সাম্প্রতিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লুইকানের নকশা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের আত্নঘাতী অর্থনৈতিক বিপর্যয়

0
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে বহুল সমালোচিত বিষয় হিসেবে রয়েছে ‘লুই আই. কান’ এর নকশা।

‘লুই ইসাডোর কানবা’ যা কে সংক্ষেপে ‘লুই আই. কান’ বলা হয়ে থাকে। একজন পৃথিবী বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি যিনি এস্তোনীয় ইহুদীবংশোদ্ভূত, এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন এর স্থপতি হিসেবে পরিচিত।“সাম্প্রতিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লুইকানের নকশা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের আত্নঘাতী অর্থনৈতিক বিপর্যয়”

লুইকানের নকশা বাস্তবায়নে আমাদের কোন কল্যান হবে না বরং এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং রাষ্ট্রীয় আভ্যন্তরীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং পাকিস্তানি প্রেত্নাতার অসমাপ্ত পরিকল্পনা বাস্তবয়ন হবে। কেননা-
“লুইকানের নকশা বাস্তবায়ন এদেশের সাধারন মানুষের জন্য কোন কল্যান বয়ে আনবে না। দেশের কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে লুইকানের নকশা বাস্তবায়নে লাভবান হবে এক শ্রেনীর সুশীল গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক মহল।”

লুইকানের নকশা বাস্তবায়ন ঘটা মানে পাকিস্তানি প্রেত্নাতাদের স্বপ্ন এবং অসমাপ্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ঘটা। কেননা-

১৯৬১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার আদলে বর্তমান সংসদ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই সময় স্থপতি মাজহারুল ইসলামকে এই ভবনের স্থপতি নিয়োগ করা হলেও, তার প্রস্তাবেই লুই আই কান এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি হিসেবে নিয়োগ পান।


প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার আদলে বর্তমান সংসদ ভবন নির্মাণের কাজ লুই আই কানের মূল নকশার প্রথম ধাপ ছিল, ২০৮ একর জায়গার ওপর জাতীয় সংসদ ভবন নির্মাণ। যার সামনে ও পেছনে থাকবে বিস্তীর্ণ সবুজ খোলা মাঠ। চারদিকে আট লেনের সড়ক, মাঝখানে লেক। দ্বিতীয় ধাপে লেকের পর বিস্তীর্ণ সবুজ। এছাড়া বাকি জায়গায় গড়ে তোলা হবে সচিবালয়, লাইব্রেরি, জাদুঘর, হাসপাতালসহ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিকবলয়।পাকিস্তানি প্রেত্নাতাদের হাতেই প্রাথমিক ভিত্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল লুই আই কানের সেই নকশার প্রারম্ভিক বাস্তবায়ন।
লুইকানের নকশা বাস্তবায়নে স্থানন্তর পক্রিয়া আবশ্যক, যার মধ্যে স্থানান্তর তালিকায় উল্লেখ্য-

পঁচাত্তর-পরবর্তী সময় থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত আটজন নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় কবর দেয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে পাঁচ বিঘা জমিতে ‘জাতীয় কবরস্থান’ নাম দিয়ে সাত জনকে সমাহিত করা হয়। তারা হলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খান। এ আটটি কবর ছাড়া শেরেবাংলা নগরে আছে লুই কানের নকশাবহির্ভূত আরও সাতটি স্থাপনা। এগুলোর মধ্যে বড় স্থাপনা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি) এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন। এর বাইরে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরের চারদিকে থাকা চারটি প্রবেশপথের শুরু বা শেষ প্রান্তে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সম্মেলন কেন্দ্র ও মসজিদসহ চারটি স্থাপনা।

1_339015

এসকল স্থাপনা সমূহ স্থানান্তরে ব্যয় হবে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা, যা হত দরিদ্র উন্নয়নশীল একটি রাষ্ট্রের জন্য বয়ে আনবে আত্নঘাতী অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সমীকরনে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে সময়ের স্রোতে অদূর ভবিষ্যতে পুনঃরায় স্থানান্তরের মাধ্যমে পুনঃস্থাপন ঘটতে পারে জাতীয় কবরস্থানগুলো।এতে আবারো কোটি কোটি টাকা ব্যায় হবে রাষ্ট্রের।


এছাড়াও বলা বাহুল্য যে,-
লুইকানের নকশা যাচাই করনে বাংলাদেশ সরকারের ব্যায়ের পরিমান সাড়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার। এবং আনুষঙ্গিক হিসাবে ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি খরচ রয়েছে। মূল নকশা সংগ্রহের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়।

আমরা সেই বাংলাদেশ যে বাংলাদেশ দু বেলা দু মুটো ভাতের অভাবে বলতে বাধ্য ছিলাম,-
‘ভাত দে হারামজাদা নয়তো মানচিত্র খাবো’।
আমরা এই বাংলাদেশ যে বাংলাদেশ এখনো বলে,-
‘আমি ধর্ম বুঝি না, আমি আধুনিকতা বুঝি না, আমি শুধু বুঝি যে আমি ক্ষুধার্ত।

আমরা এই বাংলাদেশ যে বাংলাদেশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লড়াইয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় করে বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে থাকি।
‘জাতীয় সচিবালয়’ স্থাপনার নামে মসজিদ ভাঙ্গন মৃত ব্যাক্তির কবর ভাঙ্গন কখনোই সুস্থ স্বাভাবিক মস্তিষ্কে মেনে নেয়া যায় না। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয়ে সরকারী এবং রাজনৈতিক আদার ব্যাপারীদের স্বার্থ উদ্ধার অপেক্ষা রাষ্ট্রের হত দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা হোক, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতির চাকা সচল করা হোক।আমরা কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে লুইকান চাই না, আমরা অর্থনৈতিক অভাব অনটন থেকে মুক্তি চাই।

লেখা
জগৎ শেঠ