সরকারের বহুমুখী প্রকল্প প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান

0

জিসাফো ডেস্কঃ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকারের বহুমুখী প্রকল্প প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বহুমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সরকারের এসব প্রকল্প প্রতিহত করতে দলকে সংগঠিত করে রাজপথে নামবে বিএনপি।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জিয়া পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন, জিয়া পরিশদের প্রধান উপদেষ্টা , দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কতৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে লাগাতার হয়রানির প্রতিবাদে বুদ্ধিজীবী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে যে সকল মিথ্যা মামলা হচ্ছে তার তথ্য ও জ্ঞান ভিত্তিক একটি বস্তু নিষ্ঠু ভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। সবাই জানে মামলার পিছনে সরকার একটি উদ্দেশ্যপ্রনিত ভাবে করছে। উদ্দেশ্যর কিছু নাই শুধু ক্ষমতা ধরে রাখা। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সরকার একটি বহুমুখী প্রকল্প করছে। বহুমুখী প্রকল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশবাসীর কাছে, মানুষের কাছে যেতে দিবেন না। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখবে। তারেক রহমানকে একই ভাবে ব্যস্ত রাখবে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যস্ত রাখবে। এবং নির্বাচনী কলা কৌশনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠিত হয়েছে।

নির্বাচন কালীন সরকারের বিষয়ে বিএনপির পরিস্কার অবস্থান নিতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠে প্রস্তাব দিয়ে ভাল কাজ করেছেন। সময়মত একটি কাগজ দেয়াদে বিএনপি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। এরফলে একটি মুক্ত আলোচনার পথ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি। সরকার সব কিছু উপেক্ষা করে দলীয় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জাতির কাছে বিএনপির প্রস্তবনা দিয়ে সবচেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে নৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আলোচনার মধ্যে দিয়ে যে সিদ্ধান্ত হয় সেটি বিএনপি পালন করেছে। এবং নির্বাচন কালীন সরকারের ব্যাপারে আমরা তাই করবো। প্রস্তবানায় সকল দলের মুক্ত আলোচনার প্রস্তাব থাকবে। দলীয় বা বস্তুর প্রস্তাবনা নয়ম্মুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত হয়। সে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে চাই। সালে সাথে যে মিথ্যা মামলা হামলা গুলো চলছে তা সরকারের ক্ষমতায় থাকা , ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য এ কাজগুলো করা হয়েছে। এবং নির্বাচনের সাথে যে সকল প্রতিষ্ঠান আছে সরকার সেখানে প্রভাব বিস্তার করছে। আগামী দিনে বিএনপি সহ অণ্যান্য যারা তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে আলাদা ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এগুলো হচ্ছে সেই প্রস্তুতির অংশ। বিচারও নয় , সাজাও নয়। দেশে বিদেশে জাতির কাছে পরিস্কার করতে হবে। সাথে সাথে দলকে সংগঠিত হয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে , যদি রাস্তায় নামতে হয়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা গুলো অন্তসারশূন্য। সরকার তার বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার করে যাচ্ছে। অপর দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ১৫ টি মামলা ছিল। সবগুলো মামলা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এসব তথ্য সংবলিত একটি কাগজ তৈরি করে জনগণকে জানাতে হবে। এটি আগামী এক মাসের মধ্যে তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে এবং জিয়া পরিষদের সহকারী মহাসচিব আবদুল্লাহিল মাসুদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিধ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মুস্তাহিদুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রফেসর ড. এস. এম. হাসান তালুকদার, জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রফেসর ড. মো. এমতাজ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব প্রফেসর ড. জে কিউ মুস্তাফিজুর রহমান, প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ, এম জহীর আলী, সহকারী মহাসচিব দেওয়ান মাহফুজুর রহমান ফরহাত, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, মো. নাজির আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. হাসানাত আলী, প্রচার সম্পাদক আব্দুল হাকিম প্রমুখ।