জিয়া সাইবার ফোর্সের বিরুদ্ধে দেশী -বিদেশী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র

0

সময়টা খুব কঠিন ছিল,আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনরত নেতাকর্মী দের খুন,গুম গ্রেফতার, আওয়ামীদের সাজানো প্রোপাগান্ডা, ইতিহাস বিকৃতি এসব ছিল রোজকার ঘটনা।আন্দোলনের খবর গুলো কে বিকৃত করে এবং সরকারের পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গুলোকে বিএনপির ঘাড়ে চাপানোটাই ছিল বাকশাল নিয়ন্ত্রিত,হলুদ সাংবাদিকতায় জড়ানো মিডিয়ার মুখ্যকাজ। পশ্চিমবঙ্গের অখ্যাত কোন এক বিজেপি নেতাকে দিয়ে সরকারের গুনগান গাইয়ে পাব্লিসিটি করা ভারত আওয়ামীলীগের সাথে আছে,এরকম কাজেই ব্যস্ত ছিল চুন্নী শাহা, জ ই মামুনদের মত দালালরা। জাতীয়তাবাদী আদর্শ,প্রজ্ঞা, সফলতা গুলোকে ম্লান করার লক্ষ্যে বাকশাল নেত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে মিডিয়া অপপ্রচার শুরু করে তীব্র ভাবে। তারুন্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের সুস্পষ্ট ও প্রজ্বলিত সূর্যের মত অগ্নিগর্ভ বক্তব্যগুলো মিডিয়া খুব সুকৌশলে আদালতের মাধ্যমে রায় দিয়ে প্রচার নিষিদ্ধ করালো।

সেই মুহূর্তে জাতীয়তাবাদীরা থেমে থাকেনি। লড়ে গেছে,সিপি গ্যাংসহ আওয়ামী প্রচার সংগঠন গুলোকে দুর্বার ভাবে যৌক্তিক আক্রমনে ভেঙ্গে দিয়েছে মেরুদন্ড। শ্রদ্ধাভরে স্মরন করি তৎকালীন সেই সকল যোদ্ধাদের যাদের ত্যাগ,শ্রম,রাতের পর রাতের ঘুম বিসর্জনের কল্যানে আজকের জাতীয়তাবাদী প্ল্যাটফর্ম গুলো সক্ষম হয়েছে সরকারের প্রতিটি অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে।২৫ ফেব্রুয়ারির নির্মম সেনা হত্যা থেকে শুরু করে ব্যাংক লুট- এরকম লাখো দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচিত করেছে এবং সারাবিশ্ব ব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন নামে বা সাংগঠনিক রুপে।

আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরন করি Z Force – জেড ফোর্স সাইবার ট্রুপার্স দের সেই বীরত্বগাথা ইতিহাসকে, যাদের সাবলীল ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আজকের জাতীয়তাবাদ অনলাইনকে এক নতুন রুপে রুপায়িত করেছে।

কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরন করছি BNP Media Wing-বিএনপি মিডিয়া উইং এর সাবেক কুশীলবদের,যাদের তড়িত গতিতে সংবাদ প্রচারনা অনলাইনকে দিয়েছিল এক নতুন গতি।

স্মরন করছি সেই সকল অনলাইন গ্রুপ, পেজ ও কুশীলবদের যাদের অক্লান্ত শ্রম,মেধা আর অসমসাহসীকতায় আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমুন্নত শির রয়েছে জাতীয়তাবাদের।

 

