সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ফের রক্তাক্ত এমসি কলেজ

0

জিসাফো ডেস্কঃ সিলেট এমসি কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ক্যাম্পাস থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করেছে। সোমবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শাহ পরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে চারটি রামদা, একটি পাইপসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা থানা হেফাজতে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে নিপুর সমর্থক নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। দুপুরে রায়হানের সমর্থক নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকে। এরপরই সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কয়েকটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত রতন গুপ্ত ও খায়রুল ইসলাম শাহীন নামের দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া সংঘর্ষে আরো আটজন আহত হয়। পরে শাহ পরাণ থানার পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ব্যাপারে নিপুর সমর্থক হিসেবে পরিচিত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী, সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সয়েফ আহমদ ও সোলায়মান আহমদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলিও করে। এ ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষ হয়েছে।’ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী বলেন, গতকাল রোববার পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে কলেজে যান ছাত্রলীগকর্মী বিকাশ চন্দ্র সাহা। এ সময় হিরণ মাহমুদ নিপু ও তাঁর নেতাকর্মীরা বিকাশকে মারধর করে। এ ঘটনার জের ধরে বিকাশের সহকর্মীরা আজ ক্যাম্পাসে গেলে নিপুর সমর্থকরা গুলি ছোড়ে। এতে নেতৃত্ব দেন আকাশ, হোসেইন, শামীম আলী ও রাসেল। এ ব্যাপারে হিরণ মাহমুদ নিপু জানান, সকাল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। হঠাৎ করে রায়হানের সমর্থক নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে গুলি করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। রায়হানের সমর্থকদের ছোড়া গুলিতে ছাত্রলীগের রতন ও শাহীন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন নিপু।