সবকিছুর জন্য লেডি হিটলার ও আ.লীগ দায়ী : খালেদা জিয়া

0

জুল আফরোজঃ দেশে আইন শৃঙ্খলার অবস্থা খারাপ বাংলাদেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ মোটেও ভালো নেই, শান্তিতে নেই। প্রতিনিয়ত জুলুম অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”

বর্তমানে দেশে রাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে অভিযোগ করে এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষারোপ করেছেন বিএনপি নেত্রী।

12202065_10153647673447158_1852732514_n

“এক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে কায়েম হয়েছে রাজতন্ত্রের জন্য আছেন একজন লেডি হিটলার। কারণ তিনি যা হুকুম দিচ্ছেন, নির্দেশ দিচেছন তার সৈন্য-সামন্তরা হচ্ছে, অর্থাৎ সবকিছু তার কথা মতো চলে।”

এমপি হওয়ার যোগ্যতা নেই এমন অনেককে মন্ত্রী করা হয়েছে বলে মনে করেন খালেদা।

বর্তমানে বাংলাদেশে বেসামরিক প্রশাসনকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে অনেক যোগ্য, মেধাবী কর্মকর্তাকে দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেত্রী।

গত দেড় মাস ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত খালেদা জিয়া রোববার লন্ডনের রিভারব্যাংক পার্ক হোটেল প্লাজায় একটি নাগরিক সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন।

চিকিৎসার জন্য গত ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনে আসার পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সভা।

যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত সভায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান ছেলে তারেক রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী খালেদার পাশে মঞ্চে বসেন।

12185026_842205029233788_3644674887442112198_o (1)

দর্শক সারিতে পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরাজিত বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে দেখা গেছে।

বক্তব্যের শুরুর দিকেই যুক্তরাজ্যে অবস্থনের সুবাদে প্রত্যক্ষ করা সেখানকার আইন-শৃঙ্খখলার উ”চ প্রশংসা করেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

“দেড় মাসে অনেক কিছু দেখেছি, খুব ভালো লেগেছে। তাদের যে আইনশৃঙ্খলা এবং সুন্দর যে সব আইন আছে সেগুলো আমার মনে হয়, অনেক ভালো জিনিস শেখার আছে।”

শুধু শেখার নয়, এসব আইন-কানুন বাংলাদেশে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।

hqdefault

শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পর বিবিসিকে দেওয়া শেখ হাসিনার এক সাক্ষাৎকার তুলে ধরে খালেদা বলেন, “তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশে যাব রাজনীতি করার জন্য নয়, প্রতিশোধ নিতে’। তিনি দেশ গড়তে আসেননি। তিনি এসেছেন দেশ ধ্বংস করতে।”

আওয়ামী লীগ ‘প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি’ করে দাবি করে তিনি বলেন, এই প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে হবে।

download

জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকেই দায়ী করেন খালেদা বলেন, ‘জঙ্গি জঙ্গি হাসিনাই বলেছে, কীসের জন্য? বিদেশিদের ভয় দেখানোর জন্য। বোঝাতে চাইছে আমরা যদি চলে যাই, বিএনপি এলে জঙ্গিদের উত্থান হবে। কিন্তু দেখেন, জঙ্গিদের উত্থান কিন্তু আওয়ামী লীগের সময় হয়েছে। তারা একটা জঙ্গিকে ধরেনি। আমরা এসে সব জঙ্গিকে ধরেছি।’

বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিকে চাইছে দাবি করে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার কথা বলেন খালেদা।

বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আন্দোলন ঢাকায় সেভাবে করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা শহরে বের হলেই গুলি করে দেয়। তবে সারাদেশে যে কী আন্দোলন হয়েছে, স্বাধীনতার সময়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তা হয়নি। আন্দোলন দমাতে পুলিশ গাড়ি পুড়িয়ে সেই দায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়েছে।’

images

তিনি বলেন, ‘গত সাত বছরে বিএনপির তিন হাজার নেতাকর্মীকে খুন, এক হাজার ২০০ জনকে গুম, এক হাজার ১২ জনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে।’

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘কত মানুষকে বেনজীর মেরেছে তার হিসাব নেই।’বিএনপি ভাঙার জন্যও সরকার চেষ্টা করছে জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। বিএনপিকে ভাঙা যাবে না। সত্যি কথাই বলি, এরশাদ তেমন করেনি। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দীনও কম করেনি।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিটি করপোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, প্রমুখ।

 

চিকিৎসার জন্য রোজার ঈদের আগে লন্ডনে গিয়ে ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে আছেন তিনি।

দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকার কথা নেতাকর্মীদের জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন,

“পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এখানে এসেছি।”

তবে এখন দেশে ফিরতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, “বহুদিন পর পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং তারা ছাড়তে চায় না। আরও থাকতে বলে। “কিন্তু‘ আপনারা প্রত্যেকে জানেন দেশের কী অবস্থা! আমার দেশেযাওয়া প্রয়োজন। সেজন্য আমাকে দেশে যেতে হবে।