শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দিক নির্দেশনা মূলক লেখা -“আমাদের পথ”

0
  • User Ratings (0 Votes) 0
    Your Rating:
Summary

“বাংলাদেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে এবং এই আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারনবাদ সমূহের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্যে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কর্মকান্ডের মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তাবাদী চেতনা। কারণ জাতীয়তাবাদী চেতনাই দেশকে ও জাতিকে বহিঃশক্তির হুমকি থেকে রক্ষা করতে পারে।” - প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

Awesome

আমাদের পথ

লেখক : প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

মানুষের কর্ম, চিন্তাভাবনা, রাজনীতি – এসব কিছুই নির্ণিত ও পরিচালিত হয় একটা বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে। ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তিতে এ জীবন দর্শনের তারতম্যও ঘটতে পারে। তাই কোন মানুষের রাজনীতি ভীতির উদ্রেক করলেও সব সময় তা বিপজ্জনক নাও হতে পারে। বস্তুত কোন কিছুকে অবলম্বন না করে কোন রাজনীতি কোন দর্শনের উন্মেষ এবং বিকাশ ঘটতে পারেনা।

উদাহরণ স্বরূপ মার্কস-ইজমের কথা বলা যেতে পারে। যদি আমরা মার্কস-ইজম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করি তাহলে দেখা যাবে এর একটা আদর্শ এবং লক্ষ্য আছে। এ আদর্শ ও লক্ষ্য ভিত্তি করেই রাশিয়ায় মার্কসইজম কায়েম হয়েছিল। এ কথা আজ বিনা দ্বিধায় বলা যেতে পারে, ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মার্কসইজমের প্রভাব না ঘটলে হয়তো রুশ জাতি এতোটা উন্নত অবস্থায় উপনীত হতে পারতো না। হয়তো বা সেখানকার সাধারণ মানুষের অবস্থার আরো অবনতি ঘটতো।

এই যে আমরা সবাই রাতের বেলায় আলো জ্বালাই এর পেছনেও যুক্তি আছে, ভিত্তি আছে। রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার পেছনেও রয়েছে একটা ভিত্তি। এ ভিত্তিটা কি? অপরাপর বিরোধী রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক দর্শনেকে যথার্থভাবে যুক্তি ও কর্মসূচীসহ মোকাবেলা করে স্বীয় জীবনবোধের আলোকে সমাজ ও জাতিকে গড়ে তোলা এবং কখনও কখনও পথভ্রষ্ট স্বেচ্ছাচারের কাছ থেকে বাঁচার তাগিদই হচ্ছে একটি রাজনৈতিক মতের পতাকাতলে সমবেত হবার মৌল কারণ। এর অর্থ এই দাঁড়াচ্ছে যে – রাজনীতি, রাজনৈতিক দর্শন ও বিশ্বাস মানুষের একটি সুষ্ঠু সুন্দর চেতনাবোধ।

“বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই। উপমহাদেশের এবং এ অঞ্চলের মানচিত্রের দিকে তাকালে এটা স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের বিশেষ একটা গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের সঙ্গে তুরষ্ক-মিশর-মরক্কো ও স্পেনের ভৌগলিক অবস্থানের সাদৃশ্য রয়েছে। বাংলাদেশ উপমহাদেশে ও এ অঞ্চলের সামরিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এর উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বত আর দক্ষিণে সুগভীর বঙ্গোপসাগর। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার যোগসূত্র স্থাপন করে রেখেছে বাংলাদেশ তার আপন ভূখন্ডের বৈচিত্র দিয়ে। তাই বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটিতে অতীতে অনেক উত্থান-পতন ঘটে গেছে। হাজার হাজার বছরের পট পরিবর্তনের ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে আছে বাংলাদেশ।

