শিক্ষক আন্দোলনে অচল কেনিয়া

0

ঢাকা: আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে দেশের সকল বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। গত তিন সপ্তাহ ধরে শিক্ষকদের ধর্মঘট চললে গত মাসের শেষ দিকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো এক প্রকার অকার্যকর হয়ে যায়। এমন অবস্থায় শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত আদলতের এক আদেশের বিপরীতে সরকারি চ্যালেঞ্জের মুখে সরকারের উচ্চপদস্থরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যায়।

কেনিয়ার আদালত শিক্ষকদের বেতন ৫৪ ভাগ বৃদ্ধির আদেশ দেওয়ায়, সরকার সেই আদেশের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ করে। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা আন্দোলনে নামে এবং তারা জানায় যতদিন পর্যন্ত সরকার তাদের ন্যায্য পাওনা না দিবে তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এ প্রেক্ষিতে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট হুরু কেনিয়াত্তা বলেন, গত বিশ বছর ধরে শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন দিচ্ছে সরকার। তার ওপর যদি আবার বেতন বৃদ্ধি করতে হয় তাহলে সরকারি কোষাগার তথা দেশের সার্বিক অর্থনীতির উপর তা প্রভাব ফেলবে। যদিও শিক্ষকদের দাবি তাদের ১৯৯৭ সালের বেতন বৃদ্ধির অর্ধেকটাই এখনও আটকে থাকায় তাদের এই আন্দোলন অনিবার্য। কিন্তু সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির দোহাই দিয়ে কোর্টের এই আদেশকে অযৌক্তিক হিসেবে দেখছে।

এদিকে গত শুক্রবার কেনিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে এই মূহুর্তে ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রাথমিক (কেসিপিই) ও মাধ্যমিক (কেসিএসই) পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র দশ লক্ষ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পরিক্ষার্থীকে তাদের ক্লাশে যেতে বললেও সবাই শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ করছে।

শিক্ষা সচিব লিয়া রটিক বলেন, এ সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো করা হয়েছে। নির্দেশনা সম্বলিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সকল সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে। ধর্মঘটের কারণে সকল ক্লাশ স্থগিত হওয়ায় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হচ্ছে না তাই এতে আরো নির্দেশনা দেওয়া হয়, প্রথম শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে না আসার জন্য। শিক্ষা সচিব এতে সকল শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, খুবই জরুরি হয়ে পড়ায় বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ইতোমধ্যে তৃতীয় টার্ম পরিক্ষার যে ফি প্রদান করেছেন তা ফিরিয়ে দেয়া হবে কি না এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু গত বছর একই ভাবে ধর্মঘটের কারণে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তখন শিক্ষা মুখ্যসচিব বেলিও কিপস্যাং বলেছিলেন যে, অভিভাবকের দেওয়া ফি ফিরিয়ে দেওয়া হবে নয়তো সেটা পরবর্তী টার্মের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। ফি ফিরিয়ে নিতে চাইলে এই বিষয়ে তিনি সকল অভিভাবকদেরকে তাদের সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন।

এদিকে শিক্ষা সচিব লিয়া রটিক কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেগুলো ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিয়েছিল সেগুলোকেও দায়ী করেছেন বিদ্যালয় বন্ধের কারণ হিসেবে। এক্ষত্রে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বকেই প্রধান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরই উচিত এদের নিরাপত্তা বিধান করা। এদিকে ছাত্রছাত্রী আর শিক্ষকদের নানামুখি প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। জয় এনিয়াঙ্গো নামের এক ছাত্র জানায়, তার আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে সংশয়ের কথা। উগুলিন কিমারো, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত, বলেন, মাওরা বুঝতে পারছি যে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে কিন্তু আমাদের আন্দোলনের একটা মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে সেটা আশা করি সবাই বুঝবেন।