সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে আসার আহ্বান ঃবেগম খালেদা জিয়া

0

জিসাফো ডেস্কঃ সরকারকে সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, দেশের সংকট নিরসনে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। বল এখন শাসক দলের কোর্টে। তারা সংঘাতের পথ ছেড়ে সংলাপের পথে সমস্যার সমাধান করবে বলে আমি আশা করি। দেশের চরম সংকট উত্তরণে আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী এক্যজোটের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি চেয়ারপারসন এ আহ্বান জানান। লিখিত বক্তৃতায় খালেদা জিয়া বলেন, কয়েকদিন আগেই আমরা বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করেছি। কাউন্সিলের পর আমরা এখন দল পুনর্গঠনের কাজে ব্যস্ত রয়েছি। ওই কাউন্সিলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা আমি তুলে ধরেছি। এই সমস্যা ও সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ-নির্দেশনাও আমরা তুলে ধরেছি। আমরা মনে করি, যে অসুস্থ রাজনৈতিক ধারা এদেশে চালু করা হয়েছে সেখান থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেখাতে হবে নতুন সম্ভাবনার পথ। জাতির বিরাজমান সমস্যাবলী সমাধানের জন্য সুচিন্তিত ও বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। সেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতি হিসেবে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখন একটি ভিশন ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করার কাজ করে যাচ্ছি। আলেম সম্প্রদায়সহ সকল স্তরের মানুষের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা আমরা সেই কর্মসূচিতে রাখছি।
দেশে গণতন্ত্র নেই মন্তব্য করে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে জনগণের সরকার নেই। সুশাসন নেই। সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। সবখানে নৈরাজ্য। আইন-শৃঙ্খলার সীমাহীন অবনতি ঘটেছে। কারও কোন নিরাপত্তা নেই। জাতীয় অর্থনীতি ছত্রখান হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার ও ব্যাংকগুলো লুট হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও জনগণের অর্থ-সম্পদ নিরাপদ নয়। ডিজিটাল ডাকাতি করে সে অর্থ লুটে নিয়ে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ রয়েছে সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায়। অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, নারীর সম্ভ্রম হরণ, দুর্নীতি, লুণ্ঠন অতীতের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। ভিনদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের জাতীয় সংস্কৃৃতি বিপন্ন। আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ক্ষমতাসীনদের কোন উদ্যোগ নেই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন ও বন্ধুহীন করে ফেলা হয়েছে। বন্ধুত্বের বদলে গোলামীর পথ বেছে নিয়ে শাসকেরা তাদের গদি রক্ষায় ব্যস্ত। খালেদা জিয়া বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং আলেম সম্প্রদায় নানাভাবে নিগৃহীত ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। অন্যধর্মের লোকদেরও কোন নিরাপত্তা নেই। এখন যারা ক্ষমতায় আছে তারা অন্য ধর্মের নাগরিকদের ভোটই শুধু চায় না। তাদের সহায় সম্পদও তারা দখল করে নিচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেতে চায়। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। কিন্তু তারা সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিতে আক্রান্ত নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আবহমানকাল থেকে পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করে আসছে। এটা আমাদের পরম গৌরবের বিষয়। সেই ঐতিহ্য ও গৌরবকে ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন সময় কায়েমী স্বার্থবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী অপতৎপরতা চালিয়ে থাকে। আলেম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে, যাতে আমাদের বদনাম না হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আপনারা সেই শান্তির ধর্মের নেতা। হিংসা, হানাহানি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান ইসলামে নেই। ইসলাম শান্তির পক্ষে, মজলুমের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে, সুশাসনের পক্ষে, মৈত্রীর পক্ষে, সাম্যের পক্ষে, মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে। কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু বিপথগামী লোক সন্ত্রাস, চলতি জানুয়ারিতে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের একটি অংশ ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করার পর মাওলানা আবদুর রকিবের নেতৃত্বে অপর অংশ জোটে যোগ দেন। গতকাল ইসলামী ঐক্যজোটের ওই অংশের প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাওলানা আবদুর রকিবকে চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। মাওলানা আবদুর রকিবের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপি সভাপতি এড. গোলাম মোর্তুজা, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি এড আজহারুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।