এখানে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসতে পারে যে, ইংরেজ জাতি এ অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ কায়েমের প্রাথমিক ক্ষেত্র হিসাবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছিলো কেন? উপমহাদেশের অন্য যেকোন স্থান তারা প্রথম দখল করতে চাইলে হয়তো পারতো। কিন্তু . বাংলাদেশকে. তারা এ’জন্য বেছে নিয়েছিলো যে, এখান থেকে আন্তর্জাতিক চলাচলে সুবিধা হবে। বাংলদেশের যে ভৌগলিক অবস্থান ও আকার তাতে এখান থেকে পশ্চিমে ও পূর্বদিকে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করাও সুবিধাজনক বলে ইংরেজগণ এ দেশেকে প্রথমে বেছে নিয়েছিলো। সুচতুর ইংরেজরা এ’ পরিকল্পনা এতটা নির্ভুলভাবে করেছিলো যে পর্যায়ক্রমিকভাবে তারা গোটা ভারতবর্ষ এবং ব্রহ্মদেশ দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছিলো। এ থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ ছিলো এক বিরাট স্ট্রাটেজিক অবস্থানে এবং বলা বাহুল্য যে সেই অবস্থান আজও গুরুত্বপূর্ণই রয়ে গেছে। এ কারণেও বাংলাদেশের ভূখন্ড ও বঙ্গোপসাগরের জলরাশির উপর এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং পরাশক্তিগুলোর অশুভ দৃষ্টি রয়েছে। যা আমাদের জন্যে মারাত্মক হুমকী স্বরূপ। আমাদের প্রতি হুমকী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারনবাদ। কাজেই বাংলাদেশের নয় কোটি মানুষের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে এবং এই আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারনবাদ সমূহের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্যে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গী গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কর্মকান্ডের মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তাবাদী চেতনা। কারণ জাতীয়তাবাদী চেতনাই দেশকে ও জাতিকে বহিঃশক্তির হুমকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ যখনই হুমকির সম্মুখীন হয়েছে তখনই জাতীয়তাবাদী চেতনার পথ অবলম্বন করেছে। জার্মানীর হিটলারও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু ছিলোনা। তারা ‘জার্মান’-‘এরিয়ান’ জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলো। পঞ্চাশের দশকে জাতীয়তাবাদের ছত্রচ্ছায়ায় সমগ্র আরব জাহানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টা চলছিল। মিশরের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসের এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এতে কিছুটা সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সুফলও তারা পেয়েছেন। জাতীয়তাবাদী চেতনার ঝড় আজ প্রবাহিত হয়ে চলেছে কালো আফ্রিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত। বিদেশীদের দ্বারা শোষিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত হয়ে আজ তারা আফ্রিকান জাতীয়তাবাদের আদর্শ গ্রহণ করেছে। ফলে তাদের মধ্যে একতার সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়তাবাদের আবার রকমফের আছে। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে কার্যকর হয়েছে। আরব জাতীয়তাবাদ, জার্মান জাতীয়তাবাদ, এরিয়ান জাতীয়তাবাদ হলো ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। কেউ ভাষা ভিত্তিক আবার কেউ ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদের সমর্থক।

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স আঞ্চলিক মাতবাদ গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। আসিয়ান-এর ভিত্তিতে তাদের এ আঞ্চলিক মতাদর্শ পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে রয়েছে অর্থনীতি ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হিসেবে ইইসি। এটিকে আমরা যুদ্ধভিত্তিক জাতীয়তাবাদও বলতে পারি। কিন্তু আমাদের জাতীয়তাবাদ এদের চেয়ে পৃথক। আমরা খন্ডিত চেতনায় বিশ্বাসী নই। তাই আমাদের জাতীয়তাবাদ হলো সার্বিক ভিত্তিক। এ জাতীয়তাবাদের মধ্যে রয়েছে জাতিগত চেতনা, ভাষার ঐতিহ্য, ধর্মীয় অধিকার, আঞ্চলিক বোধ, অর্থনৈতিক স্বাধিকার অর্জনের প্রচেষ্টা এবং সংগ্রামের উন্মাদনা।

অন্যদিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে। অকারণ এ দাবি নয়। বিশ্বের অপরাপর দেশের নেতৃবৃন্দ রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিদের মতে, বাংলাদেশে আগের তুলনায় অনেক পরিমাণে স্থিতিশীলতা এসেছে। এ স্থিতিশীলতা, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’-এর যে পন্থায় আমরা গড়ে তুলতে চাচ্ছি তারই ফলশ্রুতি।

