শোলাকিয়ায় বোমা হামলায় বেগম জিয়ার তীব্র নিন্দা

0

জিসাফো ডেস্কঃ শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের কাছে টহলরত পুলিশের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা একের পর এক অভিনব প্রাণঘাতি হামলা করে সারা দেশটাকেই যেন একটা গোরস্থানে পরিণত করতে চায়। এ দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর চেয়ে এখন অধিক সংখ্যক অস্বাভাবিক মৃত্যুর জানাযায় অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে মানুষকে। জনগণ এক ভয়ংকর দুঃসময়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।শোলাকিয়ায় হামলাকারীদের ‘ভীরু ও কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি উদাত্ত কণ্ঠে বলেন, ‘এই বর্বর অপশক্তিকে নির্মূল করতে বিভেদ-বিভাজনের পথ থেকে সরে এসে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা থাকবে, তথাপিও জাতির এই সঙ্কটকালে জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রেরিত এক বাণীতে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে ঈদ জামাতের আগে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ওই ঈদ জামায়াতের মাঠের কাছে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন দুই পুলিশসহ চারজন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন এক হামলাকারীও নিহত হন। নিহত হন ঝর্ণা রানী ভৌমিক নামে একজন হিন্দু নারীও। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো বেশকয়েকজন পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ ও ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গুলশানের সন্ত্রাসী ঘটনার সপ্তাহ পার না হতেই আজ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার রক্তাক্ত ঘটনা ঘটলো এবং কয়েকজন মানুষের জীবন চলে গেল। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বিদ্যমান সকল নিরাপত্তাকে ভেদ করে সন্ত্রাসী উগ্রপন্থিরা একের পর এক তাদের বেপরোয়া জীবন বিনাশী সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, এই উগ্রপন্থী অশুভ শক্তি সারা দেশকেই তাদের অভয়ারণ্য মনে করছে। মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে রক্তক্ষরণের মাধ্যমে তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে, সেটা তারা মনে করছে না।তিনি বলেন, ‘জনজীবনে প্রাণের স্পন্দন নেই। মানুষের কোলাহল থেমে গিয়ে চারিদিক যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সন্ত্রাসীরা একের পর এক অভিনব প্রাণঘাতি হামলা করে সারা দেশটাকেই যেন একটা গোরস্থানে পরিণত করতে চায়। এ দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর চেয়ে এখন অধিক সংখ্যক অস্বাভাবিক মৃত্যুর জানাযায় অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে মানুষকে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এ দেশের জনগণ এক ভয়ংকর দুঃসময়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। জনজীবনের সকল কর্মকাণ্ড এখন আতঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকার শত চেষ্টা করেও তার ব্যর্থতা ঢাকা দিতে পারছে না। শুরু থেকেই যথার্থ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কুপথগামী অন্ধশক্তির তৎপরতা রুখে দিতে পারলে এখন এতো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারতো না।

তিনি দাবি করে বলেন, ‘তবুও এই দুঃসময়ে স্বপ্নচূড়া থেকে নেমে এসে সকলে মিলে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের পথে এগিয়ে গেলে দেশ থেকে সন্ত্রাসী উগ্রবাদিদের সকল অপ-তৎপরতা নির্মূল করা সম্ভব। কারণ, ঐক্যবদ্ধ শক্তির অদম্য সাহসের কাছে কখনোই কোনো অশুভ শক্তির উত্থান সম্ভব নয়।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ঝর্ণা রানী ভৌমিকের মতো নিরস্ত্র, নিরীহ এবং নিরপরাধ মানুষকে যারা হত্যা করে, তারা ভীরু ও কাপুরুষ। এরা মানবজাতির অগ্রগতির শত্রু। আমি আবারো উদাত্ত কণ্ঠে বলছি, এই বর্বর অপশক্তিকে নির্মূল করতে বিভেদ-বিভাজনের পথ থেকে সরে এসে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা থাকবে, তথাপিও জাতির এই সঙ্কটকালে জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

বাণীতে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘শোলাকিয়ায় দুষ্কৃতিকারিদের হাতে দু’জন পুলিশ ও একজন হিন্দু নারী নিহতের ঘটনায় আমি গভীরভাবে বেদনার্ত ও শোকার্ত। আমি নিহত পুলিশ সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং নিহত হিন্দু নারীর আত্মার শান্তি কামনা করছি। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবার ও নিকটজনদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। আর যারা আজকের সন্ত্রাসী ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুচিকিৎসা প্রদানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি এবং তাদের সুস্থতা কামনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘অসীম সাহসিকতার সাথে সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে গিয়ে যে দু’জন পুলিশ জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি জানাই আমার গভীর শ্রদ্ধা। দায়িত্বপালন করতে গিয়ে তাদের এই আত্মদান জাতি কোনদিনই বিস্মৃত হবে না।’

অপর এক বিবৃতিতে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে টহলরত পুলিশের ওপর হামলা এবং এতে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ।