শুভ জন্মদিন কোটি জনতার আশা আকাঙ্খার প্রতীক দেশনায়ক তারেক রহমান

0

আগামী ২০ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান, আজকের প্রজন্মের দিকনিদের্শক তারেক রহমানের ৫২তম জন্মদিন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা, স্বনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও গণতন্ত্রের আপোসহীন সৈনিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পিতৃহারা তারেক রহমান দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে সম্মান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে বগুড়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

bnp-137

১৯৯১ সালের নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে প্রায় নেপথ্যে থেকে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তারেক রহমান। তারেক রহমান সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পরই তার জনপ্রিয়তায় ও জাতীয়তাবাদী শক্তির জাগরণে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা ভীত হয়ে চক্রান্ত শুরু করে। রাজনীতিতে এসেই তারেক রহমান বুঝতে পারেন দেশের উন্নয়ন চাইলে গ্রামের উন্নয়ন করতে হবে। তাই তিনি পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে গ্রামেগঞ্জে, পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি গ্রামাঞ্চলের কৃষক- খেটে খাওয়া গরীব – মজুর – দুঃখী মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সুখ – দুঃখ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরই দূরদর্শিতা, অক্লান্ত পরিশ্রম, প্রজ্ঞা ও ক্যারিশমার কারণে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয় ২০০১ সালের নির্বাচনে। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

images-12

দলের উর্দ্ধতন পর্যায়ে নিয়োগ লাভের পরপরই তারেক রহমান দেশব্যাপী দলের মাঠপর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সাথে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। তারেক রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে গভীর সেতুবন্ধন নির্মাণ করতে তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে একটি সুসংঘবদ্ধ বিএনপি গড়ে ওঠে। এ সভাগুলোতে তারেক রহমান মূলত দলের গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের সাথে দীর্ঘ মতবিনিময় করেন। তৃণমূল পর্যায়ের এই সভা ও জনসংযোগ কার্যক্রমের ফলে দলের নেতাকর্মীদের তরুণ অংশটির মনোবল অসামান্য বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে তারেক রহমান শুধুমাত্র দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তানের পরিচিত থেকে বেরিয়ে এসে দলের একজন দক্ষ সংগঠক ও সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

images-14

বিএনপির রাজনীতি বদলাতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। ড্রইং রুম থেকে রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তৃণমূলে। ফসলের উন্নত বীজ আর দেশের আয়তন বাড়ানোর চিন্তাও ছিল তার। এক যুগের বেশি সময়ের রাজনীতির ক্যারিয়ারে সাংগঠনকিভাবে বিএনপিতে সবচেয়ে কার্যকর নেতা হিসেবেই অভিষিক্ত হন তিনি। তারেক রহমানকে সবচেয়ে বেশি পুড়িয়েছে বিরোধীদের বাক আক্রমণ। জোট জমানায় হাওয়া ভবনে ক্ষমতার দ্বিতীয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। বিরোধীপক্ষের রাজনীতিবিদেরা তাদের প্রতিটি বক্তব্যে দুর্নীতি আর অর্থ পাচারের অভিযোগ আনেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। এ যেন এক নিয়মিত পরিবেশনা।

বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছিলেন তিনি। দুর্নীতির কেন্দ্র নয়, হাওয়া ভবনকে অভিহিত করেছিলেন গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে। হলুদ সাংবাদিকতা করা পত্রিকা গুলো হাওয়াভবন কে দুর্নীতির আখড়া বলে গোয়েবলসীয় প্রচারণা চালিয়েছিল অথচ হাওয়াভবন থেকে জব্দ করা কম্পিউটারে বিএনপির তৃনমূল প্রতিনিধি সভায় সংগ্রহ করা প্রতিনিধিদের নাম ঠিকানা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি , যার প্রমান গত ছয় বছরে-ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা-ও প্রমানিত করতে পারেনি! আর প্রমানিত করবেই বা কিভাবে , দুর্নীতি করলে তো তার প্রমান থাকবে , না করলে তার প্রমান কোথায় পাবে ! আসলে হাওয়া ভবন তো ছিলো বিএনপিকে তৃনমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য তৃনমূল প্রতিনিধিদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহের এবং তৃনমূল থেকে বিএনপিকে শক্তিশালী করে তোলার একটি পাওয়ার হাউজ !

