শুভ জন্মদিন বিএনপি

0

বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত, আইনশৃঙ্খলা বিপর্যস্ত, জাতীয় জীবনে সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা নির্বাসিত। এই পরিপ্রেক্ষিতে জিয়ার সৈনিকদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। প্রতিরোধ করতে হবে সুযোগসন্ধানীদের। জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে গ্রহণ করেছিলেন জীবনধারারূপে। তার কাছে- politics is not a profession or job, it is a way of life. এই দর্শন ও বিশ্বাসই তাকে নিয়ে গিয়েছিল গণমানুষের কাছাকাছি।

দেশের ক্রান্তিকালে ‘বাকশাল’ সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই দিন যদি বিএনপি প্রতিষ্ঠিত না হতো তবে আজকের বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন ভাবে লেখা হতো। স্বাধীন দেশের সংবিধানে চার মূলনীতির মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শুধু ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা, সমাজতন্ত্রের নামে লুটপাটের অর্থনীতি এবং ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার কর্মকাণ্ডে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

দেশের সর্বত্র তখন চলে মুজিবের গঠিত সন্ত্রাসী বাহিনী রক্ষীবাহিনী ব্যাংক ডাকাতি, খুন ধর্ষণ লুটপাট। চার মূলনীতির অন্যতম উপাদান গণতন্ত্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছিল শেখ মুজিবের ব্যর্থ শাসনে । আশাহত যুব সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে সর্বহারা পার্টি, গণবাহিনীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন সৃষ্টি করে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেখ মুজিবের তৎকালীন দুঃশাসন আর বর্তমান সময়ে শেখ হাসিনার দুঃশাসন কোনো অংশে কম নয়।

তৎকালীন সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ ও বহুমুখী ব্যর্থতার কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে ১৯৭৪-এ দেশে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলাসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দেশে ‘রক্ষীবাহিনী’ নামে একটি বিশেষ বাহিনী সৃষ্টি করে। বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত রক্ষীবাহিনী দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায়

২০ হাজার মানুষ হত্যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে জনবিরোধী বাহিনীরূপে আত্মপ্রকাশ করে এবং জনরোষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তৎকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। সরকার মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে পদদলিত করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করে।

শেখ মুজিব ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে । শেখ মুজিব বাক স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করে। বাকশাল সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি সংবাদপত্র ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেখ মুজিবের রক্ষীবাহিনীর গুম, খুন ও নির্যাতন চরম আকার ধারণ করে। সমগ্র জাতি শঙ্কিত ও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুর কামনায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনায় মগ্ন থাকে।

বিভীষিকাময় এমনি এক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ ও বিশৃঙ্খলার ফলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতীয় জীবনে এক মর্মান্তিক ও কলঙ্কময় ঘটনার মাধ্যমে বাকশালের পতন ঘটে। আওয়ামী লীগের অপর এক নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও তার সহযোগীরা ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ তারিখে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং দেশে সামরিক আইন ঘোষণা করে। সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে

১৯৭৫ সালের ১ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে অনিশ্চয়তা ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতির ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে খন্দকার মোশতাক আহমেদ সরকারের পতন হয়।

অতঃপর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৭ তারিখে লে. জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৩৬ সালের এমনই একটি দিনে বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল, তখন কে জানত এ শিশু বড় হয়ে তার প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন, বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপতি হবেন? বিশ্ব ইতিহাসে শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। শহীদ জিয়া বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধকে রূপদান করেছিলেন একটি সমন্বিত মুক্তিযুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা থেকে শুরু করে বাংলাদেশী জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থান ও বিনির্মাণে তিনি কালজয়ী অবদান রেখে গেছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেউলিয়াপনায় সমাজে চলছিল অস্থিরতা, সৃষ্টি হয়েছিল বৈষম্য। সামন্ত সমাজের নকল নবাবীর পরিণতিতে আমরা দেখেছি একদলীয় শাসন, দুর্নীতি ও দুঃশাসন।

জিয়াউর রহমান বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সম্প্রসারণবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে বটবৃক্ষের মতো বৃহৎ রাষ্ট্রের পাশে তালতরুর মতো শির উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যখন বিরোধী দলের ওপর সরকারি দলের দমন-নির্যাতন শুরু হয় তখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে আদর্শবিহীন সুযোগসন্ধানীরা।

শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মপরিকল্পনাকে সামনে রেখে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে এগিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্রপতি জিয়া বলতেন, ‘আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, তা না হলে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যাবে না। তাই সংগঠনে যারা থাকবেন, তাদেরকে পার্টির আদর্শ অবশ্যই জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং সেটা বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আজ গণতন্ত্র রক্তাক্ত। সেই গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। জিয়ার প্রদর্শিত পথেই জনগণ বেগম জিয়ার পাশে রয়েছেন। চলমান সঙ্কটে তার সাথে বিদেশ থেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। জাতীয় সঙ্কটে গণতান্ত্রিক উত্তরণে তাদের প্রতি অবিচল আস্থা রাখার মধ্য দিয়েই জিয়ার আদর্শের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির একটি উজ্জ্বলতম অধ্যায়ের নাম জিয়া। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে জাতীয় ইতিহাসের এক ক্রান্তিলগ্নে তাকে এ পথে আসতে হয়েছিল। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস, এ জাতি তাকে হারিয়েছে এমন একসময়ে যখন তারই প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি।

