শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লিখিত প্রবন্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব (শেষ অংশ)

0

আমাদের দর্শন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বপ্ন শোষণমুক্ত সমাজ কায়েম করতে হলে আমাদের দিতে হবে সমগ্র স্বাধীনতা। সেই সমগ্র স্বাধীনতা যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা যেটাকে বাস্তবায়িত করতে হবে বহুদলীয় গণতন্ত্র। বিভিন্ন ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ , রেস ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সেক্রেটারি জেনারেল সাহেব একটু আগেই পরিষ্কারভাবে বললেন। রেস মানে জনগোষ্ঠি ভিত্তিক, কেবলমাত্র জনগোষ্ঠী ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ হতে পারেনা। জার্মান জাতীয়তাবাদ, আরব জাতীয়তাবাদের ব্যর্থতা সেটাই প্রমাণ করে। ভাষাভিত্তিক বাকশাল আওয়ামীলীগাররা বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে যে জাতীয়তাবাদ বাঙালি জাতীয়তাবাদ সেটা বাংলাদেশের জনগণ ১৯৪৭ সালে সেটাকে শেষ করে দিয়েছে। সে জাতীয়তাবাদের নামে বর্তমান বাংলাদেশের মানুষকে লুট তরাজ করা হয়েছে। আমাদের দেশের সম্পদ দিয়ে দেয়া হয়েছে কলকাতা, দিল্লী, করাচি, ইসলামাবাদ ইংল্যান্ড কিন্তু আমাদের কিছুই হয় নাই।

তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাঁওতাবাজি করে সম্প্রসারণবাদ, আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ইত্যাদির মাধ্যমে ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদের মধ্য দিয়ে ছোট ছোট দেশগুলোকে বড় দেশ গুলি খেয়ে ফেলতে চেষ্টা করে। তাই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। আমরা ছোট দেশ নই কিন্তু আমাদের পাশেই রয়েছে একটি বিরাট দেশ। তাই আমাদেরকে দুর্বল থাকা চলবে না। আমাদেরকে শক্তিশালী হতে হবে। বাংলাদেশের সকল মানুষকে সেই ভাবে তৈয়ারি করে নিতে হবে। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে স্বাধীনতা হারাবার জন্যে নয়। স্বাধীনতাকে একদিকে শক্তিশালী করবার জন্য অন্যদিকে অর্থবহ করার জন্য এমন সব পরিকল্পনা গ্রহণ করে জাতীয় উন্নয়ন সাধন করতে হবে যাতে আমাদের জনগণের জীবনধারা মানের উন্নতি সাধন হয়। আমরা বিদেশীবাদের শিকার হতে চাই না’। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সে বিদেশি বাদের থেকে স্বতন্ত্র এবং জনগণভিত্তিক।

ধর্ম ‌:সেক্রেটারি জেনারেল সাহেব বলেছেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীরা ধর্মকে শিকারে পরিণত করে বাংলাদেশের মানুষকে শোষণ শাসন করেছে। সেই ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ কেবলমাত্র সেটারও অবসান ঘটেছে। ইতিহাসকে কোনদিন ফিরিয়ে আনা যায় না। আমরা ১৯৪৭ সালে গিয়ে আবার বাঙালি জাতীয়তাবাদ করতে পারি না। ১৯৭১ সালে ফিরে গিয়ে আবার পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ করতে পারিনা। আমাদের অঞ্চল ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। আমাদের অর্থনীতি ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। মনে রাখবেন এই উপমহাদেশে সর্ব অঞ্চলে কেবল বাংলাদেশই একটি দেশ যে দেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা এনেছে। কেউ আমাদেরকে নিয়ে যায় নাই। এটা মনে রাখবেন কেউ হয়তো সাহায্য করেছিল তার পরিবর্তে আমরা তাদেরকে অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছি। আমাদের গড়তে হবে। তাই স্বাধীনতার মূল্যবোধ আমাদের কাছে পাকিস্তানি ভারতীয়দের ও অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা।

সাংস্কৃতিক: আমরা আমাদের দেশীয়ভাবে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। আমরা অন্য কারো সংস্কৃতি নিতে চাইনা। এবং সর্বোপরি আমাদের জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হলো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই জাতীয়তাবাদ আজকের নয় শত শত বছর আগের। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ চরম ধারণ করেছিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধ দিয়ে আমাদের জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হলো রেস, জনগোষ্ঠী, ভাষা, ধর্ম, অঞ্চল, অর্থনীতির সাংস্কৃতিক যুদ্ধ অর্থাৎ সার্বিক জাতীয়তাবাদ হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। কোন এক ভিত্তিতে যদি দুর্বলতা থেকে থাকে অন্য শক্তিশালী করতে হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা – সার্বভৌমত্বকে যাচাই করতে হলে বাংলাদেশী ভাবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।

তথ্যসূত্র : আমার রাজনীতির রূপরেখা – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, পৃষ্ঠা ৯৬ – ৯৭ ।