বিশ্বে আর যাই থাকুক মতাদর্শের অভাব অন্ততঃ নেই। মার্কসইজম, লেনিনইজম, মাওইজম, ক্যাপিটালইজম ইত্যাদি বহু ধরনের ইজমের অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞানের উৎকর্ষ এত দ্রুততার সঙ্গে ঘটে চলেছে যার ফলে এসব ইজম তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। এসব মতাদর্শের স্রষ্টাদের মানসিক এলাকা থেকে বিজ্ঞান বর্তমান পরিবেশকে বহু দূরে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কাজেই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে এসব মতাদর্শের প্রয়োজীয় সংশোধন এবং সংযোজন। কিন্তু একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া এক্ষেত্রে আছে। কেন আমরা এসব মতাদর্শের রদবদল ঘটাবো? সমাজতান্ত্রিক দেশে মার্কসীয় দর্শন পুরোপুরিভাবে রূপ পরিগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে না। রেজিমেন্টেশনের জাতাকলে পড়ে হিউম্যান এনার্জি স্থবির হয়ে রয়েছে। এদের কাছে বিজ্ঞান ও কারিগরি সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। একটা মানুষকে তার ইচ্ছা ও পছন্দ মতো বিষয়ে গড়ার অধিকার দিতে হবে। তবেই না তার প্রতিভার বিকাশ পরিপূর্ণভাবে ঘটতে পারে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের যেসব দেশে রেজিমেন্টেশন চরমভাবে বিদ্যমান সেখানে প্রতিভার বিকাশ স্বাভাবিকভাবে ঘটতে পারছে না।

এ সত্য উপলদ্ধি করে গণচীন আজ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্ব দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে চীনে সংঘটিত ব্যাপক ধরনের এ রদবদলকে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখার করার সুযোগ আমার হয়েছিল। ১৯৭৭ সালের প্রথম দিকে চীনদেশে যে অবস্থা দেখেছিলাম তার থেকে আজকের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্নতর। কিন্তু সব সমাজতান্ত্রিক দেশ এখন মারাত্মক স্ববিরোধিতায় ভুগছে। আমাদের সামনে সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের স্ববিরোধিতামূলক তিক্ত পরিবেশের চিত্র রয়েছে। কাজেই যে মতাদর্শে গলদ রয়েছে তা আমরা গ্রহণ করবো কেন? যে জিনিস আমাদের পুরোপুরি কাজে লাগে না তা গ্রহণ করে কি লাভ?

আমাদের সামনে বর্তমানে লক্ষ্য একটাই, আর তা হলো দেশ ও জাতি গঠন। দু’শত বছর পরধীন থাকার ফলে দেশ ও জাতির অনেক ক্ষতি হয়েছে, সময়ও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমাদের প্রয়োজন অবিলম্বে জনশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তবে কথা থেকে যায়, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে কিভাবে? একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়। ‘ওয়ান পর্টি সিস্টেম’ এবং ‘রেজিমেন্টেশন এনফোর্স’ করে যে সাফল্য অর্জন করা যায় না, নিকট অতীত তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। তাই জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে দেশের জনগোষ্ঠিকে একটা পথে পরিচালিত করাই সর্বোত্তম পথ বলে আমি মনে করি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাল খনন-এর কর্মসূচিতে সাড়া দিয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে রেজিমেন্টেশনের মাধ্যমে যে কাজ হতো সে কাজ আমরা জনগণের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণের ভিত্তিতে করিয়ে নিচ্ছি। এখানেই আমাদের দর্শনের সাফল্য।

অপ্রিয় হলেও একটা সত্য কথা বলতে চাই। তা হলো, চারিত্রিক বলিষ্ঠতা অর্জনের প্রসঙ্গটি। আমাদের যে চরিত্রগত দিক রয়েছে তা ভালো নয়। আমাদের গলদ, আমরা নিজেরা যা পছন্দ করি না তা অপরকে করতে বলি। “আতা মারুনা আননাশা বিল বারবে ওয়া কনমুনা আন ফুসাকুম” – অর্থাৎ তুমি নিজে যেটা করো না তা অন্যকে করতে বলো কেন? এ ব্যাপারে সবাই সংযত বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে আমরা আরো দ্রুতগতিতে অগ্রগতির পথে চলতে পারবো।

এ দেশের মানুষ কোনোদিন ভালো কিছু পায়নি। সব সময় পেয়েছে দুঃখ, নির্যাতন, অন্যায়-অত্যাচার আর এক্সপ্লয়েটেশন। একই সঙ্গে দেশের সর্বত্র বিরাজ করছে পাহাড়-পর্বতের মতো সমস্যা। সবচেয়ে বড় সমস্যা জনসংখ্যা বিস্ফোরণ। গত বছরের আগের বছর হাভানায় গিয়েছিলাম। ফিডেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কতো, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাড়ে আট কোটি জানালে তিনি মাথায় হাত দিয়ে জিভ কেটে বললেন – “এটা চালাও কিভাবে?”

 

আদর্শ ভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে না উঠলে জগদ্দল পাথরের মতো সমস্যাবলির সমাধান করা সম্ভব নয়। সেই দুরূহ কাজে আট কোটি মানুষের হাতকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে।

তথ্যসূত্র: একজন জিয়া – হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ

Published By : Zubair Tanvir Siddique