শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে দুর্নীতি লুটপাট কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলন

0

জিসাফো ডেস্কঃশিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে দুর্নীতি-লুটপাটের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এরা সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। খোদ প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে গড়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেটটি। এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী হানজালার আপন ভাই দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল হাই। নামে-বেনামে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের অধিকাংশ টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন এখন এই আবদুল হাই। হানজালার ছোটভাই আবদুল হাই ছাড়াও, তার বড় ভাই, ভাতিজা, নিজের শ্যালক, ভাইয়ের শ্যালক, আপন খালাতো ভাই এবং একাধিক বন্ধু নিয়ে গড়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান প্রকৌশলী তার অবৈধ অর্থ আয়ের সুবিধার জন্য একে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত নির্বাহি প্রকৌশলী মীর মুয়াজ্জেম হোসেন, মো, আবুল হাসেম সরদার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেনও প্রধান প্রকৌশলীর এই সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই দুর্নীতি-অপকর্মের চিত্র কিছুটা তুলে ধরা হয়েছে। বেসরকারি শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজ গত ২৯ আগস্ট এ ব্যাপারে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এরপর সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের অনুসন্ধানে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সরকারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কারের নামে সিন্ডিকেটটি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। কাজ না করেই কাজের ভুয়া অগ্রগতি দেখিয়ে বিল তুলে নেয়া হয়েছে। অধিকাংশ মেরামত ও সংস্কার কাজেরই এ অবস্থা। অন্যদিকে নতুন যেসব নির্মাণ কাজ হচ্ছে তাও অত্যন্ত নি¤œমানের। কোথাও রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ কাজ করানো হচ্ছে, কোথাও আবার রড বা বাঁশ ছাড়াই শুধুমাত্র সিমেন্ট-বালি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর প্রধান প্রকৌশলী নিজে বাঁচার জন্য অন্য প্রকৌশলীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি কাউকে কাউকে লোক দেখানো শোকজও করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব অনিয়মের সঙ্গেই প্রধান প্রকৌশলী সরাসরি জড়িত। প্রত্যেকটি টেন্ডারের আর্থিক অনুমোদন তার হাতেই চূড়ান্ত হয়। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ কাজের বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রধান প্রকৌশলীর নির্ধারিত সিন্ডিকেটের লোকজন রয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীর সরাসরি যোগাযোগ আছে। কে কী করছে না করছে প্রধান প্রকৌশলী সবই জানেন। কাজে ফাঁকি, অনিয়ম-দুর্নীতি কোন কিছুই তার নজরের বাইরে নয়।
সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের অনুসন্ধানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ঢাকা মেট্রো জোনের গত জুন মাসের ১০৮টি কাজের তালিকা পাওয়া গেছে, যেসব কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এরমধ্যে দু’চারটি নতুন নির্মাণের কার্যাদেশ, বাকি সব কাজই মেরামত ও সংস্কার সংক্রান্ত। নামে-বেনামে এসব কাজ পেয়েছেন হানজালার ভাই, ভাতিজা, খালাতো ভাই, বন্ধু-বান্ধব। এরা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। কাজ না করেই এসব কাজের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে গত জুন মাসে। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সাধারণত মেরামত ও সংস্কার কাজে প্রতিটিতে বরাদ্দ থাকার কথা ৩ লাখ/ ৪ লাখ অথবা ৫ লাখ টাকা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক কাজেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। কোন কোনটি ১৫ লাখ/ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। যেটা ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের জন্য অকল্পনীয় বিষয় ছিল। লুটপাটের সুবিধার জন্যই একেকটি কাজে এতো বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।
সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ঢাকা জোনের দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য-প্রমাণসহ একাধিক প্রতিবেদন ছেপেছে। ওইসব প্রতিবেদনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ঢাকা জোনের নির্বাহি প্রকৌশলী মির্জা নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছিল। গত ৫ মে মির্জা নজরুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার পর এ পদে নিয়োগ দেয়া হয় আবুল কালাম মো. আক্তারুজ্জামানকে। তিনি ইতিপূর্বে ফরিদপুরের নির্বাহি প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। সিনিয়র প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে অত্যন্ত দুর্নীতিবাজ বলে পরিচিত এই কর্মকর্তাকে ঢাকা জোনের নির্বাহি প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়াতে প্রতিষ্ঠানটির সবাই অবাক হয়েছেন।
জানা গেছে, আবুল কালাম মো. আক্তারুজ্জামান ঢাকার নির্বাহি প্রকৌশলী পদে যোগদানের পর তার হাত দিয়েই এসব টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রদান এবং বিল পরিশোধ হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার আপন ভাই দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ীই সবকিছু চলছে বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন ঢাকা জোন অফিসের একজন কর্মকর্তা। আবদুল হাই নিজেই প্রায় ১০ কোটি টাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেরামত কাজ নিয়েছেন গত জুন মাসে। মেরামত না করেই অর্থাৎ শুধুমাত্র চুনকাম করেই এসব বিল তুলে নিয়েছেন তিনি। আবদুল হাই নিজের প্রতিষ্ঠান পদ্মা কনস্ট্রাকশন ছাড়াও স্ত্রীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফিরোজা এন্টারপ্রাইজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা কৌশল খাটিয়েছেন। নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়েছেন ছোটখাটো কাজ। অন্যদিকে বড় কাজগুলো নিয়েছেন নিজের স্ত্রী এবং বন্ধু-বান্ধবদের প্রতিষ্ঠানের নামে। যাতে দুর্নীতিতে ধরা না পড়েন সেই উদ্দেশ্যেই তিনি এমন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু, তার এ অপকর্ম হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে। আজিমপুরস্থ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের একটি নির্মাণ কাজের টেন্ডারে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার। আবদুল হাইয়ের বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামস এন্টারপ্রাইজের নামে কার্যাদেশটি দেয়া হয়েছিল। গত ২৫ জুন এই প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। এর তিন দিন পর ২৯ জুন একই কাজের জন্য আরো ৩৫ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। তিন দিনের মাথায় নতুন করে ৩৫ লাখ টাকার কাজের অগ্রগতির বিল পরিশোধের ঘটনায়ই প্রমাণিত হয় যে, এসব বিল পরিশোধে কতটা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বাস্তবে তখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি তেমন কিছুই ছিল না। কাগজে-কলমে ভুয়া অগ্রগতি দেখিয়েই এ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সাংবাদিকরা সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ অনিয়ম প্রত্যক্ষ দেখতে পান। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দেওয়ান মো. আবদুল হাই কাজটি পেয়েছে। সে-ই তো কাজটি করছে। এই কাজের কোন বিল পরিশোধ করা হয়েছে কিনা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নেই, বিল কীভাবে পরিশোধ হলো- উল্টো সাংবাদিককে তিনি এ প্রশ্ন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইডেন কলেজ সম্প্রসারণ বাবদ ২ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৫শ’ ১৩ টাকার কার্যাদেশ এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ৪ তলা হোস্টেল ভবনের টয়লেট ব্লকসমুহের স্যুয়ারেজ মেরামত-সংস্কার বাবদ ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৪ টাকার কার্যাদেশ পেয়েছে মেসার্স ফিরোজা এন্টারপ্রাইজ। এই প্রতিষ্ঠানটি আবদুল হাইয়ের স্ত্রীর। টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের বৈদ্যুতিক বিতরণ লাইনের মেরামত বাবদ ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৯২৭ টাকার কাজ বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামস এন্টারপ্রাইজের নামে নিয়ে আবদুল হাই নিজেই তা করছেন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ৩ তলা হোস্টেলের টয়লেট ব্লকসমুহের পানির লাইন ও স্যুয়ারেজ মেরামত-সংস্কার বাবদ ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ২৯ টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে আবদুল হাইয়ের শ্যালকের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের নামে। