শাসকদলের লোকেরা নির্বাচনী পরিবেশ আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে : বিএনপি

0

নজরুল ইসলাম,নয়াপল্টন,ঢাকাঃ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী  বলেছেন, নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনিয়ম ও সহিংস তান্ডব ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)নিষ্ক্রিয় পদক্ষেপ ছাড়া আর কোন ভূমিকাই জনগণ দেখতে পায়নি। এমপি ও মন্ত্রীরা অবলীলায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে যাচ্ছেন। নির্বিচারে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গণগ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ শাসকদলের লোকেরা আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। আওয়ামী শাসকদল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে এরাই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সবচেয়ে বেশী অপমান করেছে।  আজ সকাল ১১টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেণ।

তিনি বলেন, সরকারের বিভৎস দলবাজী ও দুর্বৃত্তপনার নানা কর্মকান্ড সর্ম্পকে নির্বাচন কমিশনকে  অভিহিত করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। নির্বাচন কমিশন বিএনপি’র অভিযোগ তদন্ত করে দেখবেন বলে জানালেও আমরা আশঙ্কামুক্ত হতে পারছি না। নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত অনিয়ম ও সহিংস তান্ডব ঠেকাতে কমিশনের নিষ্ক্রিয় পদক্ষেপ ছাড়া আর কোন ভূমিকাই জনগণ দেখতে পায়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচনের অটো এমপি ও মন্ত্রীরা অবলীলায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে যাচ্ছেন। মুক্তিপণ আদায়ের মতো ধানের শীষের প্রার্থীদের কিডন্যাপ করে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর গ্রহণ করছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা হলফনামায় তথ্য গোপন করলেও কমিশন কর্তৃক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যৌথবাহিনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষার নামে পৌর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে মূলত: সাধারণ ভোটারদেরকেই মোকাবেলা করছে বাড়াবাড়ী রকমের বল প্রয়োগ করে। নির্বিচারে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গণগ্রেফতার এখনও অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ শাসকদলের লোকেরা আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাচন কমিশনের বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে-কমিশন ডিসকাউন্ট রেটে নয়, একদম বিনা পয়সায় শাসকদলের অশুভ ইচ্ছার কাছে নির্বাচনী পরিবেশ বিক্রি করে দিয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, গতকাল দেশের বিভিন্ন পৌরএলাকার বিজয় র‌্যালীতে মন্ত্রী-হুইপ-এমপিরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির চুড়ান্ত লঙ্ঘন।

ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হাজি মোমতাজের সমর্থক ও ভোটারদেরকে যৌথবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে।

এছাড়াও রাজশাহী বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী শামসুর রহমান মিন্টরু নির্বাচনী প্রচারণায় মারাত্মকভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ভোটারদের বাড়ীতে বাড়ীতে বিএনপি প্রার্থী মিন্টুকে ভোট না দেয়ার জন্য ব্যাপক হুমকি দেয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী নাসিরউদ্দিনের পক্ষে কোন প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেয়া হচ্ছেনা। যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে বলে যে, এমপি’র নির্দেশেই তারা এসব করছে, কারণ এমপি সাহেবের সহধর্মীনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

মুন্সীগঞ্জের সদর পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে প্রচারকারীদের ওপর হামলা, মাইক বাজাতে না দেয়াসহ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে শাসকদলের কর্মীরা। তারা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে মহড়া দিচ্ছে-পুলিশের নাকের ডগায়। পুলিশী হামলার কারনে ধানের শীষের পক্ষের কর্মীরা কেউ নিজের বাসায় অবস্থান করতে পারছে না। আওয়ামী শাসকদল  মুক্তিযুুদ্ধের চেতনার কথা বলে এরাই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সবচেয়ে বেশী অপমান করেছে।

বরগুনার বেতাগী পৌর নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী মো: হুমায়ুন কবিরের সমর্থকদের ওপর প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আওয়ামী সশস্ত্র কর্মীরা ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়েছে।

ফেনীর দাগণভূঁইয়া পৌরসভার ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী প্রাণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন। এদিকে নৌকা মার্কার প্রার্থী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন তার লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের উল্লেখ না করে।

তিনি বলেন, সরকারী তান্ডবের মুখে নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই নয়টি পৌরসভায় বিএনপি’র প্রার্থীদের  মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে পরিকীর্ত্তণকারী আওয়ামী শাসকদল রক্তারক্তি, হত্যা ও ভোট ডাকাতিতে আগ্রহী একটি দল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে এরাই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সবচেয়ে বেশী অপমান করেছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদকে অবহেলা ও তাচ্ছিল্য করেছে। ৭১-এ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে একঘেঁয়ে কুৎসা, নির্জলা মিথ্যা ও জঘন্য বিকৃতিমূলক বক্তব্য ক্রমাগত দিয়ে যাচ্ছে। গতকালও বঙ্গভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীককে রাষ্ট্রপতির দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনের আমন্ত্রণ পেয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যেয়ে বঙ্গভবন গেট থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং শাসকদলের এইসমস্ত কীর্তি কলাপে এটাই প্রমানিত যে, এরা না মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, আর গণতন্ত্রকে শত্রুজ্ঞান করে। আর এজন্যই এরা বারবার গণতন্ত্র নিধন করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিষ্ট পদ্ধতির সাহায্যে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখে।

সুতরাং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জনগণকে অন্ধের হাতি দেখিয়ে লাভ নেই। কারণ জনগণের চোখ সদা জাগ্রত। সকল অপকীর্তিই তাদের কাছে দ্রষ্টব্য। বাংলাদেশের মাটিতে স্বৈরতন্ত্রের যে বিভৎস আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তাকে ঠেকিয়ে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং ভয়মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তা না হলে কমিশনের জেনেশুনে বিষ পান করার  মতোই বিষয়টি দাঁড়াবে।

আমরা মনে করি-ঢালাও দমন-পীড়ন মোকাবেলা করতে একমাত্র ধারালো অস্ত্র হচ্ছে সংগঠিত জনগণের সম্মিলিত শক্তি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করে হলেও নি:শেষিত, সংকুচিত গণতন্ত্র প্রসারিত করতে সরকারের সকল চক্রান্ত, জুলুম-নির্যাতন ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করে আগামী পৌর নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান করতে হবে।