শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যেগে গঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমী

0

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যেগে গঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমী

জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী  কর্তৃক সংগ্রহিত ও পরিমার্জিত

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০.৫৩% শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার উদ্যেগেই ১৯৭৬ সালে ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে বছরের ৫ই নভেম্বর সেগুন বাগিচার একটি ভাড়াটে বাড়ীতে শিশু একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হয় পরে ১৯৭৭ সালে এটি স্থানান্তরিত হয় ঢাকার পুরাতন হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থিত এর বর্তমান সদর দপ্তরে। প্রায় ৩.৬৯ একর ভূমির উপর চারটি ভবনে শিশু একাডেমীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ভবনসমূহ হচ্ছে- প্রশাসনিক ভবন, মিলনায়তন, যাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি এবং প্রকাশনা ও লেকচার থিয়েটার ভবন। বর্তমানে সারা দেশে একাডেমীর ৭০টি শাখা রয়েছে। ঢাকার পুরাতন হাইকোর্ট এলাকায় এর সদর দপ্তর অবস্থিত।

১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে শিশুদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়। এসবের মধ্যে চিত্রাংকন, সঙ্গীত, নৃত্য, নাট্যকলা, আবৃত্তি, উচ্চারণ ও সরব পাঠ, তবলা, গিটার, স্পোকেন ইংলিশ ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। দরিদ্র শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশাপাশি শাখা কার্যালয়গুলিতেও এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে। শিশু একাডেমীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ, দ্বি-বার্ষিক আন্তর্জাতিক শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, শিশু সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল বিদেশে প্রেরণ মেয়ে-শিশুদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম, শিশুদের নির্বাচিত চিত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শনী, শিক্ষা সফর ও পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি।  এছাড়াও একাডেমীর উদ্যোগে শিশু নামে একটি পত্রিকা এবং শিশুদের উপযোগী বই প্রকাশ করা হয়। একাডেমী এ পর্যন্ত  বিভিন্ন বিষয়ে ৫০১টি পুস্তক প্রকাশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু বিশ্বকোষ ও ছোটদের বিজ্ঞানকোষ নামে দুটি কোষগ্রন্থ।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমী বছরব্যাপী যে সব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা। ১৯৭৮ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার ৬২টি বিষয়ে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় এ চারটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রতিবছর সারাদেশে প্রায় ৩ লাখ শিশু অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ লাভ করে। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর বুক ইলাস্ট্রেশনসহ ৭টি বিভাগে বছরের সেরা বইয়ের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়।