সারাদেশে চলছে গণগ্রেফতারের লীলাখেলা,৫ দিনেই গ্রেফতার ৫০০০!!!!!

0

জিসাফো ডেস্কঃ সমগ্র বাংলাদেশেই যেন গণগ্রেপ্তারের লীলাখেলা চলছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু করে গত পাঁচ দিনের অভিযানে ৫ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে বন্দী করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বন্দীদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ তৃণমূলের দুই হাজার বিএনপির নেতাকর্মী রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর সংখ্যা বিএনপির চেয়েও বেশি। তবে সরকার বিরোধীদের গ্রেপ্তারের নামে নির্দলীয় সাধারণ মানুষও টার্গেট হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাশকতার পৃথক মামলায় নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে গেলে সম্প্রতি জেলে পাঠানো হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে।

একইভাবে জেলে পাঠানো হয় যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুর রহমান তোতন, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নগর সভাপতি মারুফুল ইসলামসহ ৬ জনকে। ওই মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামকেও।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান ও নোয়াখালী যুবদলের সভাপতি ভিপি জসিম উদ্দিনকে।

গতকাল সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মী অন্তত ৬৪৪ জন।

চলতি মাসেই বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহ্সান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায়, আগামী ডিসেম্বরে পৌর ও মার্চে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিরোধীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলবে। অভিযানে পুলিশকে সহায়তা করবে র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড। তবে বিশেষ নজর থাকবে ঝুঁকিপূর্ণ ২৩টি জেলায়। এসব জেলায়ও গত বছর তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। তবে বাণিজ্য হচ্ছে এমন অভিযোগ সত্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের শেষের দিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা, অগ্নিসংযোগসহ তাণ্ডবলীলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর অভিযোগপত্রে নাম আসা আসামিদের গ্রেপ্তার এবং যারা আবার নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মূলত তাদের গ্রেপ্তারেই এই অভিযান।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, সিভিল প্রশাসন বিশেষ করে সরকার যতদিন চাইবে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বিজিবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। তবে বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব জেলায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ওই জেলার প্রতি বিশেষ নজর থাকবে। যৌথ অভিযানে পুলিশই সমন্বয় করছে বলে জানান তিনি।

বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, আসন্ন পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে বিএনপি জোটের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের খড়গ নেমে আসছে। সম্ভাব্য জনপ্রিয় প্রার্থীরা যাতে নিজ নিজ এলাকায় না থাকতে পারেন, সেজন্যই দেশজুড়ে চলছে ধরপাকড়।

বিএনপি নেতারা আরো বলছেন, নেতাদের না পেলে কর্মী-সমর্থক কিংবা পরিবারের সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তা ছাড়া বিএনপিকে সুসংগঠিত হতে দিতে চায় না সরকার। দেশজুড়ে চলা পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাধা দিতে চায় সরকার। তাই ধরপাকড়ের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়কে ঘিরে সরকার গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে বলেও বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করেন।

গণগ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিএনপির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘গত কয়েক দিনে বিএনপির দুই হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক মন্ত্রী বলেছেন, ‘ক্রিমিনালদের ধরা হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ক্রিমিনাল বলে গণ্য করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এ ধরনের মনোভাব উগ্র ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়। বিরোধী দলকে নিঃশেষ করার যে অশুভ প্রক্রিয়া সরকার গ্রহণ করেছে, তা গণতন্ত্রকে আরও বিপন্ন করে তুলবে। বিরোধী মত সরকার একেবারেই সহ্য করতে পারছে না। তাই দেশ এখন রাজনীতিশূন্য হয়ে পড়ছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা যাতে অংশ না নিতে পারেন, সেজন্য সারা দেশে গণগ্রেপ্তার চলছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত।’

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহ্মুদ খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই মূলত পুলিশ, বিজিবি এবং এলিট ফোর্স র্যাআব অভিযান চালাচ্ছে। সাধারণ ও নিরীহ কোনো মানুষ যাতে ধরপাকড়ের শিকার না হয় এ ব্যাপারে র্যা ব সদস্যরা সচেতন রয়েছেন। জনগণের জান-মালের সুরক্ষার স্বার্থে এবং নাশকতা চালাতে পারে এমন যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই এ অভিযান।