সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি

0

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরীর মহদেহ চট্টগ্রামের রাউজানের পথে। সেখানকার গহিরায় তাঁর পৈতৃক বাড়িতে ইতিমধ্যে কবর খোঁড়া হয়েছে। জানাজার জন্য নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বাড়ির সামনের উঠানে সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরীর জানাজা হবে। আর তাঁকে দাফন করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরীর জানাজা হবে। দাফন হবে পারিবারিক কবরস্থানে। জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাউজানে মোট ২০ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আছে দুই প্লাটুন বিজিবি।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাকা চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই সময়ে আরেক মানবতাবিরোধী অপরাধী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। মুজাহিদ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরীকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সেই ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরপর ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরী। তবে ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পুনর্বিবেচনার ওই আবেদন খারিজ করে দেন।

বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়ে আলবদর বাহিনীর অন্যতম নেতা মুজাহিদকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ১৬ জুন সেই ফাঁসির সাজা বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন মুজাহিদ। ১৮ নভেম্বর ওই আবেদনও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (৬৭) বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংসদ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ (৬৮) বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন।

সালাউদ্দিন কাদের  চৌধুরীর বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। মুজাহিদের বাড়ি ফরিদপুরে।

এর আগে একই ধরনের সাজা কার্যকর করা হয়েছিল জামায়াতের দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের।