সজীব ওয়াজেদ জয়ের বেয়াদবির একটি জাতীয়তাবাদী ভদ্র জবাব

0

সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই মায়ের চাইতেও বেশি বয়সী মিসেস জিয়াকে ‘তুই’ করে সম্বোধন করে বলা ঘটনার জন্ম জনগনের ভালোবাসা না পাওয়ায় উদ্ভুত ক্ষোভ, হতাশা, অক্ষমতা, হিংসা ও রাগে অন্ধ হয়ে গিয়ে নিজের চুল নিজে টেনে ছেঁড়ার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছি আমি। এইটা না পাওয়ার তীব্র বেদনা।ক্ষমতা পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু জনমানুষের নেতা হতে না পারার যে তীব্র দহন, ভয়ংকর মানসিক পীড়ন, তারই স্থুল প্রকাশ।

বেগম জিয়ার একটি বাক্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী শিবিরে যে প্রতিক্রিয়াগুলো দেখা যাচ্ছে সেখানে লীগপন্থী সাংবাদিক থেকে শুরু করে সবাই যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই বেগম জিয়াকে অশ্লীল ভাবে গালি গালাজ করে যাচ্ছেন। একজন সাংবাদিককে দেখলাম লিখেছেন, খালেদা একাত্তরে যুদ্ধ করেছে খাটের উপর।এই হল একটি দলের তরুন প্রজন্ম থেকে শুরু করে মরুন প্রজন্মের অবস্থা। এতে করে বোঝা যাচ্ছে, আওয়ামিলীগ নৈতিক, তাত্ত্বিক, আত্মিক ও রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। তারা জানে তাদের পক্ষে জনগন নেই, ক্ষমতায় আছে বন্দুকের জোরে। এখন গালি এবং অসন্মানের মাধ্যমে তা বের হয়ে আসলো।চেতনার গ্যালন গ্যালন পাগলা পানি খরচ করে, আবেগের নীল নদ বইয়ে দিয়েও যখন তাদের পক্ষে সাধারণ জনগন টানা যাচ্ছেনা, বরঞ্চ মানুষের অভিশাপে ফেরাউনের মমিপ্রায়, তখন ঐ না পাওয়ার বেদনা, ক্ষোভ এবং স্ট্রেস থেকে এসব তুই তোকারি গালি গালাজ আসবেই ধরে নেয়া যায়।

The person who lives in continues stress, who is angry at the world and the one who is always emotionally distressed will always have extra negative energy that he wants to get rid of and that’s why he keeps swearing all the time. সাইকোলজি বলে।

মানুষের সাইকোলজি আমাকে দুর্দান্ত আকর্ষণ করে। একটি অ্যাকশন দেখবার পর তার বিপরীতে রিঅ্যাকশন দেখাবার মাঝে যে সময়টুকু পাই তার ফাঁকে ভেবে নিতে ইচ্ছে করে কেন মানুষটি এরকম করছে কিংবা তার মানসিক স্টেইট মনের অবস্থা এই মুহুর্তে কিরকম।

বাস্তব জীবনে কেউ আমাকে কটু কথা, আঘাত দিয়ে কিংবা অপ্রত্যাশিত কিছু বললেও হঠাত নির্বাক হয়ে থাকা আমার অভ্যেস। ঐ নির্বাক সময়ে আমি নিজেকে ধাতস্থ করি এবং কি প্রতিক্রিয়া দেখাবো তা ভাবি যদি সুযোগ আসে।

সুতরাং, জয় সাহেবকে দয়া করে গালি দেবেন না। উনারা যত বেশি মিসেস জিয়াকে গালি দেবেন, অশ্লীল বলবেন তত বেশি বোঝা যাবে তাদের বিদ্ধস্থ অবস্থা। উনার মনের অবাস্থাটি ভাবুন দয়া করে। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীত্বের চূড়ায় উঠবার সুযোগ ছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধের এলিভেটরে উঠে পড়ে বিনা কষ্টে সুরুত সুরুত।

মিসেস জিয়াকে ধন্যবাদ, আওয়ামিলীগের ভেতরকার এই তীব্র দহন যন্ত্রণা, না পাওয়া থেকে জন্ম নেয়া ভয়ংকর মানসিক অবস্থাকে তাদের ভেতর থেকে তাদের নিজেদের জিহ্বা দিয়েই টেনে বের করাবার জন্য।

যারা বলছেন এ মুহুর্তে এটির দরকার ছিলোনা, কোটি কোটি টাকা লোপাট, সামনের ইলেকশন ইত্যাদি ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে বলা উচিৎ ছিলো খোঁজ নিয়ে দেখবেন তারা জীবনের কোনো না কোনও সময়ে চেতনার সুরা পান করেছেন। শাহবাগে দৌড়েছেন। ইদানিং বুদ্ধিজীবী হয়ে উঠবার জন্য চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলার প্র্যাকটিস করছেন।তারা বুঝেও না বোঝার ভাণ করছেন যে, আওয়ামীলীগের বিপরীতে এসব মিলিওন মিলিওন ডলার আর ভোট ইস্যু পার্কে পড়ে থাকা বাদামের পাতলা লাল খোসার মত। মানুষ ফু দিয়ে উড়ায়। আওয়ামীলীগের বিপরীতে এদেশে রাজনীতি করতে হলে আওয়ামী চরিত্র স্টাডি করা জরুরী। বাকি গুলো সেকেন্ডারি।

একটি বুদ্ধিমান খেলা পৃথিবী থেকে উঠে যাচ্ছে প্রায়। দাবা খেলা। দাবা খেলার প্রতিটা চাল দেবার আগে আপনাকে আপনার প্রতিপক্ষের পরবর্তী অনেকগুলো চাল মাথায় রাখতে হবে। ডিজাইনটা একটি ছোট যুদ্ধক্ষেত্রের মতন। আর রাজনীতির সাথে খুব সহজেই তুলনা চলে। যেকোনো যুদ্ধে জিততে হলে শত্রুকে গভীরভাবে স্টাডি করতে হয়। শত্রুর চালগুলো যদি আপনি আগে থেকেই জেনে রাখেন তবে সুবিধে আপনার।বাংলাদেশের রাজনিতীতে দুইজনকে বন্দুক ছাড়া নিরপেক্ষভাবে দাবা খেলায় বসিয়ে দিলে একজন অষ্টম শ্রেনী পাশ মহিলার ক্রাউড উইন করা দেখে আরেকজন বহু পিএইচডিধারী প্রতিপক্ষ রাগে ক্ষোভে দাবার বোর্ড উল্টে ফেলতেন! দৃশ্যটি ভেবে হেসে উঠলাম।

বিঃ দ্রঃ আমি চাইনা এখানে যারা মন্তব্য করছেন তারা শেখ হাসিনা কিংবা উনার পুত্রকে গালিগালাজ অথবা অশ্লীল কথা বলুন। দয়া করে মন্তব্যের প্রতি যত্নশীল হবেন। চরিত্রগত এবং আচরণগত পার্থক্য আমার বন্ধুদের সাথে আওয়ামীদের আছে আমি বিশ্বাস করতে পছন্দ করি।

লেখিকাঃ ঈলোরা জামান

10945518_10205741779287430_7335511967658838426_n

লেখার ফেসবুক লিংক

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10208161991271217&id=1344322130&hc_location=ufi