সরকার বিএনপি’র বলিষ্ঠ নেতাকর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করার মিশন নিয়ে কাজ করছে

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া খুলনা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক, ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, “দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার মাধ্যমে হাত রক্তে রঞ্জিত করে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে এখন গোরস্থানে পরিণত করা হয়েছে। শহর, গ্রামসহ দেশের জনপদের পর জনপদে মানুষ হত্যার মহাযজ্ঞ যেন থামছেই না। সন্তানহারা পিতা-মাতা, স্বামীহারা স্ত্রী ও পিতাহারা সন্তানদের আহাজারীতে প্রতিদিনই আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল-বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা করে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জায় রাখাই এখন আওয়ামী রাজনীতির সংস্কৃতি। এই সরকার বিএনপি’র বলিষ্ঠ নেতাকর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করার মিশন নিয়ে কাজ করছে, আর সেই মিশনেরই নিষ্ঠুর শিকার হলেন সরদার আলাউদ্দিন মিঠু। মিঠুকে নির্মম কায়দায় হত্যা সরকারের ধারাবাহিক প্রাণঘাতি নৃশংসতারই আরেকটি বহি:প্রকাশ।

তিনি বলেন, দেশকে গণতন্ত্রশুণ্য করার জন্যই আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ডিঙ্গিয়ে গণসম্মতি উপেক্ষা করে চরম সীমা লঙ্ঘন করে চলেছে, আর এই সীমালঙ্ঘনের কারনে ঝরে যাচ্ছে বিরোধী দলের অনেক প্রতিবাদী নেতাকর্মীর প্রাণ। সরকারের বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে যাতে এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সমাজের মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করে এবং কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। সেজন্যই সরকারের পুলিশ বিএনপির কোন সমাবেশ বা কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে অনুমতি দেয় না।

খালেদা জিয়া বলেন, নিরঙ্কুশ ক্ষমতা স্বৈরাচারী শাসককে খুন এবং গুমে উৎসাহিত করে-যাদেরকে তারা নিজেদের প্রতিপক্ষ মনে করে। তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে আরো লোভী হয়ে উঠে, এজন্য সাংবিধানিক বা আইনী বাধাকে তারা অগ্রাহ্য করতে থাকে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতার মোহে অন্ধ, বেপরোয়া ও মানবিকবোধশুণ্য হয়ে পড়েছে। দুর্বিনীত অনাচার ও প্রতিদিন হত্যাকান্ড সংঘটিত করে দেশকে এক মহা দুর্যোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী।

তিনি আরো বলেন, রক্তপাত ঘটিয়ে জীবন কেড়ে নিয়ে ভীতির সৃষ্টি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবেনা। জনগণ আর বসে থাকবে না, দু:শাসন মোকাবেলায় অব্যাহত রক্তপাতের কর্মসূচিকে সম্মিলিত শক্তি দিয়ে জনগণ প্রতিহত করবে। তিনি  সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্মমভাবে নিহত সরদার আলাউদ্দিন মিঠু’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকে কাতর পরিবারবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান ।”

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খুলনা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক, ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু হত্যার ঘটনায় ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মিঠু বিএনপি’র একজন বলিষ্ঠ নেতা হওয়ায় তাকে প্রতিহিংসাবশত: পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। সরকারের মদদেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। এধরনের কাপুরুষোচিত হত্যাকান্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আমি সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর রুহের মাগফিরাত কামনা  করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যবর্গ ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।”

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে সরদার আলাউদ্দিন মিঠুকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।