”সাংগঠনিক দুর্বলতা, নির্বাচন এবং ব্যবসা -ত্রিমুখী সমীকরনেই বিএনপির দূর্দশা”

0

একটু পিছন ফিরে তাকনো যাক। গতবছরে অনুষ্ঠিত হয় তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন,দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন । এছাড়াও পৌরসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয় গতবছর।

এক নজরে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন সমীক্ষা ২০১৫ঃ

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৫ঃ

ঢাকা দক্ষিনমোট কেন্দ্র: ৮৮৯ , আওয়ামীলীগ– ৪,৫৭,৯৫৬ ভোট ,বিএনপি– ২,৪৯,৩৬০ ভোট

ঢাকা উত্তরমোট কেন্দ্র: ১০৯৩,আওয়ামীলীগ– ৩,৬৭,৮২৪ ভোট,বিএনপি– ২,৫৪,৯৬৭ ভোট

চট্রগ্রামমোট কেন্দ্র: ৭১৯,আওয়ামীলীগ– ৪,৭১,২২০ ভোট, বিএনপি– ৩,০২,৭১৭ ভোট

পৌর নির্বাচন- ২০১৫ঃ

পৌরসভা- ২২৭টি  আওয়ামীলীগ– ১৭৭টি, বিএনপি– ২২টি

এবার আসা যাক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। বাংলাদেশের সবচেয়ে মাঠ পর্যায়ের ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন হল ইউপি নির্বাচন। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে নিরবাচন। কয়েকটি ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই নিরবাচন।ইতোমধ্যে তিনটি ধাপ সম্পন্ন হইছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে ইউপি নির্বাচন ২০১৬ঃ

১ম ধাপ– ৬৮৩ (ইউপি) ২২ মার্চ ,আওয়ামীলীগ– ৫৩৬টি,বিএনপি– ৪০টি

২য় ধাপ– ৫৪১(ইউপি) ৩১ মার্চ,আওয়ামীলীগ– ৪০৭টি,বিএনপি– ৫৬টি

৩য় ধাপ– ২৩ এপ্রিল,৪র্থ ধাপ– ৭ মে, ৫ম ধাপ– ২৮ মে, ৬ষ্ঠ ধাপ– ৪ জুন

(২০১৫-২০১৬) যাবতীয় সকল নির্বাচনের সামগ্রীক অবস্থান বিশ্লেষন করলে দেখা যায় ফলাফল এর প্রেক্ষাপটে বিএনপি ভরাডুবির মিছিলে যোগ দিয়েছে। বিএনপির এই ব্যার্থতার অন্যতম প্রধান কারন হিসেবে বর্তমান (ইসি)র নিরব ও এক পাক্ষিক অবস্থান কে দায়ী করা হলেও মূলত দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ই সকল নষ্টের মূল।

(২০১৫-২০১৬) বিগত সকল নির্বাচনে বিএনপি দল টি প্রার্থিতা নির্বাচনে বহুল সমালচনার তোপে পড়েছে, যার বাস্তবত প্রভাব দেখা যায় দলটির তৃনমূল প্রাঙ্গণে। নির্বাচন কে ঘিরে তৃনমূল থেকে কয়েকটি অভিযোগ বারংবার আগুনের ফুল্কির মত ফুঁসে উঠতে দেখা যায়।
যেমনঃ-

– টাকার বিনিময়ে নির্বাচনের প্রার্থিতা বাছাই করা।

– দলটির রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন লোকদের প্রার্থীতা দেয়া।

– স্বজনপ্রীতি বা সুসম্পর্ক রক্ষার্থে সাবেক আওয়ামী নেতাদের প্রার্থিতা দেয়া।

– নির্বাচন কে কেন্দ্র করে দলীয় ফান্ডের টাকা সিন্ডিকেট হয়ে ভোগ করে শেষ সময়ে প্রার্থীর নির্বাচন থেকে অহেতুক কারন দেখিয়ে পিছু হটা।

-সাবেক রাজনৈতিক পারফরম্যান্স আর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের হিসেব সমীকরনে অসতর্কিত ভুলের জন্য ত্যাগী ও কর্মঠ দের মূল্যায়নে ব্যর্থতা।

মূলত সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রভাবেই আজ বিএনপির দুর্দশা। বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখনো আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন- ২০১৬, (৬ষ্ঠ ধাপ- ৪ জুন) কে কেন্দ্র করে টাকা নিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের অভিযোগে, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে তৃণমূল কর্মীরা।

উল্লেখ্য আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে টাকার বিনিময়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই করার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই অভিযোগ এনে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবিদ হোসেন ও তাঁর সমর্থকেরা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

আবিদ হোসেন দাবী করেন যে, তিনি ‘বিএনপির আদর্শে বিশ্বাস করে ও দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত—এমন লোক বাছাই করলে আমার কোনো দুঃখ ছিল না। কিন্তু টাকার বিনিময়ে বিএনপির রাজনীতিতে “উড়ে এসে জুড়ে বসা” এমন লোককে বাছাই করা হয়েছে।

অন্য দিকে উত্তরগ্রাম ইউপিতে স্থানীয়ভাবে বাছাই করা বিএনপির প্রার্থী আবু হাসান বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ আখতার হামিদ সিদ্দিকী দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করেছেন। দলে কোনো পদ না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় জনপ্রিয়তা আছে বলেই আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

চান্দাশ ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে সাত হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় আমি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

বিএনপির আরেক নেতা হাসানুজ্জামান বাবু দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘দল করে না এমন একজনকে টাকার বিনিময়ে আমার ইউপি এনায়েতপুরে বাছাই করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আমি কোনোভাবেই মানতে পারছি না।

চেয়ারম্যান পদে টাকার বিনিময়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই করা কে কেন্দ্র করে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, চান্দাশ ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, এবং তৃণমূল কর্মীদের সম্মেলিত বিক্ষোভ ও অভিযোগের এর প্রতি উত্তরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার ‘আখতার হামিদ সিদ্দিকী’ বলেন, এখন পর্যন্ত সাতটি ইউপিতে দলীয় প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটির সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

উপরের কথাগুলো বলার একটাই কারণ ও উদ্দেশ্য , নির্বাচন হবে,প্রার্থী হবে সব ঠিক আছে তবে কিন্তু টাকার কাছে যেন কেউ বিক্রি না হয় এবং প্রার্থিতা না পায় দলের হাইকমান্ডের প্রতি এই আবেদন ও আর্জি রইল।দলীয় হাইকমান্ড যদি এই লেখার একটুও প্রতিফলন ঘটান তবে আমি মনে করব যে আমার লেখা সার্থক ,তৃনমূল কর্মীরা সার্থক । সর্বোপরি দলের জন্যও তা মঙ্গলজনক।

লেখাঃ সামীর রায়হান