সরকার বিচারপতিদের আচরণ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে : বিএনপি

0

জিসাফো ডেস্কঃ সরকার বিচারপতিদের আচরণ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এটি হলে সংবিধানের সর্বশেষ স্তম্ভটুকুও বিলীন হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনস্থ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে নিতে সম্প্রতি নতুন আইন পাশ করেছে মন্ত্রীসভা। এর ফলে বিচারপতিদের অভিশংসন ও অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে এখন জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত হবে।

বিচারপতিদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ও তাদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন করতেই একটি কালো আইন পাশ করলো সরকার। এটি স্বাধীন বিচারকার্য পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করবে এবং মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ভীতিকর। চাপ সৃষ্টির জন্যই এটি করা হচ্ছে। বিচারপতিরা যেন সরকারের ইচ্ছামতো কাজ করে সেজন্যই এই আইন করা হচ্ছে। এই আইন কার্যকর হলে ন্যায়বিচার শিকেয় উঠবে। এই আইন পাশের মাধ্যমে সরকার বিচার ব্যবস্থাকে বিরোধী দলসহ গণমাধ্যম এবং গণতন্ত্রে স্বীকৃত সকল অধিকারকে আরো নিষ্ঠুরভাবে দমন করতে সক্ষম হবে। এই ভোটারবিহীন সরকার প্রধানের ক্ষমতার প্রতি নিবিড় নিবিষ্ট ধ্যানকে কেউ যেন নাড়া দিতে না পারে সেইজন্যই এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। এই আইন প্রণয়নের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে ক্ষমতার মসনদকে নিষ্কন্টক করা এবং তাদের প্রতিপক্ষকে তুলোধুনা করা।

রিজভী বলেন, সম্প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের তিন জন মন্ত্রী উচ্চ আদালতে দন্ডিত হওয়ায় সরকারের মধ্যে একধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর সে কারনেই তড়িঘড়ি করে বিচারপতিদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই নতুন আইন পাশ হতে যাচ্ছে বলে বিএনপি মনে করে।

ড. ওসমান ফারুককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ ধরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারের এ ধরণের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সরকার আবারো গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। যা জনমনে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে এ নিয়ে মন্ত্রীসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এখন তা সংসদে পাশ করার প্রক্রিয়া চলছে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণের এই আইন পাশ করা হলে সংবিধানের সর্বশেষ স্তম্ভটুকুও বিলীন হয়ে যাবে। সরকার জনপ্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকল সংস্থায় নিজেদের লোক বসিয়ে সবকিছুকে আওয়ামীকরণ করায় একদলীয় শাসনের নির্মম যাঁতাকলে দেশবাসী পিষ্ট হয়ে হাহাকার করছে। একতরফা শাসন কায়েম করতে গিয়ে সকল সেক্টরকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন তারা বিচার বিভাগকে তাদের আয়ত্ত্বে নিয়ে দু:শাসনকে দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা নিশ্চিত করতে চায়।

রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারের এ ধরনের ঘৃন্য পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

তার ওপর গণমাধ্যমকে আরো বেশী মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে মিডিয়া মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গতকাল জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা। এর আগে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমেও গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকি দেশীয় গণমাধ্যমের বিকাশের নামে বিদেশী গণমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণের সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ কোন আলামত! এটা পরিস্কার যে, লক্ষণ শুভ  নয়।