জিয়া সাইবার ফোর্স – Zia Cyber Force এটা গঠনের ইতিহাস টা মনে পড়লেই মনে উকি দেয় অনেক কথা, কোনটা আনন্দ মিশ্রিত কোনটা বেদনাভরা। মনস্পটে ভেসে ওঠে, খুব ঘন ঘন পোস্ট দেবার কারনে আমাকে একটি পাব্লিক গ্রুপ থেকে একজন সেলিব্রেটির (নাম প্রকাশ করতে চাইনা) ব্লক করে দেবার ঘটনা, মনে পড়ে তৎকালীন সেলিব্রেটিদের ইনবক্সে অনুরোধ করে প্রায় পা জড়িয়ে ধরার ঘটনাগুলো। উদ্দেশ্য একটাই, একটা সুসংগঠিত জাতীয়তাবাদী প্ল্যাটফর্ম গঠন করা, যা হবে স্বেচ্ছাসেবী, ডেস্পারেট, স্বনির্ভর এবং রাজপথ ও অনলাইন উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করবেন। মহান আল্লাহ পাকের নামে শপথ করে বলছি, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব Mohammad Abdul Aziz Majumder, Sameer Rayhan, Mirza Saabআমি বিদ্রোহী এই চারজনের কাছে, কারন তখন সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেও এই চারজন আমাকে ঠিকই সাহায্য করেছিলেন আজকের এই সংগঠন গঠনে। এই সংগঠনে অনেকে অনেক সময় দিয়েছেন, আবার নিজের মেয়েকে আদরে বড় করে সেই মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে ধর্ষণের মত নিচু কাজও করেছেন এই সংগঠনের থেকে বেরিয়ে যাওয়া অনেকেই। যাক সে কথা,তাদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরে বিব্রত করতে চাইনা। তবে তাদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথাই বলব, ফাইজাল এস খান এর সবকিছু নিয়ে আপত্তি দিয়ে, তাকে নির্বোধ বা অনলাইনে শিশু এসব কিছু বলে লাথি মেরে বের করে দেবার বহু ডায়লগ দিলেও আজ এই দু বছরেও দেখিনাই “জিয়া সাইবার ফোর্স” এর মত একটা সুসংগঠিত সংগঠন না পেরেছেন গড়তে, না পেরেছেন এই গ্রুপের মত অফলাইনে জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলতে।আঙ্গুল তোলার আগে একটা জিনিস মনে রাখবেন, আঙ্গুল একটা অন্যার দিকে তুললে নিজের দিকে ৪ টা থাকে। প্রতিহিংসার ও বেঈমানির সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে ১৫ এপ্রিল ভোর রাতে, গ্রুপের একজন মোস্ট সিনিয়র এডমিন দ্বারা। ব্যক্তি হিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামের উপর নগ্ননারীর ছবি বসাতেও নুন্যতম কুন্ঠাবোধ করেনি সেদিন। গ্রুপের তৎকালীন সিনিয়র ও মহিলা এডমিন দিপা হাসেম ও আমার ছবি নিয়ে ফটোশপ ও আইডি ক্লোনিং করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ সকল কাজ ও করিয়েছেন সেই সাবেক জাতীয়তাবাদী সহযোদ্ধা। আগের গ্রুপটি তার এই নগ্ননারীর ছবি প্রীতির কারনে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়। ভেবেছিলাম অনলাইন ছেড়ে দেব। রাজপথের লোক রাজপথে চলে যাব।

তারপর………

“হোচট খেয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু থেমে যাইনি, হেরে যাব বলে তো স্বপ্ন দেখিনি” –

দিনবদলের প্রত্যয় নিয়ে ছুটেচলা গন্তব্যহীন পথে সেই শুরু থেকেই পেয়েছি Wahiduzzaman স্যার Shohidul Islam Babul ভাই Wahid Un Nabi ভাই, Enamul Haque Liton ভাই, Shafik Riblu ভাই, Mamun Khan ভাই, K M Nazmul Haque ভাইদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সহযোগীতা। তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েই আবার ফেরা এবং ছুটে চলা।

রক্তঋণে বাধা আমাদের বন্ধন, যেখানে আমরা অনেকেই একটা পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ। কস্ট লাগে হারিয়ে ফেলা মানুষ গুলোকে ভেবে, যারা হয়তো নিতান্ত ভুলবুঝে বা ব্যক্তি স্বার্থের কারনে সংগঠন ছেড়েছেন। সবচেয়ে বেশী কস্ট লাগে আমার হারিয়ে ফেলা সবচেয়ে কাছের একজন মানুষের কথা ভেবে যার অনুপস্থিতি আমাকে প্রতিটি মুহূর্ত পীড়া দিচ্ছে। সাংগঠনিক দ্বায়বদ্ধতার কাছে আমার ব্যক্তি আবেগকে আমি প্রশ্রয় দেইনি দেবোনা। তবে সত্যি বলতে দ্বিধা নেই যে তার অনুপস্থিতি আমাদের অনেকের জন্যই অনেক বেশী কষ্টের। কারন জিয়া সাইবার ফোর্স এর প্রায় সকল ব্রিগেড মেম্বারসই অনেক টা পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায় কাজের মাধ্যমে,তাই জমে থাকা স্মৃতিও অনেক বেশী।