এক-এগারো তার জীবনে নিয়ে আসে চরমতম বিপর্যয়। মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাকে। তবে তারেক রহমানের সঙ্গে নির্মমতার কাহিনী সেখানেই শেষ হয়নি। যৌথ বাহিনীর হেফাজতে থাকার সময় তার ওপর চালানো হয় নির্যাতন। যে নির্যাতনে পিঠের হাড় ভেঙে যায় তারেক রহমানের। পরে সুপ্রিম কোর্টের জামিনে চিকিৎসার জন্য চলে যান বৃটেনে। ২০০৮-এর ১১ সেপ্টেম্বর চিকিত্সার জন্য লন্ডন যাত্রা। ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। আগের চেয়ে অনেক সুস্থ, তবে এখনও খুঁড়িয়ে হাঁটেন। কিন্তু কখনও পুরোপুরি সুস্থ হবেন না। তবে অসম্ভব উঁচু তার মনোবল। কত ঋজু তার আত্মিক ভঙ্গিমা—‘তিক্ত অতীত ভুলে এখন সামনের দিকে এগোতে চাই। একদিন আমি ফিরব। বাংলাদেশ নিয়ে আমার স্বপ্নের রূপায়ন ঘটাবো।’

images-15

তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তারেক রহমান। ঘুরে বেড়িয়েছেন ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে, গ্রাম থেকে গ্রামে। তার বিরুদ্ধে চলা দিনের পর দিন প্রচারণা কিছুটা হলেও আঁচড় কেটেছিল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মনে। তবে একটি রায়ে বদলে গেছে দৃশ্যপট। যদিও হাসিনা সরকার নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে ট্রাইবুনাল, উচ্চ আদালত সহ সব জায়গায়েই তার কালো হাত প্রসারিত করেছে! যার একটি জলজ্যান্ত উদাহরন হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় টি নিজের ইচ্ছা মত লিখিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ! তাছাড়া বিরোধী নেতাদের জামিন দেয়াতে হস্তক্ষেপ সহ বিভিন্ন ভাবে সরকার নিজের দরকার মতো আদালতকে ব্যাবহার করে বিচার বিভাগ কে অথর্ব করে তুলেছে! তারপরো কিছু বিচারক নিজের বিবেক ও বুদ্ধি অনুযায়ী রায় দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের ভাগ্যে নেমে আসে বিপর্যয়! তারেক রহমানকে আইন অনুযায়ী কোন দোষ না পেয়ে বেকসুর খালাস দেয়ায় যেমন খড়গ নেমে এসেছে বিচারক মোতাহার হোসেনের উপর! তাকে দেশ ছাড়া করে ছেড়েছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার! মজার ব্যাপার হচ্ছে লীগের সমর্থনকারীরা তারেক রহমান কে সব সময় মহাদুর্নীতিবাজ বলে প্রচারণা চালায় অথচ তার নামে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা দিতে পেরেছে যা আবার আজ পর্যন্ত কখন- ও প্রমানিত করতে পারেনি!পক্ষান্তরে , হাসিনার ছেলে জয় এবং মেয়ে পুতুল , হাসিনার মন্ত্রী সভার আবুল , হাসিনার উপদেষ্টা মোদাচ্ছের -এর ছত্রছায়ায় তানভির , হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা সালমান রহমানরা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত ও দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করলে ও তারা দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে! বিরুদ্ধ শক্তি ক্ষমতায় থাকতেও আদালতের রায়ে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও এ রায়ে তারেক রহমান ফিরে গেছেন আবার তৃণমূলে। যে তৃণমূলই তার রাজনীতির ধ্যান-জ্ঞান। এ এক রাজনীতিবিদের পুনরুত্থানের কাহিনী ।। শৈশবে পড়া কবি হরিশচন্দ্র মিত্রের কবিতা “বড় কে” যেন দেশনায়ক তারেক রহমানের জীবন-চরিত।

images-49

“আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়/ লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়। বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার/ সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার। গুণেতে হইলে বড়, বড় বলে সবে/ বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।”

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তিনি। তারেক রহমানকে ধরে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দিন শেষ। এ ক্ষেত্রে সরকারের তাবত্ ক্ষমতা নিঃশেষ আর আন্তর্জাতিক মহলেও তার সম্পর্কে বিভ্রান্তির অবসান হয়ে গেছে। তিনি কবে ফিরবেন—আজকের বাংলাদেশে একটি  মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। কতিপয়ের ভ্রূকুটি বাদ দিলে, দেশবাসী তার বাংলাদেশ-কাঁপানো প্রত্যাবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছে। তাঁর এই ৫২তম জন্মদিনে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা অতি স্বত্বর চিকিৎসা শেষে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তিনি বীরের বেশে তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন।

 শুভ জন্মদিন দেশনায়ক তারেক রহমান।

images-48