শিশুকে ধর্ষণ করে যুবলীগ নেতা হাতেনাতে ধরা

0

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের এক শিশুকে ধর্ষণের সময় স্থানীয়রা যুবলীগের এক নেতাকে হাতেনাতে আটক করেছে। তার নাম শামছুল মিয়া চৌধুরী (৩২)। তিনি উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধর্ষণ করার সময় হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনী দেয়। পরে তার হুমকির কারণে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। শনিবার সকালে ধর্ষিতা শিশুর মা যুবলীগ নেতা শামছুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমণ আইনে মামলা করেন। পরে দুপুরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবার সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে শিশুটি ঘরের একটি কক্ষে ঘুমিয়েছিল। রাতে প্রতিবেশী শামছুল দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। শিশুটির চিৎকারে তার মা কক্ষে ঢুকে শামছুলকে ধর্ষণ করতে দেখে চিৎকার দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা শামছুলকে ওই ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তখন শামছুল মিয়া সেখানে উপস্থিত সবাইকে শাসিয়ে বলেন, এ ঘটনা নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করলে তিনি তাঁকে ‘দেখে নেবেন’। এসময় স্থানীয়রা এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মাহমুদ আলীকে ডেকে এনে ঘটনাটি তাকে জানায়। এরপর মাহমুদ আলী রাত ২টার দিকে শামছুলকে অনুরোধ করে ওই ঘর থেকে বাইরে নিয়ে আসেন।

মাহমুদ আলী বলেন, শামছুল কাগাপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। তাঁর পরিবার এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী। এ কারণে ভয়ে কেউ তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস করে না।

ওই শিশুর মা বলেন, ঘটনার পরও শামছুল তাঁদের শাসিয়ে গেছেন, যেন মামলা না করেন। এমনকি শামছুলের পক্ষ নিয়ে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাঁরা মামলার পরিবর্তে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে চান।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এরপর শামছুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।