সরকারি কলেজের শিক্ষকদের কর্মবিরতি

0

ঢাকা: ঘোষিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল পুনর্বহাল এবং শিক্ষা ক্যাডারের গ্রেডকে একধাপ উন্নীত করার দাবিতে দু’দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।

শনিবার থেকে দ্বিতীয় দফায় দু’দিনের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর কর্মবিরতি পালন করেন তারা।

নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পরপরই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সরকারি কলেজের শিক্ষকদের আন্দোলনের ডাক দেয় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির বিবৃতি অনুযায়ী, সিলেকশন  গ্রেড, টাইম স্কেল বাতিল করায় অধ্যাপকদের বিদ্যমান বৈষম্যমূলক বেতন স্কেল আপগ্রেডেশনের পরিবর্তে অবনমনের প্রতিবাদে শনি ও রোববার সব সরকারি কলেজের শিক্ষকরা সরকারি কলেজে, আলিয়া মাদরাসায়, টিটি কলেজ, গভঃকমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, সব শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রকল্পে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন ১৫ হাজার ক্যাডার কর্মকর্তারা।

দেশের বিভিন্ন কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায় শনিবার সকাল থেকেই কলেজ প্রাঙ্গনে শিক্ষকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি মানববন্ধন, সমাবেশ করছেন। বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। কলেজগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে শনিবার কোন সরকারি কলেজে ক্লাশ-পরীক্ষা হচ্ছেনা।

রোববার শিক্ষা ক্যাডারের অফিসাররা সকল ধরনের দাপ্তরিক কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষকদের ডাকা কর্মবিরতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বর্ষ অনার্স পরীক্ষা স্থগিত করেছে। শনিবার থেকে সারাদেশে কলেজ পর্যায়ে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। একইসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর শিক্ষকরা একদিনের কর্মবিরতি পালন করেন। ওই কর্মবিরতির পর এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। আলটিমেটাম শেষে শনিবার থেকে আবারও দু’দিনের কর্মবিরতি ডাকা হয়েছে।

সারাদেশের ৩০৫টি সরকারি কলেজ, শিক্ষাবোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরে সাথে মিল রেখে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২০টি সরকারি কলেজেই এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল  বলেন, ‘সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না।  সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেড থেকে অবসরে যাবেন, এতে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উচ্চ পদগুলোতে আসবেন। এটি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সদ্যঘোষিত পে-স্কেলে ইচ্ছাকৃতভাবে এ বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন।  পে-স্কেল ঘোষণার পর আমাদের বেতন বেড়েছে, কিন্তু মর্যাদা কমেছে।  এজন্য এত সুন্দর পে-স্কেল পাবার পরও শিক্ষকরা খুশি হতে পারছেন না। এজন্য আমরা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূূচি পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যাপক জেসমিন আক্তার  বলেন, ‘শিক্ষকদের ডাকা কর্মবিরতির কারণে আজকে অনুষ্ঠতব্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বর্ষ অনার্স পরীক্ষা স্থগিত করেছে।  একইসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান  বলেন, ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি দু’দিনের কর্মবিরতি আহ্বান করেছে। শিক্ষাবোর্ড এবং মাউশিতে যেহেতু শনিবার সরকারি ছুটি, এজন্য এসব দপ্তরে রোববার কর্মবিরতি পালিত হবে।’