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ প্রধান শিক্ষকের কক্ষ সংলগ্ন স্টোর রুমের সম্প্রসারণ কাজ (১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার), গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ৩ তলা শিক্ষক কোয়ার্টারের মেরামত ও সংষ্কার কাজ (১৪ লাখ ৯১ হাজার টাকার)সহ ৪টি কাজ পেয়েছে মেসার্স সপ্তদীপা সংসদ। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল হক, যিনি প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালার আপন খালাতো ভাই। হানজালার বাসায়ই তিনি বসবাস করেন। টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার নির্মাণ, ধানমণ্ডি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় উভয় ব্লকের ছাদের জলছাদ ও সংস্কার কাজ, ধানমণ্ডি গার্লস স্কুল- উত্তর ব্লকের মেরামত কাজ এবং ধানমণ্ডি গার্লস স্কুল- নামাজ রুমের মেরামত কাজ পেয়েছে প্রধান প্রকৌশলী হানজালার আরেক খালাতো ভাই গোলাম মোস্তফার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএম এন্টারপ্রাইজ। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট- দক্ষিণ গেট মেরামত ও সংস্কার কাজ (৯ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪ টাকার) পেয়েছে হানজালার আপন বড় ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ। হানজালার ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফিদ ইন্টারন্যাশনাল ইডেন মহিলা কলেজের ৬টি আলাদা বড় কাজ পেয়েছে, যার ৫টিই মেরামত ও সংস্কার সংক্রান্ত। এগুলো হলো, সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ-শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী নিবাসের ভিতরের (দক্ষিণ পার্শ্বের) মেরামতসহ প্লাস্টিক পেইন্টের (১৫,৩৭,৮০২ টাকার) কাজ, সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ-শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী নিবাসের মেরামত ও সংস্কার (১৫ লাখ ৩০ হাজার ৪১০ টাকার) কাজ, সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ-শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী নিবাসের বাহিরের অংশ কোট করুন (১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬৯ টাকার) কাজ, সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ-শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী নিবাসের পাম্প মোটর স্থাপনসহ পানির লাইন মেরামত (২০ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৯ টাকার) কাজ, ইডেন মহিলা কলেজ- বাস্কেট বল, টেনিস ও প্লে গ্রাউন্ড নির্মাণ (২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৬৬ টাকার) কাজ এবং ইডেন মহিলা কলেজ- ২ নং ভবনের বিভিন্ন মেরামত ও রং করণ (৯ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকার) কাজ। এ কাজগুলো বন্ধুর প্রতিষ্ঠানের নামে নেয়া হলেও কাজের মালিকানা আসলে আবদুল হাইয়ের নিজেরই।
আবদুল হাইয়ের আরেক বন্ধুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিফাত এন্টারপ্রাইজ পেয়েছে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আলাদা ৬টি মেরামত ও সংস্কার কাজ। ঢাকা জোনের সাবেক নির্বাহি প্রকৌশলী মির্জা নজরুল ইসলামের আপন ভাই মির্জা আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৪টি মেরামত ও সংস্কার কাজ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, টেন্ডারে ম্যানিপুলেট করা না হলে কোন ক্রমেই একটি প্রতিষ্ঠান এতোগুলো কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। নির্বাহি প্রকৌশলী ছাড়াও এই ম্যানিপুলেশনের সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা সরাসরি জড়িত।
তবে প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালাকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শীর্ষকাগজের এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ভাই-ভাতিজা কী তাহলে ব্যবসা করবে না? তিনি দাবি করেন, সবগুলো কাজই নিয়ম-মাফিক হচ্ছে।
ঢাকা জোনের নির্বাহি প্রকৌশলী আবুল কালাম মো. আক্তারুজ্জামানকে এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি কাগজপত্র না দেখে কিছুই বলতে পারবো না। আপনি পরে ফোন করুন। পরবর্তীতে অনেকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। এমনকি এসএমএস’র পরও তিনি ফোন রেসপন্স করেননি। ইতিমধ্যে বেসরকারি টিভি চ্যানেলে তার দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তিনি অফিসে আসা-ই ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

[ সূত্রঃ সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজে ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত]