সংবাদপত্রের পাতায় গতকালের প্রথম দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

0

জিসাফো ডেস্কঃ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের খবর বুধবার দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে নির্বাচনে নজিরবিহীন সহিসংতাই বেশিরভাগ দৈনিকের শিরোনাম হয়েছে।

নির্বাচনী সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৫জনসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।

প্রথম আলো:

সহিংসতা, গুলিতে নিহত ১১

দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল মঙ্গলবার সংঘর্ষ, ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হয়েছে। রাতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে গুলিতে দুজন, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও নেত্রকোনায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

ভোট গ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১০ জন নিহত হন। আহত হন দুই হাজারের বেশি। গতকাল আরও ১১ জনসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে হলো ২১।

যুগান্তর

ব্যাপক সংঘাত-সহিংসতা

ব্যাপক সংঘাত-সহিংসতার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৭১২ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে চার জেলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধসহ নানাভাবে আহত হয়েছেন আট শতাধিক মানুষ।

দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

দিনের শুরুতে কিছু এলাকায় শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোট কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে বিরোধী প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জালভোট দেয়ার ঘটনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র্যা বসহ আইনশৃংখলা বাহিনী এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ জনকে আটক করা হয়।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কক্সবাজারের টেকনাফে ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুইজন। ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আবুল কাসেম সিকদার নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন।

নেত্রকোনায় ভোট গণনার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা জোর করে ভোট কেন্দ্রের ভেতর ঢুকতে চাইলে পুলিশের গুলিতে প্রার্থীর ছোট ভাই কাওসার নিহত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জে ফল ঘোষণার পর সংঘর্ষে এক নারী নিহত হন।

বরিশালের বানারিপাড়ায় অসাবধানতাবশত নিজের রাইফেলের গুলিতে প্রাণ যায় এক আনসার সদস্যের। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলে সোমবার প্রতিপক্ষের হামলায় আহত নৌকা মার্কার সমর্থক হুমায়ুন মল্লিক মারা গেছেন।

এদিকে নির্বাচনী অনিয়মের কারণে ৬৫টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ভোট বর্জন করেছেন ১৩৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ধারণা করছে, প্রথম পর্বের এ নির্বাচনে ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।


সমকাল

সংঘাত কারচুপিতে ম্লান ভোট উৎসব

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাংচুর, কেন্দ্র দখল, কারচুপি আর ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ। ভোট গণনা শেষে রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন সাতজন। এরমধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে পাঁচজন এবং কক্সবাজারে বিজিবির গুলিতে একজন ও নেত্রকোনায় পুলিশের

গুলিতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পৃথক ঘটনায় কক্সবাজারে মারা গেছেন আরও একজন। ভোট চলাকালে ঝালকাঠিতে নিহত হন একজন। ফল ঘোষণার পর সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। সংঘাত ও সহিংসতায় ১০ জনের প্রাণহানি ও ছয় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় ম্লান হয়ে গেছে তৃণমূলের এই ভোট উৎসব।

৩৬ জেলার মধ্যে অন্তত ১৬ জেলায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি সহিংসতার খবর এসেছে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে। এদিকে ভোট শেষ হওয়ার পরে রাতে ইসি কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। যে সব কেন্দ্রে অনিয়ম হওয়ার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বৈঠকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রথম ধাপে দেশের ৩৬টি জেলার ৭১২টি ইউপিতে ভোট নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দফায় ৫৪টি ইউপিতে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

নয়াদিগন্ত:

কেন্দ্র দখল জালভোট সহিংসতা

ভোট শুরুর আগেই ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সভর্তি করা, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচন শেষ হয়েছে। এতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে ছয়জন এবং ঝালকাঠি ও নেত্রকোনায় দু’জন মিলে আটজন নিহত হয়। প্রথম ধাপে গতকাল দেশের ৩৪ জেলার ৭১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা কেন্দ্র দখলের উৎসবে মেতে ওঠেন। বিরোধীরা বাধা দিতে গেলে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঝালকাঠি ও নেত্রকোনায় দু’জন নিহত ও বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধসহ কয়েক শ’ লোক আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কিছু স্থানে গুলিবর্ষণ করে। অনেক ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপি প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন। মঠবাড়িয়ায় নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন : সোহেল (২৫) শাহাদাত (৩০), কামরুল মৃধা (২৫), বেলাল (৩০) এবং সোলায়মান (২৫)।

ইত্তেফাকঃ

সংঘাত সংঘর্ষ প্রভাব বিস্তারের ভোট

প্রভাব বিস্তার, সংঘাত-সংঘর্ষ-গোলাগুলি, ভোট জালিয়াতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথম ধাপের ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট। দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের এই ইউপি নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। এসময় সারাদেশে একজন আনসার সদস্যসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

হাতিয়ায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানিসাফা ইউপিতে ব্যালট বাক্স ছিনতাইকালে বিজিবির গুলিতে ৫ জনসহ কক্সবাজারের টেকনাফে ২ জন, ঝালকাঠি সদর, বরিশালের বানারিপাড়া ও নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে একজন করে নিহত হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। ভোট কেন্দ্রগুলোতে ছিল না পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। কেন্দ্রে কেন্দ্রে চলেছে পেশিশক্তির মহড়া। এসব ঘটনার প্রতিবাদে কমপক্ষে দেড় শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।


মানবজমিনঃ

হামলা, গুলি, নিহত-১২

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত-সহিংসতায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। নির্বাচন চলাকালে দিনে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও বিকালে ভোট গণনার সময় কেন্দ্রে হামলা ও ফল ছিনতাইয়ের সময় সংঘাত সংঘর্ষ হয়েছে বেশি।

এদিকে দিনের শুরু থেকে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া হামলার অভিযোগ আসে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের হিড়িক পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের। শেষ দিকে নিরুত্তাপ পরিস্তিতি বিকালে পাল্টে যায় ভোট গণনার সময়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফল প্রকাশের আগে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কেন্দ্রে হামলা করলে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে ছয়জনের মৃত্যু হয়।

এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। কক্সবাজারের টেকনাফে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থক এবং পুলিশের ত্রিমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে দুই জনের।

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন একজন। ঝালকাটি ও সিরাজগঞ্জে মারা গেছেন আরও দুই জন। কুমিল্লার দেবিদ্বারে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকশ’ জন।