সারাদেশে আজ খুন-সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে, ফখরুল ইসলাম

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পার্লামেন্টে বলা হচ্ছে বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিবন্ধন বাতিল করা হোক। একদিকে বলা হয় বিএনপি’র শক্তি নেই। আবার বলে বিএনপি’র সক্ষমতা নাই। তাহলে নিবন্ধন বাতিল করতে চায় কেন? কারণ তারা জানে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।

শক্রবার বিকেল ৪টায় ঠাকুরগাঁও শহরের হাওলাদার গেস্ট হাউজে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জেলা বিএনপি’র নেতা-কর্মীরাসহ অন্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কানাডার আদালতে কোনও একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্নে কী রায় দিলো, তার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কোনও সম্পর্ক নেই । বলা হচ্ছে, কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে রায় দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি কখনই সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনি। বরং আওয়ামী লীগই সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে। আওয়ামী লীগের লোকেরা বাবাকে দিয়ে ছেলের মাথা কাটিয়ে সেটা দিয়ে ফুটবল খেলিয়েছে। তারা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ২৩ হাজার কিশোর-তরুণ-যুবকের জীবন কেড়ে নিয়েছে।’

ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেমির্জা আলমগীর। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য সরকার কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং সিইসি নিয়োগ দিতে বিরোধী দলগুলোর মতামতের কোনও তোয়াক্কা করা হয়নি। এই পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল শাখার সাবেক সভাপতি। সচিব বা উপসচিব হওয়ার কোনও যোগ্যতাই তার নেই। কেবল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে জেতানোর জন্যই তাকে সিইসির গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন ছাড়া কোন কিছু বুঝি না। আমরা জনগণের কাছে যাবো, জনগণ আমাদের পছন্দ করলে ভোট দেবে আমরা সরকার গঠন করবো রাষ্ট্র পরিচালনা করবো। ভোট না দিলে বিরোধী দলে থাকবো। আমরা চাই একটি সুষ্ঠ নির্বাচন। যেখানে সকল দলের অংশগ্রহণ থাকবে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যদি গায়ে জোরে ক্ষমতাকে পাকাপক্ত করার জন্য যদি কোন নির্বাচন করা হয় তবে সেই নির্বাচন এদেশের মানুষ মেনে নিবে না। আমাদের এখন ঐক্যের প্রয়োজন। সকল দলমত ব্যক্তি সংগঠনকে নিয়ে আমাদের অধিকারকে ফিরে আনতে সংগ্রাম করতে হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘সারাদেশে আজ খুন-সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এমপি লিটনের খুন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তাদের মহাজোটের সাবেক একজন এমপিকে এই খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার আলামতসহ গ্রেফতার করা হচ্ছে। এখন সারাদেশে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ নিজেদের কর্মীদেরই খুন করছে। তাদের সন্ত্রাস দেশের মানুষ আর বেশিদিন সহ্য করবে না।’

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পৌর মেয়র মির্জা ফয়সাল আমীন, শাহেদ কামাল চৌধুরী, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রমুখ।