সফল মহাসচিব বিএনপি’র খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন

0

জিসাফো ডেস্কঃ (১৯৩৩-২০১১)  আইনজীবী, রাজনীতিক। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার খিরাই পাচুরিয়া গ্রামে ১৯৩৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা খোন্দকার আবদুল হামিদ ছিলেন একজন মশহুর আলেম এবং তাঁর মাতা ছিলেন আকতারা খাতুন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৪৭ সালে মানিকগঞ্জ হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৪৯ সালে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স), ১৯৫৩ সালে এমএ এবং ১৯৫৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে খোন্দকার দেলোয়ার বাহান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীর সপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি মানিকগঞ্জ মহকুমা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

রাজনৈতিক জীবনঃ

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং তখন থেকেই তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধীদলের (কপ) প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে মানিকগঞ্জ মহকুমায় গঠিত ইলেকশন মনিটরিং কমিটির প্রধান ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মানিকগঞ্জ মহকুমা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। আইনজীবী সমিতিগুলোর কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৬৬ সালে ছয়দফা কর্মসূচি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ছিলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক এবং তিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পরপরই মানিকগঞ্জে গঠিত বিপ্লবী কম্যান্ড কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার।

 খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৮ সালে গঠিত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে যোগ দেন এবং দলের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে পুনরায় তিনি বিএনপির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা থেকে পঞ্চম (১৯৯১), ষষ্ঠ (১৯৯৬), সপ্তম (১৯৯৬) ও অষ্টম (২০০১) সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন সংসদীয় দলের চীফ হুইপ এবং সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধী সংসদীয় দলের চীফ হুইপ ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সদস্য ছিলেন।

ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকাঃ

৫২-র ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য খোন্দকার দেলোয়ার একুশে পদক লাভ করেছেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াঁজো কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। খোন্দকার দেলোয়ার ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সেনাশাসক আইউব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কম্বাইন্ড অপোজিশন (কপ)’র প্রার্থী মিস ফাতেমা জিন্নার পক্ষে মানিকগঞ্জ মহাকুমার চিফ ইলেকশন এজেন্ট ছিলেন। পরে ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে পালন করেন সক্রিয় ভূমিকা। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে সক্রিয় যুদ্ধে যোগ দেন তিনি। ২৫ মার্চ রাতে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জে যে বিপ্লবী কমান্ড কাউন্সিল গঠিত হয় তিনি ছিলেন তার অন্যতম সদস্য।আশির দশকের শেষদিকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসন বিরোধী আন্দোলনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় মোর্চার লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারীর পর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হওয়ার প্রাক্কালে তিনি দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূইয়াকে বহিষ্কার করে তদস্থলে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দলের মহাসচিব পদে নিয়োগ দান করেন। এক-এগারোর পর যখন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের সিনিয়র নেতৃবর্গ আটক ছিলেন, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সঙ্কটের মোকাবেলা করে দলের ঐক্য ও অখন্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর পুনরায় তিনি বিএনপির মহাসচিব নিযুক্ত হন।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০০২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলন, একই বছর মরক্কোর মারাকাসে অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন এবং টোকিওতে এশিয়ান পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্স ও হাউজ অব লর্ডসে ৮ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের (২০০২) এবং আইপিইউর বিশেষ সম্মেলনে ৫ সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন (২০০২)। তিনি ২০০৩ সালে সিডনি, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, ডারউইন ও অস্ট্রেলিয়ার পার্থে এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিপিএর সম্মেলনে সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ওই বছর তিনি জেনেভায় আইপিইউর বিশেষ সম্মেলনেও যোগ দেন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি মেক্সিকোতে আইপিইউর কনভেনশন, ইংল্যান্ডে উইলটন পার্ক কনফারেন্স এবং কানাডায় সিপিএর কনভেনশনে যোগ দেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২০০৫ সালে নমপেনে অনুষ্ঠিত এশিয়ার জাতিসমূহের মানবাধিকার বিষয়ক ড্রাফ্ট্স কমিটির সম্মেলনে এবং দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত ও এশিয়া অঞ্চলের সিপিএ প্রতিনিধিদের কনভেনশনে বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। একই বছর সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে তিনি ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আইপিইউর সম্মেলন, চীনে ন্যাশনাল পিপল্স কংগ্রেস এবং ফিজিতে অনুষ্ঠিত সিপিএর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপি’র মহাসচিব পদেঃ
বিগত ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩ সেপ্টেম্বর কারাবন্দি হন। ওইদিনই বেগম খালেদা জিয়া দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে বহিষ্কার করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মহাসচিব নিয়োগ করেন। ১/১১ পরবর্তী সময়ে বিএনপি এবং এর নেতাকর্মীদের যখন দুঃসময় চলছিল, চেয়ারপারসনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন সে মুহূর্তে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের হাল ধরেছিলেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর সাহসিকতাপূর্ণ বক্তব্য সেসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করে। সংস্কারপন্থী নামে বিএনপি’র একটি অংশ সেসময় তত্ত্বাবধায় সরকারের ছত্রছায়ায় আনুকুল্য পাচ্ছিল যা সংগঠন হিসেবে বিএনপির অস্তিত্বকে হুমকির সম্মুখীন করেছিল। সে সময় মিডিয়ার সামনে খোন্দকার দেলোয়ারের আত্মবিশ্বাসপূর্ণ উপস্থিতি এবং দল পরিচালনায় তার আপোসহীন পদক্ষেপ বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে। এক কঠিন মূহুর্তে বিএনপির মতো বড় দলের হাল ধরেছিলেন খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। সেই সময় শত বাধা, প্রলোভন, ভীতির ভিতরও তিনি দলকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। যখন কাউকেই সাথে পাওয়া যাচ্ছিল না তখনও তিনি অটল ছিলেন।
২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন এ নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনায় নানাজনের নাম ঘুরেফিরে এলেও দেলোয়ারের নাম আসছিল খুব কমই। অবশেষে ৮ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে খোন্দকার দেলোয়ারকেই পুনরায় বিএনপির মহাসচিব পদে নিয়োগ দেন খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেলোয়ারের ১/১১ পরবর্তী ভূমিকার পুরস্কার হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