আর এই পারিবারিক বন্ধন নিয়েই আমরা সফলভাবে পরিচালনা করেছি চারটি সেমিনার।

২০১৬ সালের মার্চে জিয়া সাইবার ফোর্সের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রিজার্ভ চুরি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লুটের একটি সেমিনার করে জিয়া সাইবার ফোর্স।

একই বছরের অক্টোবর মাসে তনু হত্যাকান্ড ও নারী নির্যাতনের উপর একটি সেমিনার করে জিয়া সাইবার ফোর্স।

এছাড়াও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ও সুন্দরবনকে বাচানোর জন্য সেমিনার করে জিয়া সাইবার ফোর্স।

সর্বশেষ এই বছরের মার্চ মাসে গ্যাসের অযাচিত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সেমিনার করে জিয়া সাইবার ফোর্স।

 

থাক কিছু না বলা কথা,কিছু অব্যাক্ত অভিমান, ভালোলাগা মন্দ লাগা। সবকিছু মিলিয়েই আমরা মানুষ, আমাদের সংগঠন, সাংগঠনিক কাজ, হাসি, কান্না, আনন্দ, বেদনা , ঝগড়া, ভালোবাসা, মান অভিমান মিলিয়েই আমাদের একটা সংগ্রামী পরিবার, যে পরিবার গর্বিত একটা কারনেই -এখানে সবাই নির্ভেজাল জাতীয়তাবাদী, নিঃস্বার্থ ভাবে দলের কর্মী, এবং দেশপ্রেমিক।

হয়ত আমি থাকবোনা, আমরা থাকবোনা, কিন্তু সংগঠন টিকে থাকুক মাথা উচু করে,দেশের কাজে,দলের কাজে, মানুষের জন্যে।

কিন্তু কথায় আছে সততা আর নিষ্ঠাবানদের সাফল্যকে আশেপাশের অনেকে সহ্য করতে পারে না।হিংসা ,প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে প্রতিনিয়তই তাদের খারাপ বানানোর,এক প্রকার অপবাদ,মিথ্যা বানোয়াট অপবাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত হয়।

জিয়া সাইবার ফোর্সের বিরুদ্ধেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি।জিয়া সাইবার ফোর্স আজ জাতীয়তাবাদী অনলাইন ও অফলাইন ইতিহাস এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।কিন্তু জিসাফোর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সফলভাবে পাড়ি দিয়ে আসছে স্বমহিমায়।

২০১৬ সালের ১৪-১৬ এপ্রিল ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনা অনলাইনের সকল নোংরামি ,সকল কিছুকে হার মানায়।সেদিনের কথাগুলাকে ভুলতে ভুলতেই এই বছরেও সেই একই গোষ্ঠী নবরূপে আবারো জিয়া সাইবার ফোর্সের বিরুদ্ধে লেগেছে।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল, জিয়া সাইবার ফোর্স প্রতিনিয়ত ফ্যাসিবাদী সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা রাখছে আর জিয়া সাইবার ফোর্সের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখছে নিজ দলেরই অনলাইন একটিভিটিষ্ট থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিএনপির লেবাসধারী কিছু জামায়াতমনা নেতা।

আরেকটি অবাক করা তথ্য হল,জিয়া সাইবার ফোর্সের বিরুদ্ধে খোদ লন্ডন,জার্মানি,আমেরিকার কিছু লেবাসধারী নেতারাও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।এছাড়া দেশের ভিতর একাধিক সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ও জিয়া সাইবার ফোর্সের ধ্বংসে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে তাদের উদ্দেশ্য একটা কথা, জিয়া সাইবার ফোর্স সবসময় অন্যায়ের কাছে মাথানত করে নি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।সকল ষড়যন্ত্রকে সফলতার সাথে মোকাবিলা করতে জিয়া সাইবার ফোর্স দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

জিয়া সাইবার ফোর্স কখনও ব্যক্তি প্রচারণায় বিশ্বাসী নয়,জিয়া সাইবার ফোর্স সবসময় দলের জন্য,দেশের জন্য।দেশের তরে সদা প্রস্তুত।