সঙ্গে ঈদ করতে ৮ সেপ্টেম্বর হাসিনা আহমেদ, সাথে ছেলে ইউসুফ আহমেদ, ইব্রাহিম আহমেদ ও মেয়ে ফরিদা আহমেদকে নিয়ে শিলং যান। প্রায় এক সপ্তাহ শিলংয়ে অবস্থান করে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। এর পর থেকে সালাহউদ্দিন সেখানে একাকী সময় কাটাচ্ছেন।

মাঝেমধ্যে নিজ এলাকার লোকজন, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শিলং গেলে তিনি তাদের সাথে সময় দেন। শিলংয়ে অবস্থানরত সালাহউদ্দিনকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিত সেখানকার পুলিশ কেন্দ্রে হাজিরা দিতে হয়। এ ছাড়া ধার্য তারিখে তাকে হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে।

মামলার জালে শিলংয়ে আটকা সালাহউদ্দিন এতদিন ফেসবুকে সরব থাকলেও প্রায় এক মাস ধরে সামাজিক এ যোগাযোগমাধ্যমে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা বেগম বলেন, সালাহউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।

হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যাসহ পুরনো রোগ বেড়ে গেছে। বাইরে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় আদালতের নির্দেশে শিলংয়েই তার চিকিত্সা চলছে।

সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিলংয়ের আদালতে দায়েরকৃত অনুপ্রবেশের মামলাটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান হাসিনা আহমেদ।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তখন তার পরিবার অভিযোগ করেছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে। ‘নিখোঁজের’ ৬৩ দিন পর ২০১৫ সালের ১২ মে ভারতের শিলংয়ের গলফ লিঙ্ক এলাকা থেকে সালাহউদ্দিনকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ।

অসংলগ্ন আচরণের কারণে প্রথমে তাকে মানসিক হাসপাতালে এবং পরে সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের ফরেনারস অ্যাক্টের ১৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। শিলংয়ের বাইরে যেতে পারবেন না, এমন শর্তে সেই মামলায় সালাহউদ্দিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।