সার্চ কমিটির সদস্যদের দলীয় পরিচয় তুলে ধরলেন মহাসচিব

0

ঢাকা: নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে যে ৬ সদস্যর সার্চ কমিটি ঘোষিত হয়েছে সেই কমিটিকে দলীয় কমিটি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ঘোষিত সার্চ কমিটি কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন উপহার দিতে পারবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, দলের অনুগত লোক দিয়ে সার্চ কমিটি একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করবে কীভাবে এটা আমরা কী প্রত্যাশা করবো, জনগণই করে না।

এই কমিটিকে নির্দলীয় কিংবা নিরপেক্ষ বিবেচনার করার কোনো অবকাশ নেই- এমন বলার পর মির্জা ফখরুলের কাছে এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন, তাহলে কি সার্চ কমিটি আপনারা প্রত‌্যাখ‌্যান করছেন?

উত্তরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখানে প্রত্যাখ‌্যান করা বা না করার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন কমিশন যখন গঠিত হবে, তখন এই প্রশ্ন আসতে পারে। আমরা সার্চ কমিটির বিষয়ে আমাদের মতামত বা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন মাননীয় বিচারপতিকে প্রধান করে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগের বার গঠিত অনুসন্ধান কমিটিরও প্রধান ছিলেন তিনি। সেই কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি গঠিত হয়। বর্তমান ইসি অযোগ্য, মেরুদণ্ডহীন, বিতর্কিত। আগের অনুসন্ধান কমিটির প্রধানকে নতুন অনুসন্ধান কমিটির প্রধান করার অর্থ সরকার আরেকটি অনুগত ও অযোগ্য ইসি করতে চায়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী হিসেবে বহুল পরিচিত ছিলেন। তার পিতা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ছিলেন। তার ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ছিলেন। বিতর্কিত সেই নির্বাচনকে নিয়মসিদ্ধ করার পুরস্কার হিসেবে অবসরের পর তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি সরকারের ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক।

অনুসন্ধান কমিটির একমাত্র নারী সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিরীণ আখতার। তার সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, শিরীণ আখতার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচিত। তার বাবা কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। শিরীণ আখতার নিজেও কক্সবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন।

অনুসন্ধান কমিটির আরেক সদস্য বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সরকারে অধীন একজন সরকারি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ। তিনি সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার ক্ষমতা রাখেন না। অর্থাৎ, সরকারের ইচ্ছা পূরণে তিনিও কোনো বাধা নয়।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, এমন একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী ও যোগ্য ব্যক্তিগণ আগামী নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য হবেন, এমনটা আশা করারও বাতুলতা মাত্র।’

‘আমরা এই ঘটনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সরকারি ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে হুঁশিয়ারি হতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানাচ্ছি,’ বলেন তিনি।

সার্চ কমিটি পুনর্গঠনের কোনো আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘না, আমরা কোনো আবেদন করব না’।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত নামের তালিকা দেখে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কমিটিকে আওয়ামী লীগের পছন্দের সার্চ কমিটি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।