ব্যক্তিজীবনঃ
ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন সফল ব্যক্তিত্ব।  এডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দুই কন্যা ও চার পুত্র সন্তানের জনক। বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। দ্বিতীয় ছেলে খোন্দকার আকতার হোসেন জগলু এমএসএস বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। তৃতীয় ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত। ছোট ছেলে খোন্দকার আক্তার হামিদ পবন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে অধ্যায়নরত। বড় মেয়ে ডাক্তার আকতারা খাতুন লুনা বিডিএস, বারডেম হাসপাতালে কর্মরত। ছোট মেয়ে ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না (এমবিবিএস) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বেশসংখ্যক সামাজিক সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি ১৯৭৬-১৯৭৮ এবং ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং ১৯৭৯-১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ খোন্দকার নূরুল হোসেন ল’ একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ। তিনি তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন কলেজ এবং পাচুরিয়া মাদ্রাসা। ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে।

ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার জন্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন একুশে পদকে ভূষিত হন।

জীবনের শেষ মুহুর্তঃ
বিএনপি মহাসচিব গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মার্চ তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিউতে স্থান্তান্তর করা হয়। রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন ৪ মার্চ রাতে তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়। বুধবার ভোরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়।। দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুর আগে বলে গেছেন মৃত্যুর পর তাকে যেন নিজ গ্রাম পাচুরিয়া জামে মজজিদের পাশে দাফন করা হয়। তিনি আরো বলেন দেলোযার হোসেন তার নিজের জন্য কিছুই করেনি। সারাজিবন মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। এছারা তার সপ্ন ছিল ঘিওর-দৌলতপুরের মধ্যে দিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মান তার অবদান ।আমরা খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

(সংগ্রহেঃ মোঃ আলফাজ উদ্দিন)