জিয়া আজো বেঁচে আছেন তার কর্মের মাধ্যমে, গণতন্ত্রের দিশারীরূপে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় শহীদ জিয়ার সততা, অনন্যসাধারণ বক্তিত্ব ও ন্যায়বোধ জাতির মানসলোকে ধ্রুবতারার মতো ভাস্বর হয়ে আছে, থাকবে চিরদিন।

শহীদ জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে দেশনেত্রী বেগম জিয়া বিএনপিকে সংগঠিত করে বিরাজমান সঙ্কটাবস্থা কাটিয়ে উঠবেন, এ দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে।

শহীদ জিয়ার রৌদ্রকরোজ্জ্বল ইতিহাসের প্রতি অবশ্যই আমার দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক যে দর্শন রেখে গেছেন, তা আনাগত দিনগুলোতে নতুন প্রজন্মের পাথেয়।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ‘বাকশাল’ পূর্ব ও পরবর্তী সময়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। দেশে এখন গণতন্ত্র অনুপস্থিত, বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত এবং দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। জঙ্গি ভীতিতে আতঙ্কিত জনপদ। দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আজ নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটের মহোৎসব চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভও ডাকাতি হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশের রিজার্ভ ব্যাংকে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার নজির নেই। সমাজের সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি স্থায়ী বাসা বেঁধে বসেছে।

অর্থমন্ত্রীর ভাষায় প্রকল্পগুলোতে বর্তমানে ‘পুকুর চুরি হয় না, সাগর চুরি’ হয়। সরকার বর্তমানে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করেছে। দেশে চলছে অলিখিত ‘বাকশালী’ শাসনব্যবস্থা। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে ‘বাকশালী’ শাসনব্যবস্থা যেভাবে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছিল এবং দেশে একটি ক্রান্তিকাল সৃষ্টি করেছিল, আজ ঠিক একই অবস্থা বিরাজ করছে।

বাকশাল সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে যে দলটি শহীদ জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারে একমাত্র শহীদ জিয়ার আদর্শের দল বিএনপি। এ বাস্তবতাকে উপলব্ধি করেই বর্তমান অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের লাখ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের স্টিমরোলার চালাচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর কোনো দেশে স্বৈরাচার, একনায়কত্ব এবং ফ্যাসিবাদী সরকার বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি। বাংলাদেশেও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না।

দলের ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সবগুলো পুরনো কমিটি নিয়ে কাজ করছে। এরমধ্যে কৃষক দলের কমিটি ১৯ বছরের পুরনো। জাতীয়তাবাদী যুব দলে ৮ বছর, স্বেচ্ছাসেবক দল ৭ বছর, মহিলা দল ৫ বছর, মৎস্যজীবী দল ৬ বছর, উলামা দল ১২ বছর, ছাত্রদল ৩ বছরের পুরনো। সব কমিটি তামাদি হয়ে আছে।

চেয়ারপার্সন ও মহাসচিবের বাণী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আজকের দিনটি আমাদের সবার জন্য আনন্দ ও প্রেরণার। ১৯৭৮ সালের এই দিনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাকশালী একদলীয় দুঃশাসনের জের ধরে সে সময়ে দেশে বিরাজমান চরম জাতীয় সংকটের কারণে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল তা পূরণ করতে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি বিগত ৩৮ বছরে বার বার সকলের অংশগ্রহণমূলক জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং দেশ ও জনগণের সমৃদ্ধি ও কল্যাণে কাজ করে গেছে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের এই প্রিয় দল অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। বাংলাদেশের নিজস্ব স্বকীয়তা, স্বাধীনতা রক্ষায় বিএনপি তার ভূমিকা পালন করে চলেছে।

বিএনপি প্রধান বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশসহ দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিএনপির বলিষ্ঠ ভূমিকা জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। এই কারণেই বিএনপি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ। অপর এক বার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

দেশের জনগণকে এ সরকারের জুলুম, অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার ঐতিহাসিক দায়িত্ব জনগণের বিশ্বস্ত ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের। বর্তমান ক্রান্তিকালে দলকে আরও সুসংগঠিত, সাংগঠনিকভাবে অধিকতর শক্তিশালী এবং দেশের সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে অনির্বাচিত, ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা আজ সময়ের দাবি।

‘স্বৈরাচার হঠাও, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানকে ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া জাতির সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

লেখক

সূফি বরষণ